ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনী পরিবেশ কেমন হতে পারে, সেটির একটি টেস্ট ম্যাচ ঢাকায় দেখতে পেয়েছি: হাসনাত

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৫:৩০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৩৬ বার পড়া হয়েছে

এবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, নির্বাচনী পরিবেশ কেমন হতে পারে, তার একটা টেস্ট ম্যাচ গতকাল ঢাকায় দেখতে পেয়েছেন। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী কায়দায় পুলিশ তার নগ্ন রূপে ফিরে গিয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে যশোর শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিএনপির অনেক নেতাকর্মী চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চান। নেতা চাঁদাবাজি করতে অর্ডার দেন, বাস্তবায়ন করতে হয় কর্মীদের। তৃণমূলের অনেক কর্মী আছে, তারা এসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত না। গত ১৭ বছর যেসব বিএনপির নেতাকর্মী নির্যাতিত হয়েছেন, নিপীড়িত হয়েছেন, গুম হয়েছেন, তাঁরা মার্জিনাইজ। হাইব্রিড বিএনপি এসে মূল বিএনপিদের কর্নার করে দিয়েছে। আপনারা বিএনপি ভাইদের কাছে যাবেন, যাঁরা জিয়ার দর্শনকে বিশ্বাস করেন, খালেদা জিয়াকে ধারণ করেন, তাঁরা চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত না। তাঁরা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশকে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। তাঁরা ধানের শীষের বিপরীতে গিয়ে দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার অপেক্ষা করছেন। আপনারা বিশ্বাস রাখেন, তাঁরা ধানের শীষের মিছিল নিয়ে কেন্দ্রে যাবেন, কিন্তু ভোটটা দেবেন দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলিতে।

এনসিপি নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন পয়েন্টে দুটি পক্ষে বিভক্ত হয়েছে। একটি পক্ষ জুলুমের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, একটি পক্ষ মাবোনদের হিজাব, জামাকাপড় খুলে নিতে চাইছে। একটি পক্ষ আবার ভারতের দালালি ও গোলামি করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা মুক্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছি। আমাদের নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। আপনি প্রত্যেক মানুষের দ্বারে দ্বারে যান, প্রত্যেক মানুষের কাছে যান, তারা বলছে আগামী ১২ তারিখে ভোট দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলিতেই দেব। এ দেশের কৃষক, শ্রমজীবী মানুষেরা ভয়ে রয়েছে। নীরব চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, আবার যদি আসে তাহলে ব্যবসায় বিঘ্নিত হবে। চাঁদা দিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে হবে। সে জন্য তারা চাঁদার থেকে পরিত্রাণ চায়। তাই আপনাদের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে। প্রার্থীর কাছে ভোট নাই, ভোট হচ্ছে জনগণের কাছে।

এ সময় পুলিশের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনি যে পোশাক পরিধান করে আছেন, সেটি আপনার যোগ্যতা, মেধায় অর্জন করেছেন। আপনাকে অনুরোধ করব, আপনার বাসায় সন্তান রয়েছে। আপনার মাবাবা রয়েছে। আপনি যদি বিগত তিনটি নির্বাচনের মতো আবার যদি ঘুষের টাকা স্পর্শ করে দেখেন, আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠবে। আপনি সিদ্ধান্ত নেবেন, আগামীর বাংলাদেশ, সন্তানের ভবিষ্যৎ চাঁদাবাজদের হাতে তুলে দেবেন নাকি ইনসাফের বাংলাদেশে দেবেন। পুলিশ ভাইয়েরা, আপনারা বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকুন, কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে না। রাজনৈতিক দলের কাছে দায়বদ্ধ থাকলে কী পরিণতি হয়, সেটি গত জুলাইয়ে দেখেছেন। আল্লাহর কসম করে বলছি, আপনারা ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে থাকুন। আপনারা বাংলাদেশের জনগণের চাকরি করতে আসছেন। জনতার ট্যাক্সের টাকায় আপনার বেতন হয়, কোনো রাজনৈতিক দলের টাকায় আপনার বেতন হয় না। আজকে যদি আপনি কোনো রাজনৈতিক দলকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে যান, আগামীকাল আপনার সন্তানের চাকরির জন্য তাদেরকেই ঘুষ দিতে হবে। আমরা পুলিশের বন্ধু, আমাদের বাংলাদেশকে সুখী সমৃদ্ধ করে তুলতে আপনাদের অবদান রয়েছে। আমরা চাই, একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটাকে গড়ব।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-১৩ আসনে ববি হাজ্জাজ-মামুনুল হকের ভোটের ব্যবধান ৩ শতাংশ

