ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল, যেখানে আলেম-ওলামারা নিরাপদ: শামা ওবায়েদ

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১১:৪৯:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫০৮ বার পড়া হয়েছে

এবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফরিদপুর-২ আসনের প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল, যেখানে আলেম-ওলামারা নিরাপদ। বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি বিশ্বাস করে না; মানুষের মন জয় করতে হয় ভালোবাসা ও সম্মানের মাধ্যমে। রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভার উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে সালথার বহু আলেম-ওলামা আহত হন, কেউ কেউ নিহত হন। অনেকের পা ভেঙে যায়, কেউ গুলিবিদ্ধ হন। আজও অনেকে সেই ক্ষত নিয়ে ঘরে বসবাস করছেন। সে সময় অনেক আলেম-ওলামাকে মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করতে হয়েছে। শামা ওবায়েদ বলেন, তার বাবা যতদিন এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন, এ এলাকার কোনো মানুষকে অবমূল্যায়ন করা হয়নি, কারও ওপর নির্যাতন চালানো হয়নি কিংবা কাউকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়নি। তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শ, তারেক রহমানের আদর্শ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ হলো জনগণের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের সেবা করা।

তিনি আরও বলেন, ১২ তারিখে নির্বাচন আসবে যাবে, কিন্তু আপনাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক থাকবে অম্লান। এ সম্পর্ক আত্মার সম্পর্ক। গত ১৭ বছরে আমাকে আপনাদের থেকে দূরে রাখার অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, তিনি আমাকে আপনাদের সঙ্গেই রেখেছেন। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে রামকান্তপুর ইউনিয়নকে আন্তর্জাতিক মানের একটি মডেল ইউনিয়নে পরিণত করার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিএনপির কারণেই সালথা উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০০১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সালথার মাঠে বিশাল জনসভায় এসে সালথাকে উপজেলা ঘোষণা করেন। কেএম ওবায়দুর রহমানের নেতৃত্বে তখন সালথা উপজেলা প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ উপজেলায় মানসম্মত কোনো হাসপাতাল নেই। অসুস্থ হলে মানুষকে ফরিদপুর কিংবা ঢাকায় যেতে হয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে সালথায় একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে স্বল্পমূল্যে দরিদ্র মানুষ চিকিৎসাসেবা পাবে। আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন তার বাবা মাদ্রাসাগুলোকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতেন। মাদ্রাসা ও মসজিদ সংস্কার করে উন্নত মানে উন্নীত করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। ভোট প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, মানুষ জানে কাকে ভোট দিলে উন্নয়ন হবে, কারা রাস্তাঘাট, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করবে। আমাদের রক্তে নেওয়া নেই, আমরা দিতে শিখেছি। আমার ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই।

এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি বা দখলবাজির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাকে তার চরম মূল্য দিতে হবে। সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশার আযাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মনির মোল্যা, নগরকান্দা যুবদল নেতা তৈয়াবুর রহমান মাসুদ, বিএনপি নেতা হাসান মাতুব্বরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মীরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে, সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত খুঁজছেন ট্রাম্প: ইরান

বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল, যেখানে আলেম-ওলামারা নিরাপদ: শামা ওবায়েদ

আপডেট সময় ১১:৪৯:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

এবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফরিদপুর-২ আসনের প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, বিএনপি এমন একটি রাজনৈতিক দল, যেখানে আলেম-ওলামারা নিরাপদ। বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতি বিশ্বাস করে না; মানুষের মন জয় করতে হয় ভালোবাসা ও সম্মানের মাধ্যমে। রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভার উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে সালথার বহু আলেম-ওলামা আহত হন, কেউ কেউ নিহত হন। অনেকের পা ভেঙে যায়, কেউ গুলিবিদ্ধ হন। আজও অনেকে সেই ক্ষত নিয়ে ঘরে বসবাস করছেন। সে সময় অনেক আলেম-ওলামাকে মিথ্যা মামলায় কারাবরণ করতে হয়েছে। শামা ওবায়েদ বলেন, তার বাবা যতদিন এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন, এ এলাকার কোনো মানুষকে অবমূল্যায়ন করা হয়নি, কারও ওপর নির্যাতন চালানো হয়নি কিংবা কাউকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়নি। তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শ, তারেক রহমানের আদর্শ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ হলো জনগণের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের সেবা করা।

তিনি আরও বলেন, ১২ তারিখে নির্বাচন আসবে যাবে, কিন্তু আপনাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক থাকবে অম্লান। এ সম্পর্ক আত্মার সম্পর্ক। গত ১৭ বছরে আমাকে আপনাদের থেকে দূরে রাখার অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, তিনি আমাকে আপনাদের সঙ্গেই রেখেছেন। আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে রামকান্তপুর ইউনিয়নকে আন্তর্জাতিক মানের একটি মডেল ইউনিয়নে পরিণত করার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিএনপির কারণেই সালথা উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০০১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সালথার মাঠে বিশাল জনসভায় এসে সালথাকে উপজেলা ঘোষণা করেন। কেএম ওবায়দুর রহমানের নেতৃত্বে তখন সালথা উপজেলা প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ উপজেলায় মানসম্মত কোনো হাসপাতাল নেই। অসুস্থ হলে মানুষকে ফরিদপুর কিংবা ঢাকায় যেতে হয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে সালথায় একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে স্বল্পমূল্যে দরিদ্র মানুষ চিকিৎসাসেবা পাবে। আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন তার বাবা মাদ্রাসাগুলোকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতেন। মাদ্রাসা ও মসজিদ সংস্কার করে উন্নত মানে উন্নীত করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। ভোট প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, মানুষ জানে কাকে ভোট দিলে উন্নয়ন হবে, কারা রাস্তাঘাট, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করবে। আমাদের রক্তে নেওয়া নেই, আমরা দিতে শিখেছি। আমার ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই।

এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, কেউ যদি টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি বা দখলবাজির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাকে তার চরম মূল্য দিতে হবে। সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাশার আযাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মনির মোল্যা, নগরকান্দা যুবদল নেতা তৈয়াবুর রহমান মাসুদ, বিএনপি নেতা হাসান মাতুব্বরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মীরা।