Sunday, September 25, 2022
Home Bangladesh করোনার চতুর্থ ঢেউ নিশ্চিত

করোনার চতুর্থ ঢেউ নিশ্চিত

করোনা মহামারির চতুর্থ ঢেউয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। শনাক্ত পরীক্ষার বিপরীতে করোনা শনাক্তের হার যদি ৫ শতাংশের বেশি হয়, তাহলে চতুর্থ ঢেউ নিশ্চিত হয়ে যাবে। বুধবার (২৯ জুন)দেশে করোনা শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ২৩ শতাংশ হয়েছে। 
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় শনাক্তের হার পরপর দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের বেশি হলে পরবর্তী ঢেউ ছড়িয়েছে বলে ধরা হবে। তারপরও সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো স্বাস্থ্য সচেতনতা দেখা যাচ্ছে না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবারের (২৮ জুন) আগের গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ৪৮৯টি নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে আরো ২ হাজার ৮৬ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় রোগী শনাক্তের ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। করোনার তৃতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসার পর গত ১৬ জুন প্রথমবারের মতো পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৫ শতাংশ ছাড়ায়। এ নিয়ে টানা ১৩ দিন শনাক্তের হার ৫ শতাংশের ওপরে থাকল। আগের দিনও শনাক্ত ছিল ২ হাজার ৬৮০ জন। সেদিন শনাক্তের হার ছিল ১৫.২০ শতাংশ।
নতুন শনাক্তের মধ্যে ১ হাজার ৭৯৫ জন ঢাকা জেলার। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬১ জন। তবে করোনার রোগী ক্রমেই বাড়তে থাকলেও মৃত্যুর হার এখন পর্যন্ত অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। গতকাল করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ৩ মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সরকারি হিসাবে ভাইরাসটিতে মোট মৃত্যু দাঁড়াল ২৯ হাজার ১৪৫ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরো ২০০ জন রোগী। আক্রান্ত হয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৭ জন।
এদিকে প্রতিদিনই সংক্রমণের হার বাড়লেও করোনা প্রতিরোধে মাস্ক পরা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নেই আগ্রহ। অনেকের ধারণা, করোনার টিকা নেওয়ার ফলে মাস্ক পরার দরকার নেই। বেশিরভাগ মানুষের এ নিয়ে রয়েছে উদাসীনতাও। একই সঙ্গে মাস্ক পরা নিয়ে মানুষের আগ্রহ কম থাকায় কমেছে মাস্কের বিক্রি।
মঙ্গলবার (২৮ জুন) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, মগবাজার ঘুরে মানুষের মাস্ক না পরার এমন প্রবণতার চিত্র দেখা গেছে। কারওয়ান বাজারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জলিল আক্তার বলেন, মাস্ক পরতে ভুলে গেছি। আর অনেক দিনের অভ্যাস তো, তাই মাঝে মাঝে ভুলে যাই। তিনি আরো বলেন, টিকা তো নিয়েছি, তাই মাস্ক পরা নিয়ে আমার তেমন মাথাব্যথা নেই।
অন্যদিকে মাস্ক নিয়ে মানুষের উদাসীনতার বিষয়টির প্রভাব পড়েছে মাস্ক বিক্রির দোকানগুলোতেও। সেখানে আগের মতো মাস্ক বিক্রি হচ্ছে না। মোহাম্মদপুরের মাস্ক বিক্রেতা রফিক বলেন, যখন করোনা খুব বেড়েছিল তখন দিনে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মাস্ক বিক্রি করতাম, আর এখন তা ৩-৪ হাজারে নেমে এসেছে।
রোগতত্ত্ব, রোগ নির্ণয় ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর বলেন, করোনা বাড়ছে মানুষের মধ্যে উদাসীনতা চলে আসার জন্য। সারা দেশেই মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। এ ছাড়া জনসমাবেশ ও বিয়ের অনুষ্ঠান বেড়েছে। সেখানে তারা ফেস মাস্ক পরছে না, মানা হচ্ছে না সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব। ড. আলমগীর বলেন, আগের মতো সবাই মিলে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আশা যায় খুব শিগগিরই সংক্রমণ কমে আসবে।
করোনা নিয়ন্ত্রণে জাতীয় কমিটির সদস্য ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, করোনা প্রতিরোধে অবশ্যই আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এর জন্য সরকার থেকে জোরালো নির্দেশনা থাকতে হবে। একইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির সংশ্লিষ্টতাও নিশ্চিত করতে হবে। যাতে জনগণ স্বাস্থ্যবিধি মানতে আগ্রহী হয়।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালগুলোতে সবধরনের প্রস্তুতি থাকতে হবে, পর্যাপ্ত অক্সিজেন মজুত রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোভিডের পাশাপাশি রোগীর অন্যান্য ক্লিনিক্যাল অবস্থা মোকাবিলার সক্ষমতা থাকতে হবে। আইসিইউয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে। আমরা গত বছরেও দেখেছি, এক হাসপাতালে আইসিইউ না পেয়ে রোগীকে অন্য হাসপাতালে যেতে হয়েছে। এবার যেন সে পরিস্থিতিতে না পড়তে হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, দীর্ঘদিন করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকায় মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে উদাসীনতা দেখা দিয়েছে। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যা করণীয় সেটি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চিঠি দিয়ে হাসপাতালগুলো প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে সারা দেশের সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
করোনা সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে বাইরে যায়নি জানিয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, সংক্রমণের হার এখনো ১৫ শতাংশ পেরিয়েছে। এটি ২০ শতাংশের বেশি হলে অবশ্যই বিধিনিষেধ দেওয়া হবে। পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর ধীরে ধীরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে। প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। একই বছরের মার্চে ডেল্টা ধরনের করোনায় আসে দ্বিতীয় ঢেউ। এ পর্যায়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় গত জুলাইয়ে। এক পর্যায়ে শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। তবে ইতোমধ্যে করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে সব সরকারি চাকরিজীবীর মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করে নির্দেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
RELATED ARTICLES

