ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, দেশের ভেতরে নানাভাবে ভারতের আধিপত্য বিস্তার ও দালালচক্রের প্রভাব দেশকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছিল। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী সবসময়ই দিল্লির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন। দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে এক টাকার দুর্নীতির প্রমাণও কেউ দেখাতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে পাবনার সাঁথিয়া ফুটবল মাঠে আয়োজিত বিশাল ছাত্র ও যুব সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা এবং কাঁটাতারের বেড়ায় লাশ ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। জন্ম থেকে ভারতীয় আধিপত্য ও আগ্রাসনের চিত্র তিনি দেখে আসছেন দাবি করে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে আধিপত্যবাদী রাজনীতি ও ‘শাহবাগী দালালদের’ প্রভাব চলবে না।
তরুণদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও অখণ্ডতার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকতে হবে। শহীদদের আত্মত্যাগ তরুণদের প্রেরণা জোগায় এবং ন্যায়ের সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।
ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনসাফপন্থী প্রতিনিধিরা বিজয়ী হয়েছেন। আগামীর বাংলাদেশ হবে শহীদ তিতুমীর, শাহ জালাল ও জুলাইয়ের শহীদদের আদর্শে নির্মিত রাষ্ট্র। তরুণরা যেভাবে রাজনীতি চায়, সেভাবেই রাজনীতি করতে হবে। ‘কেন্দ্র দখল’ বা ‘পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসা’ ঠেকাতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্র সুরক্ষা ও নজরদারির দায়িত্বও তরুণদেরই নিতে হবে। নাজিব মোমেন শহীদ নিজামীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসছেন দাবি করে তিনি বলেন, সাঁথিয়াকে একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁকে ভূমিধস বিজয়ী করতে হবে। নতুন বাংলাদেশে বিভাজনের রাজনীতি নয়; বরং সব সম্প্রদায়ের ন্যায্যতা ও নৈতিকতাভিত্তিক শিক্ষা, কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা এবং তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল, পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, জেলা নায়েবে আমির প্রিন্সিপাল মাওলানা ইকবাল হোসাইন, জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান, পাবনা-২ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক হেসাব উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি আবু সালেহ আব্দুল্লাহ প্রমুখ।























