ঢাকা ১১:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এবারও ‘মরা মানুষ দিয়ে’ ব্যালট বাক্স ভরার পাঁয়তারা চলছে: মামুনুল হক

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০২:৫৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫২৯ বার পড়া হয়েছে

এবারও জাল ভোট দেওয়ার একটা পাঁয়তারা আঁকা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। এমনকি কবর থেকে এবারও ‘মৃত মানুষকে দিয়ে’ ব্যালট বাক্স ভরার ফন্দি করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ‘আমাদের কাছে সংবাদ আছে— কিছু মানুষ বিভিন্ন এলাকায় এলাকায় ঘুরে ঘুরে কারা মারা গেছে, তালিকা করতেছে। কারা বিদেশে আছে তালিকা করছে। কারা এলাকার ভোটার অন্য জায়গায় থাকে তাদের তালিকা করছে। ভোটের সময় নাকি কবরস্থান থেকে মরা মানুষ এসে ভোট দিয়ে যায়। এবারও মরা মানুষকে দিয়ে ভোট দিয়ে নিজেদের ব্যালটের বাক্স ভরার ফন্দি করছে।’

অ্মআজ বার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরের বাইপাস সড়কে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিটি কেন্দ্রের সামনে জনপ্রাচীর গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে মামনুল হক বলেন, ‘যেন কবরস্থান থেকে মুর্দা এসে ভোট দিতে না পারে। পুলিং এজেন্টদেরকে বলবো কোন মুর্দা মানুষ যদি ভোট দেওয়ার জন্য ভোটকেন্দ্রে আসে তাহলে সেখানেই তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করবেন।’

জোট নিয়ে তিনি বলেন, ‘১১ দলীয় নির্বাচনী জোট কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং দেশের মানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং সাম্য ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় গঠিত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলার মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধের পরে আশা করেছিল জুলুম ও শাসন মুক্ত একটি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও মানুষের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তাই চব্বিশ এর বিপ্লবের পর বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদ থেকে প্রতিটি প্রান্ত থেকে বিশেষভাবে নতুন প্রজন্ম আজ তাদের চোখ খুলে দিয়েছে। তারা নতুন স্বপ্ন বুনছে হৃদয়ে হৃদয়ে। তারা বাংলার আকাশে বাতাসে জানান দিয়েছে। বাংলাদেশে আর সেই পুরনো দিনের বৈষম্যের রাজনীতি, গুণ্ডামির রাজনীতি, আধিপত্যবাদের রাজনীতি, মাস্তানি এবং সন্ত্রাসের রাজনীতির দিন শেষ।’

তাদের জোট ক্ষমতায় এলে কোনো নিরপরাধ মানুষকে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে হয়রানি বা মিথ্যা মামলার শিকার হতে হবে না জানিয়ে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ‘প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কাউকে হেনস্তা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’ নির্বাচনী প্রতীক ‘রিকশা’ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটি মেহনতি ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতীক। যখন অন্য সব যানবাহন বন্ধ থাকে, তখন রিকশাই ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলের শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রতীক জনমানুষের মুক্তি ও আস্থার স্মারক।’

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আশা করব নির্বাচনের প্লেয়িং ফিল্ড আপনারা তৈরি করবেন। ইতিমধ্যে আমরা বিভিন্ন জায়গায় দেখছি— ১১ দলীয় নির্বাচনের ঐক্যের দলের প্রার্থীদের জয়জয়কার শুরু হবার পর থেকে সন্ত্রাসের মাধ্যমে, ভয় ভিত্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে এই অগ্রযাত্রাকে রুখে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যদি নির্বাচন কমিশন এই ভয়-ভীতি এবং হুমকি প্রদান সন্ত্রাসী কার্যকলাপকে রুখে দিতে ব্যর্থ হয়, আগামীর বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই যেকোনো মূল্যে এত রক্তপাত, এত শাহাদাত, এত জীবনের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশ কোনোভাবে আমরা ব্যর্থ হতে দিতে পারি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা পেশিশক্তি প্রয়োগ করার চিন্তা করছেন, যারা সন্ত্রাসের মাধ্যমে অতীতের মতো আবার নতুন করে ক্ষমতা দখল করার স্বপ্নে আছেন সকলকে আমি সতর্ক এবং সজাগ করতে চাই— এই বিপদজনক পথে পা বাড়াইয়েন না, পরিণাম ভালো হবে না।’

প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনকে বলব কোনো কোনো প্রার্থী অতীতের আচরণ স্বভাবগত কারণে ছাড়তে প্রস্তুত হচ্ছে না। তাদেরকে আপনারা ভালো করে বুঝিয়ে দিন, সন্ত্রাসের মাধ্যমে অথবা পেশিশক্তির মাধ্যমে কেউ জনতার ব্যালটের রায়কে ছিনতাই করার চেষ্টা করলে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে কিন্তু আমরা প্রতিহত করতে বাধ্য হব। যদি কেউ ভোট চুরি করার, ভোট জালিয়াতি করার কোনো ধরনের দুরভিসন্ধি আঁটে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার তারেক রহমানের আসনে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে নারীদের বড় শোডাউন