করোনায় আরও ৫ জনের মৃত্যু

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৯ হাজার ১৫৪ জন। অন্যদিকে, ২৪...

গ্রামীণফোনের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা

ব্যবহারকারিদের ভয়েস কল-ইন্টারনেট ব্যবহারে মানসম্মত সেবা (কোয়ালিটি অব সার্ভিস) প্রদান করতে না পারায় দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের সিম বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বাংলাদেশ...

তিন প্রকল্পে ১১ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে জাপান

বাংলাদেশের তিনটি প্রকল্পে প্রায় ১১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা দিচ্ছে জাপান। মোট এই অর্থের মধ্যে জাপান দুটি প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য আনুমানিক ১১ হাজার ৪০০...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

ফাউন্ডেশন নির্বাচন করা: কিভাবে সঠিক মেকআপ খুঁজে বের করতে হয়

ত্বকের টোনের সাথে মানানসই ফাউন্ডেশনের সঠিক শেড খুঁজে পাওয়া অন্তত বলতে অপ্রতিরোধ্য হতে পারে। আপনি যখন একটি সৌন্দর্যের দোকানে প্রবেশ করেন, তখন বেছে নেওয়ার...

২০২২ সৌন্দর্য ধরে রাখার উপায়: পণ্য, পদ্ধতি এবং চিকিত্সা চেষ্টা করতে হবে!

২০২২ এখনও শেষ হয়নি, (যদি আপনি এটি বিশ্বাস করতে পারেন)! ২০২৩-এর লেটেস্ট বিউটি ট্রেন্ডে যোগ দেওয়ার জন্য এখনও প্রচুর সময় আছে কারণ তারা এখানে...

ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য রক্ষার কৌশল

বিস্তৃত বর্ণালী রয়েছে — ঘনিষ্ঠ অংশীদার এবং ভাইবোন থেকে কেরানি এবং সহকর্মী পর্যন্ত। প্রতিটি আপনার জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ আমরা ইতিবাচক এবং...

আপনার সৌন্দর্য নষ্ট করতে পারে 7 ক্ষতিকারক উপাদান

যখন মেকআপ এবং ত্বকের যত্নের কথা আসে, তখন অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলিই গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণেই আমরা আপনাকে মেকআপ এবং স্কিনকেয়ার থেকে শুরু করে ডিটারজেন্টের মতো গৃহস্থালী...

Recent Comments