নির্বাচনী পরিবেশ কেমন হতে পারে, সেটির একটি টেস্ট ম্যাচ ঢাকায় দেখতে পেয়েছি: হাসনাত

আপডেট সময় ০৫:৩০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এবার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, নির্বাচনী পরিবেশ কেমন হতে পারে, তার একটা টেস্ট ম্যাচ গতকাল ঢাকায় দেখতে পেয়েছেন। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী কায়দায় পুলিশ তার নগ্ন রূপে ফিরে গিয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে যশোর শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিএনপির অনেক নেতাকর্মী চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চান। নেতা চাঁদাবাজি করতে অর্ডার দেন, বাস্তবায়ন করতে হয় কর্মীদের। তৃণমূলের অনেক কর্মী আছে, তারা এসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত না। গত ১৭ বছর যেসব বিএনপির নেতাকর্মী নির্যাতিত হয়েছেন, নিপীড়িত হয়েছেন, গুম হয়েছেন, তাঁরা মার্জিনাইজ। হাইব্রিড বিএনপি এসে মূল বিএনপিদের কর্নার করে দিয়েছে। আপনারা বিএনপি ভাইদের কাছে যাবেন, যাঁরা জিয়ার দর্শনকে বিশ্বাস করেন, খালেদা জিয়াকে ধারণ করেন, তাঁরা চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত না। তাঁরা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশকে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। তাঁরা ধানের শীষের বিপরীতে গিয়ে দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার অপেক্ষা করছেন। আপনারা বিশ্বাস রাখেন, তাঁরা ধানের শীষের মিছিল নিয়ে কেন্দ্রে যাবেন, কিন্তু ভোটটা দেবেন দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলিতে।

এনসিপি নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন পয়েন্টে দুটি পক্ষে বিভক্ত হয়েছে। একটি পক্ষ জুলুমের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, একটি পক্ষ মাবোনদের হিজাব, জামাকাপড় খুলে নিতে চাইছে। একটি পক্ষ আবার ভারতের দালালি ও গোলামি করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা মুক্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছি। আমাদের নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। আপনি প্রত্যেক মানুষের দ্বারে দ্বারে যান, প্রত্যেক মানুষের কাছে যান, তারা বলছে আগামী ১২ তারিখে ভোট দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলিতেই দেব। এ দেশের কৃষক, শ্রমজীবী মানুষেরা ভয়ে রয়েছে। নীরব চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, আবার যদি আসে তাহলে ব্যবসায় বিঘ্নিত হবে। চাঁদা দিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে হবে। সে জন্য তারা চাঁদার থেকে পরিত্রাণ চায়। তাই আপনাদের ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে। প্রার্থীর কাছে ভোট নাই, ভোট হচ্ছে জনগণের কাছে।

এ সময় পুলিশের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনি যে পোশাক পরিধান করে আছেন, সেটি আপনার যোগ্যতা, মেধায় অর্জন করেছেন। আপনাকে অনুরোধ করব, আপনার বাসায় সন্তান রয়েছে। আপনার মাবাবা রয়েছে। আপনি যদি বিগত তিনটি নির্বাচনের মতো আবার যদি ঘুষের টাকা স্পর্শ করে দেখেন, আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠবে। আপনি সিদ্ধান্ত নেবেন, আগামীর বাংলাদেশ, সন্তানের ভবিষ্যৎ চাঁদাবাজদের হাতে তুলে দেবেন নাকি ইনসাফের বাংলাদেশে দেবেন। পুলিশ ভাইয়েরা, আপনারা বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকুন, কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে না। রাজনৈতিক দলের কাছে দায়বদ্ধ থাকলে কী পরিণতি হয়, সেটি গত জুলাইয়ে দেখেছেন। আল্লাহর কসম করে বলছি, আপনারা ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে থাকুন। আপনারা বাংলাদেশের জনগণের চাকরি করতে আসছেন। জনতার ট্যাক্সের টাকায় আপনার বেতন হয়, কোনো রাজনৈতিক দলের টাকায় আপনার বেতন হয় না। আজকে যদি আপনি কোনো রাজনৈতিক দলকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে ক্ষমতায় নিয়ে যান, আগামীকাল আপনার সন্তানের চাকরির জন্য তাদেরকেই ঘুষ দিতে হবে। আমরা পুলিশের বন্ধু, আমাদের বাংলাদেশকে সুখী সমৃদ্ধ করে তুলতে আপনাদের অবদান রয়েছে। আমরা চাই, একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটাকে গড়ব।