ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানের গুচ্ছ বোমা আঘাত হানছে ইসরায়েলে

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০১:৩৬:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • ৫১৯ বার পড়া হয়েছে

এবার ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে নতুন উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছেক্লাস্টার মিউনিশনবাক্লাস্টার বোমা এক ধরনের বিধ্বংসী অস্ত্র। ১০ দিন ধরে চলা এই যুদ্ধে ইরান নিয়মিতভাবে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)ক্লাস্টার বা গুচ্ছ বোমা আকাশ থেকে বা ভূমি থেকে নিক্ষেপ করার পর বাতাসে বিস্ফোরিত হয়ে শত শত ছোট ছোটসাবমিউনিশনবা অসংখ্য ছোট আকারের বিস্ফোরক বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে দেয়।

এটি মূলত সামরিক ট্যাংক, যানবহন এবং সেনাদল ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়। এই অস্ত্র শুধু প্রতিরোধ করা কঠিনই নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। কারণ অবিস্ফোরিত বিস্ফোরকগুলো দীর্ঘকাল পরে বিস্ফোরিত হয়ে সাধারণ মানুষের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তার বলেছেন, ইরান ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে এমন অনেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যেগুলোর ওয়ারহেডে (বিস্ফোরক মুখে) গুচ্ছ বোমা রাখা হয়েছে।

ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের সিনিয়র গবেষক ইয়েহোশুয়া কালিস্কি বলেন, যদিও ইসরায়েলের অ্যারো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে কার্যকর, তবে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের আগেই যদি বিস্ফোরক ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেগুলো আটকানো প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। প্রতিটি বিস্ফোরকের ওজন সাধারণত তিন কেজিরও কম। এগুলো বড় ভবন ধ্বংসের চেয়ে মানুষ, গাড়ি বা দোকানের মতো ছোট লক্ষ্যবস্তুর জন্য বেশি বিপজ্জনক। আর অনেক সময় বোম্বলেট বিস্ফোরিত না হয়ে মাটিতে পড়ে থাকে, যা পরে ল্যান্ডমাইনের মতো আচরণ করে এবং হঠাৎ বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটাতে পারে।

মঙ্গলবার ইসরায়েলে মধ্যাঞ্চলে এমন একটি বিস্ফোরণে দুইজনসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন রুস্তম গুলমোভ ও আমিদ মুর্তুজোভ। তাদের দুজনেরই বয়স ৪০এর কোঠায় এবং তারা পেতাহ তিকভা শহরের বাসিন্দা। ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড থেকে বের হওয়া ছোট ছোট বোমা ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের অন্তত ছয়টি স্থানে আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে ইয়েহুদ, অর ইয়েহুদা, হোলোন ও বাত ইয়াম শহরও রয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এসব ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটি ওয়ারহেডে সাধারণত ২০ থেকে ২৪টি বোম্বলেট থাকতে পারে। ইরান বর্তমানে একযোগে অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র না ছুড়ে অল্পসংখ্যক কিন্তু শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। ধারণা করা হচ্ছে, বড় আকারের সমন্বিত হামলা চালাতে তেহরান কিছুটা সমস্যার মুখে থাকলেও গুচ্ছবোমার মাধ্যমে তারা সীমিত হামলাতেই সর্বোচ্চ ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর চেষ্টা করছে। সূত্র : এপি

জনপ্রিয় সংবাদ

হাতিয়ার ভাগে কতো কার্টুন সৌদির উপহারের খেজুর? জানালেন এমপি হান্নান মাসউদ

ইরানের গুচ্ছ বোমা আঘাত হানছে ইসরায়েলে

আপডেট সময় ০১:৩৬:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

এবার ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে নতুন উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছেক্লাস্টার মিউনিশনবাক্লাস্টার বোমা এক ধরনের বিধ্বংসী অস্ত্র। ১০ দিন ধরে চলা এই যুদ্ধে ইরান নিয়মিতভাবে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)ক্লাস্টার বা গুচ্ছ বোমা আকাশ থেকে বা ভূমি থেকে নিক্ষেপ করার পর বাতাসে বিস্ফোরিত হয়ে শত শত ছোট ছোটসাবমিউনিশনবা অসংখ্য ছোট আকারের বিস্ফোরক বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে দেয়।

এটি মূলত সামরিক ট্যাংক, যানবহন এবং সেনাদল ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়। এই অস্ত্র শুধু প্রতিরোধ করা কঠিনই নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্যও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। কারণ অবিস্ফোরিত বিস্ফোরকগুলো দীর্ঘকাল পরে বিস্ফোরিত হয়ে সাধারণ মানুষের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তার বলেছেন, ইরান ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে এমন অনেক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যেগুলোর ওয়ারহেডে (বিস্ফোরক মুখে) গুচ্ছ বোমা রাখা হয়েছে।

ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের সিনিয়র গবেষক ইয়েহোশুয়া কালিস্কি বলেন, যদিও ইসরায়েলের অ্যারো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে কার্যকর, তবে ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের আগেই যদি বিস্ফোরক ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেগুলো আটকানো প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। প্রতিটি বিস্ফোরকের ওজন সাধারণত তিন কেজিরও কম। এগুলো বড় ভবন ধ্বংসের চেয়ে মানুষ, গাড়ি বা দোকানের মতো ছোট লক্ষ্যবস্তুর জন্য বেশি বিপজ্জনক। আর অনেক সময় বোম্বলেট বিস্ফোরিত না হয়ে মাটিতে পড়ে থাকে, যা পরে ল্যান্ডমাইনের মতো আচরণ করে এবং হঠাৎ বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটাতে পারে।

মঙ্গলবার ইসরায়েলে মধ্যাঞ্চলে এমন একটি বিস্ফোরণে দুইজনসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন রুস্তম গুলমোভ ও আমিদ মুর্তুজোভ। তাদের দুজনেরই বয়স ৪০এর কোঠায় এবং তারা পেতাহ তিকভা শহরের বাসিন্দা। ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড থেকে বের হওয়া ছোট ছোট বোমা ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলের অন্তত ছয়টি স্থানে আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে ইয়েহুদ, অর ইয়েহুদা, হোলোন ও বাত ইয়াম শহরও রয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এসব ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটি ওয়ারহেডে সাধারণত ২০ থেকে ২৪টি বোম্বলেট থাকতে পারে। ইরান বর্তমানে একযোগে অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র না ছুড়ে অল্পসংখ্যক কিন্তু শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। ধারণা করা হচ্ছে, বড় আকারের সমন্বিত হামলা চালাতে তেহরান কিছুটা সমস্যার মুখে থাকলেও গুচ্ছবোমার মাধ্যমে তারা সীমিত হামলাতেই সর্বোচ্চ ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর চেষ্টা করছে। সূত্র : এপি