আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে শোকজ নোটিশ জারি করেছে। শেখ হাসিনাকে দেওয়া রায় নিয়ে টকশোতে ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করার অভিযোগে আগামী ৮ ডিসেম্বর তাকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তার ওকালতি সনদ ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতার কাগজপত্র আনতে বলা হয়েছে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় আদালত ফজলুর রহমানের আইনজীবী পরিচয়, ওকালতি সনদ এবং প্র্যাকটিস–সংক্রান্ত তথ্য জানতে চান। এ সময় ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করে—
“উনি কি অ্যাডভোকেট নাকি? ওকালতির সার্টিফিকেট আছে? কোর্ট-কাচারিতে এলে এমন কথা কোনোদিনও বলতেন না।”
প্রসিকিউটররা জানান, ফজলুর রহমান নিজেকে ৪৪ বছরের আইনজীবী দাবি করলেও রেকর্ড অনুযায়ী তিনি ১৯৯২ সাল থেকে প্র্যাকটিস করছেন, অর্থাৎ ৩৩ বছর। ট্রাইব্যুনাল প্রশ্ন তোলে—“উনি কি সত্যিই প্র্যাকটিস করেন? করলে এমন কথা বলতে পারেন না।”
২৩ নভেম্বর টোয়েন্টিফোর টিভির ‘মুক্তবাক’ টকশোতে ফজলুর রহমানকে বলতে শোনা যায়—
“আমি এই কোর্ট মানি না। এই কোর্টের বিচার মানি না। এই ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচার হতে পারে না।”
এ ছাড়া তিনি দাবি করেন প্রসিকিউশন পক্ষ “শিবির–সমর্থিত” এবং ট্রাইব্যুনালের গঠনপ্রক্রিয়া বৈধ নয়।
ভিডিওর এই অংশ আদালতে বাজিয়ে শোনানো হলে ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করে—
আইন, রায় কিংবা বিচারকের সমালোচনা করা গেলেও ‘রায় মানি না’ বলা আদালত অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতারও শামিল।
প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্বে “জুলাই বিপ্লব” নিয়ে মন্তব্য করায় ফজলুর রহমানকে বিএনপি সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছিল। তিনি বর্তমানে দলের উপদেষ্টা এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী।










