ঢাকা ০৭:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অধিকাংশ মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় কলেজ বন্ধ করলো ভারত

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৪:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫০৮ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারত শাসিত কাশ্মীরে একটি প্রতিষ্ঠিত মেডিকেল কলেজে সিংহভাগ মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার জেরে কট্টরপন্থী হিন্দু গোষ্ঠীগুলোর তীব্র আন্দোলনের মুখে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ৬ জানুয়ারি ভারতের চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (এনএমসি) রিয়াসি জেলায় অবস্থিত শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী মেডিকেল ইনস্টিটিউটের (এসএমভিডিএমআই) স্বীকৃতি বাতিল করে।

নভেম্বর মাসে শুরু হওয়া এই কলেজের প্রথম ব্যাচের ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪২ জনই ছিলেন মুসলিম, সাতজন হিন্দু এবং একজন শিখ। একটি হিন্দু ধর্মীয় ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত এই কলেজে মুসলিমদের আধিক্য মেনে নিতে না পেরে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো আন্দোলনে নামলে সরকার এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেয় বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কট্টরপন্থী হিন্দু গোষ্ঠীগুলোর দাবি ছিল, যেহেতু কলেজটি বৈষ্ণো দেবী মন্দিরের ভক্তদের দানে প্রাপ্ত অর্থে পরিচালিত হয়, তাই এখানে মুসলিম শিক্ষার্থীদের পড়ার কোনো অধিকার নেই। নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মুখে স্থানীয় বিজেপি নেতারাও উপরাজ্যপালের কাছে আবেদন জানান যাতে এই কলেজে কেবল হিন্দু শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ রাখা হয়। আন্দোলনের তীব্রতা বাড়লে এনএমসি হঠাৎ করেই ঘোষণা করে, কলেজটিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক, শয্যা সংখ্যা এবং ল্যাবরেটরি সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের মতে, অনেক নামী সরকারি কলেজের তুলনায় এখানে অনেক উন্নত মানের গবেষণাগার এবং শিক্ষার পরিবেশ ছিল।

ভারতের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে হলে সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয় এবং কেন্দ্রীয় মেধা তালিকার ভিত্তিতেই কলেজ বরাদ্দ করা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা মেধার ভিত্তিতেই এই কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন এবং এখানে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে মেধাই ছিল প্রধান মাপকাঠি। কিন্তু হিন্দু গোষ্ঠীগুলো মেধাকে ধর্মের নিক্তিতে বিচার করে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের দাবি তোলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর এনএমসি যখন অনুমোদন দিয়েছিল, তখন সব অবকাঠামো ঠিক থাকলেও শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর হঠাৎ অবকাঠামোগত ঘাটতির অজুহাত তোলা অত্যন্ত রহস্যজনক।

এদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এনএমসির সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেওয়া হবে না এবং এই ৫০ জন শিক্ষার্থীকে অঞ্চলের অন্য মেডিকেল কলেজগুলোতে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাধারণত মানুষ যেখানে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য লড়াই করে, সেখানে একদল মানুষ কেবল ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে একটি কলেজ বন্ধ করার জন্য আন্দোলন করছে। মানবাধিকার কর্মী এবং ছাত্র সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি মেধাবী শিক্ষার্থীদের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করবে। সূত্র: আল জাজিরা

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝিনাইদহে জামায়াত প্রার্থী আমির হামজাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করল বিএনপি

অধিকাংশ মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় কলেজ বন্ধ করলো ভারত

আপডেট সময় ০৪:৪৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

এবার ভারত শাসিত কাশ্মীরে একটি প্রতিষ্ঠিত মেডিকেল কলেজে সিংহভাগ মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার জেরে কট্টরপন্থী হিন্দু গোষ্ঠীগুলোর তীব্র আন্দোলনের মুখে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ৬ জানুয়ারি ভারতের চিকিৎসাবিদ্যা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন (এনএমসি) রিয়াসি জেলায় অবস্থিত শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবী মেডিকেল ইনস্টিটিউটের (এসএমভিডিএমআই) স্বীকৃতি বাতিল করে।

নভেম্বর মাসে শুরু হওয়া এই কলেজের প্রথম ব্যাচের ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪২ জনই ছিলেন মুসলিম, সাতজন হিন্দু এবং একজন শিখ। একটি হিন্দু ধর্মীয় ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত এই কলেজে মুসলিমদের আধিক্য মেনে নিতে না পেরে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো আন্দোলনে নামলে সরকার এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেয় বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কট্টরপন্থী হিন্দু গোষ্ঠীগুলোর দাবি ছিল, যেহেতু কলেজটি বৈষ্ণো দেবী মন্দিরের ভক্তদের দানে প্রাপ্ত অর্থে পরিচালিত হয়, তাই এখানে মুসলিম শিক্ষার্থীদের পড়ার কোনো অধিকার নেই। নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের মুখে স্থানীয় বিজেপি নেতারাও উপরাজ্যপালের কাছে আবেদন জানান যাতে এই কলেজে কেবল হিন্দু শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ রাখা হয়। আন্দোলনের তীব্রতা বাড়লে এনএমসি হঠাৎ করেই ঘোষণা করে, কলেজটিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক, শয্যা সংখ্যা এবং ল্যাবরেটরি সুবিধার ঘাটতি রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের মতে, অনেক নামী সরকারি কলেজের তুলনায় এখানে অনেক উন্নত মানের গবেষণাগার এবং শিক্ষার পরিবেশ ছিল।

ভারতের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে হলে সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয় এবং কেন্দ্রীয় মেধা তালিকার ভিত্তিতেই কলেজ বরাদ্দ করা হয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা মেধার ভিত্তিতেই এই কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন এবং এখানে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে মেধাই ছিল প্রধান মাপকাঠি। কিন্তু হিন্দু গোষ্ঠীগুলো মেধাকে ধর্মের নিক্তিতে বিচার করে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের দাবি তোলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর এনএমসি যখন অনুমোদন দিয়েছিল, তখন সব অবকাঠামো ঠিক থাকলেও শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর হঠাৎ অবকাঠামোগত ঘাটতির অজুহাত তোলা অত্যন্ত রহস্যজনক।

এদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এনএমসির সিদ্ধান্তের কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে দেওয়া হবে না এবং এই ৫০ জন শিক্ষার্থীকে অঞ্চলের অন্য মেডিকেল কলেজগুলোতে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাধারণত মানুষ যেখানে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য লড়াই করে, সেখানে একদল মানুষ কেবল ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে একটি কলেজ বন্ধ করার জন্য আন্দোলন করছে। মানবাধিকার কর্মী এবং ছাত্র সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এই ধরনের সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এটি মেধাবী শিক্ষার্থীদের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করবে। সূত্র: আল জাজিরা