এবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঠিক আগেই মসজিদে বিস্ফোরণ! ঘটনাস্থল ভারতের মহারাষ্ট্রের বীড জেলা। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্যানুসারে, রোববার (৩০ মার্চ) রাত আড়াইটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্য়েই দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ‘জিলেটিন স্টিক’ ব্যবহার করে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকেই এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে এই হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশের তদন্তে মনে করা হচ্ছে, রীতিমতো ছক কষেই এই হামলা করা হয়েছে। জানা গেছে, এক যুবক প্রথমে মসজিদের ভেতরে ঢোকে। এবং খুব সম্ভবত সেই যুবকই মসজিদের ভেতর জিলেটিন স্টিক রেখে যায়। পরে সেই জিলেটিন স্টিকে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
বিষয়টি স্থানীয় গ্রাম প্রধানের নজরে আসতেই সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নেন তিনি। ভোর ৪টা নাগাদ তিনিই স্থানীয় তালাওয়াড়া থানায় এই ঘটনার খবর পাঠান ও অভিযোগ জানান। পুলিশও এরপর ব্যবস্থা নিতে দেরি করেনি। বীডের পুলিশ সুপার নভনীত কানওয়াত নিজে ঘটনাস্থলে যান। তার সঙ্গে পুলিশের অন্য কর্মকর্তারাও সেখানে পৌঁছান।
এদিকে, এই ঘটনা ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কঠোর করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, এই বিস্ফোরণের ফলে ওই মসজিদের ভেতরের মেঝের বেশ কিছুটা অংশ ফেটে গেছে। ফাটল ধরেছে মসজিদের মূলে কাঠামোতেও।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদেরই একজন নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও আপলোড করে। সেই ভিডিও-তে হামলার ঘটনার দৃশ্য়াবলী ছিল। সামাজিক মাধ্যমে সেই ভিডিও আপলোড হওয়ার বিষয়টি পুলিশের নজরে আসতেই দুই অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘গ্রামের প্রধান আমাদের ফোন করেছিলেন। তিনিই জানান যে মসজিদের ভেতর বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই, অভিযোগকারীর বয়ান রেকর্ড করি। পরে সেই অনুসারে মামলা রুজু করা হয়। দুই অভিযুক্তে পরে গ্রেফতার করা হয়।’ সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