এবারও ‘মরা মানুষ দিয়ে’ ব্যালট বাক্স ভরার পাঁয়তারা চলছে: মামুনুল হক

আপডেট সময় ০২:৫৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এবারও জাল ভোট দেওয়ার একটা পাঁয়তারা আঁকা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। এমনকি কবর থেকে এবারও ‘মৃত মানুষকে দিয়ে’ ব্যালট বাক্স ভরার ফন্দি করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ‘আমাদের কাছে সংবাদ আছে— কিছু মানুষ বিভিন্ন এলাকায় এলাকায় ঘুরে ঘুরে কারা মারা গেছে, তালিকা করতেছে। কারা বিদেশে আছে তালিকা করছে। কারা এলাকার ভোটার অন্য জায়গায় থাকে তাদের তালিকা করছে। ভোটের সময় নাকি কবরস্থান থেকে মরা মানুষ এসে ভোট দিয়ে যায়। এবারও মরা মানুষকে দিয়ে ভোট দিয়ে নিজেদের ব্যালটের বাক্স ভরার ফন্দি করছে।’

অ্মআজ বার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরের বাইপাস সড়কে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিটি কেন্দ্রের সামনে জনপ্রাচীর গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে মামনুল হক বলেন, ‘যেন কবরস্থান থেকে মুর্দা এসে ভোট দিতে না পারে। পুলিং এজেন্টদেরকে বলবো কোন মুর্দা মানুষ যদি ভোট দেওয়ার জন্য ভোটকেন্দ্রে আসে তাহলে সেখানেই তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করবেন।’

জোট নিয়ে তিনি বলেন, ‘১১ দলীয় নির্বাচনী জোট কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং দেশের মানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং সাম্য ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় গঠিত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলার মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধের পরে আশা করেছিল জুলুম ও শাসন মুক্ত একটি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও মানুষের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তাই চব্বিশ এর বিপ্লবের পর বাংলাদেশের প্রতিটি জনপদ থেকে প্রতিটি প্রান্ত থেকে বিশেষভাবে নতুন প্রজন্ম আজ তাদের চোখ খুলে দিয়েছে। তারা নতুন স্বপ্ন বুনছে হৃদয়ে হৃদয়ে। তারা বাংলার আকাশে বাতাসে জানান দিয়েছে। বাংলাদেশে আর সেই পুরনো দিনের বৈষম্যের রাজনীতি, গুণ্ডামির রাজনীতি, আধিপত্যবাদের রাজনীতি, মাস্তানি এবং সন্ত্রাসের রাজনীতির দিন শেষ।’

তাদের জোট ক্ষমতায় এলে কোনো নিরপরাধ মানুষকে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে হয়রানি বা মিথ্যা মামলার শিকার হতে হবে না জানিয়ে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ‘প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে, কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কাউকে হেনস্তা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’ নির্বাচনী প্রতীক ‘রিকশা’ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এটি মেহনতি ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতীক। যখন অন্য সব যানবাহন বন্ধ থাকে, তখন রিকশাই ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলের শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রতীক জনমানুষের মুক্তি ও আস্থার স্মারক।’

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আশা করব নির্বাচনের প্লেয়িং ফিল্ড আপনারা তৈরি করবেন। ইতিমধ্যে আমরা বিভিন্ন জায়গায় দেখছি— ১১ দলীয় নির্বাচনের ঐক্যের দলের প্রার্থীদের জয়জয়কার শুরু হবার পর থেকে সন্ত্রাসের মাধ্যমে, ভয় ভিত্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে এই অগ্রযাত্রাকে রুখে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যদি নির্বাচন কমিশন এই ভয়-ভীতি এবং হুমকি প্রদান সন্ত্রাসী কার্যকলাপকে রুখে দিতে ব্যর্থ হয়, আগামীর বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই যেকোনো মূল্যে এত রক্তপাত, এত শাহাদাত, এত জীবনের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশ কোনোভাবে আমরা ব্যর্থ হতে দিতে পারি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘যারা পেশিশক্তি প্রয়োগ করার চিন্তা করছেন, যারা সন্ত্রাসের মাধ্যমে অতীতের মতো আবার নতুন করে ক্ষমতা দখল করার স্বপ্নে আছেন সকলকে আমি সতর্ক এবং সজাগ করতে চাই— এই বিপদজনক পথে পা বাড়াইয়েন না, পরিণাম ভালো হবে না।’

প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনকে বলব কোনো কোনো প্রার্থী অতীতের আচরণ স্বভাবগত কারণে ছাড়তে প্রস্তুত হচ্ছে না। তাদেরকে আপনারা ভালো করে বুঝিয়ে দিন, সন্ত্রাসের মাধ্যমে অথবা পেশিশক্তির মাধ্যমে কেউ জনতার ব্যালটের রায়কে ছিনতাই করার চেষ্টা করলে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে কিন্তু আমরা প্রতিহত করতে বাধ্য হব। যদি কেউ ভোট চুরি করার, ভোট জালিয়াতি করার কোনো ধরনের দুরভিসন্ধি আঁটে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’