ঢাকা ০২:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকার পতনের আন্দোলনে উত্তাল ইরান, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনে আগুন

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৭:৪৩:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫২৮ বার পড়া হয়েছে

তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ইরানে এবার তীব্র আকার ধারণ করেছে সরকারবিরোধী আন্দোলন। রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি কোম, ইসফাহান, বান্দার আব্বাস, মাশহাদ, ফারদিস ও বোজনুর্দসহ দেশের বিভিন্ন শহরে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

এবার বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে স্পষ্টভাবে সরকার পতনের ডাক। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগের দাবি তুলে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছে, ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’। খবর আল জাজিরার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ইসফাহানে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি-এর একটি ভবনে আগুন দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে, দেশজুড়ে সংবাদ ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা এইচআরএএনএ (এইচআরএএনএ) প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের কুহচেনার শহরে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির একটি ভাস্কর্য ভেঙে ফেলে উল্লাস করছেন বিক্ষোভকারীরা।

 

এইচআরএএনএ বলছে, তাদের হিসাব অনুযায়ী ইরানের ৩১টি প্রদেশের সবগুলোতেই মোট ৩৪৮টি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র খুব কঠোরভাবে জবাব দিতে প্রস্তুত। এতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

অস্থিরতা মোকাবিলায় চরম সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, আন্দোলন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে জানায়, ‘১০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ দমন করতে অবৈধ বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বিক্ষোভকারী ও সাধারণ পথচারী নিহত ও আহত হয়েছেন।’

 

টানা এই বিক্ষোভে গভীর চাপে পড়েছে ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব। বহু বছর ধরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি গত জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের ধকল সামলাতে হচ্ছে সরকারকে।

 

কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতার জন্য ‘দাঙ্গাবাজদের’ দায়ী করেছে। বিক্ষোভকারীদের বিচারের ক্ষেত্রে ‘কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অর্থনৈতিক দুর্ভোগের কথা স্বীকার করলেও সহিংসতার জন্য বহিরাগত শক্তিকে দায়ী করেছেন।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের টার্গেট করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র লকড অ্যান্ড লোডেড—অর্থাৎ যে কোনো সময় হস্তক্ষেপে প্রস্তুত।

 

এদিকে, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র ও প্রভাবশালী নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি। গেল বুধবারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকে এই আন্দোলনের জন্য ‘অভূতপূর্ব’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বড় পরিসরে নতুন বিক্ষোভ আয়োজনেরও আহ্বান জানান রেজা পাহলভি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-চীনের ওপর নজর রাখতে পশ্চিমবঙ্গে ভারতের নৌঘাঁটি

সরকার পতনের আন্দোলনে উত্তাল ইরান, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনে আগুন

আপডেট সময় ০৭:৪৩:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ইরানে এবার তীব্র আকার ধারণ করেছে সরকারবিরোধী আন্দোলন। রাজধানী তেহরানের পাশাপাশি কোম, ইসফাহান, বান্দার আব্বাস, মাশহাদ, ফারদিস ও বোজনুর্দসহ দেশের বিভিন্ন শহরে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

এবার বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে স্পষ্টভাবে সরকার পতনের ডাক। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগের দাবি তুলে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছে, ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’। খবর আল জাজিরার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ইসফাহানে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি-এর একটি ভবনে আগুন দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে, দেশজুড়ে সংবাদ ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা এইচআরএএনএ (এইচআরএএনএ) প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের কুহচেনার শহরে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানির একটি ভাস্কর্য ভেঙে ফেলে উল্লাস করছেন বিক্ষোভকারীরা।

 

এইচআরএএনএ বলছে, তাদের হিসাব অনুযায়ী ইরানের ৩১টি প্রদেশের সবগুলোতেই মোট ৩৪৮টি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র খুব কঠোরভাবে জবাব দিতে প্রস্তুত। এতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

অস্থিরতা মোকাবিলায় চরম সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, আন্দোলন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে জানায়, ‘১০ দিনের বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভ দমন করতে অবৈধ বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বিক্ষোভকারী ও সাধারণ পথচারী নিহত ও আহত হয়েছেন।’

 

টানা এই বিক্ষোভে গভীর চাপে পড়েছে ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব। বহু বছর ধরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি গত জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের ধকল সামলাতে হচ্ছে সরকারকে।

 

কর্তৃপক্ষ এই অস্থিরতার জন্য ‘দাঙ্গাবাজদের’ দায়ী করেছে। বিক্ষোভকারীদের বিচারের ক্ষেত্রে ‘কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অর্থনৈতিক দুর্ভোগের কথা স্বীকার করলেও সহিংসতার জন্য বহিরাগত শক্তিকে দায়ী করেছেন।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের টার্গেট করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র লকড অ্যান্ড লোডেড—অর্থাৎ যে কোনো সময় হস্তক্ষেপে প্রস্তুত।

 

এদিকে, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র ও প্রভাবশালী নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি। গেল বুধবারের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকে এই আন্দোলনের জন্য ‘অভূতপূর্ব’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বড় পরিসরে নতুন বিক্ষোভ আয়োজনেরও আহ্বান জানান রেজা পাহলভি।