ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনের একটি অংশের আচরণ ও আনুগত্যের পরিবর্তন দেখা যায়—এমন মন্তব্য করেছেন সাবেক ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি পেশাদার ও নীতিনিষ্ঠ প্রশাসন গড়ে তুলতে হলে ব্যক্তিনির্ভর আনুগত্যের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক লেখায় তিনি তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, প্রায় ১৮ মাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বহু আমলার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। দায়িত্বে থাকাকালে অনেক কর্মকর্তা নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন ও সহযোগিতা করতেন। কিন্তু ক্ষমতা হস্তান্তরের পর সেই সম্পর্কের চিত্র দ্রুত বদলে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ড. খালিদ হোসেনের মতে, ক্ষমতার করিডোরে একটি অদৃশ্য বাস্তবতা কাজ করে—ক্ষমতা যেখানে থাকে, অনেক সময় আনুগত্যও সেখানে স্থানান্তরিত হয়। এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একটি দক্ষ, নিরপেক্ষ ও পেশাদার আমলাতন্ত্র অপরিহার্য। কিন্তু যদি প্রশাসনের মূল্যায়নে দলীয় আনুগত্য বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রধান বিবেচনা হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিতে পারে।
লেখায় তিনি সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর কয়েকজন সচিবকে অব্যাহতি দেওয়া এবং কয়েকজনকে ওএসডি করার ঘটনা প্রশাসনে নানা আলোচনা তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন করা না হলে প্রশাসনের ভেতরে মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
ড. খালিদ হোসেন আরও বলেন, প্রশাসনের ভেতরে এখনো অনেক সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রয়েছেন, যারা পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে চান। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি তাদের ওপর আস্থা রাখে এবং কাজ করার স্বাধীনতা দেয়, তাহলে প্রশাসন আরও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।
তিনি মনে করেন, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, জবাবদিহি ও নৈতিক মানদণ্ড শক্তিশালী করার মাধ্যমে এমন একটি প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা দরকার, যেখানে ব্যক্তি নয়—রাষ্ট্র, সংবিধান এবং জনগণের কল্যাণই হবে আনুগত্যের মূল কেন্দ্র।
লেখার শেষাংশে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে প্রশাসনে দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। তাহলেই একটি শক্তিশালী ও কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।























