এবার ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে বুধবার (১৮ মার্চ) ইসরাইলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষ করে গ্যাসক্ষেত্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর হুমকি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জানিয়েছে। হামলার সময় বিভিন্ন স্থানে সতর্ক সংকেত বাজানো হয়, যা পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আলজাজিরা প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী রিয়াদের দিকে ছোড়া ইরানের চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করা হয়। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ শহরের বিভিন্ন এলাকায় পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে সৌদির পূর্বাঞ্চলের একটি গ্যাস স্থাপনার দিকে ধেয়ে আসা একটি ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়। সেটি লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।
কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর একটি—রাস লাফান শিল্প এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ইরানের হামলার পরপরই এই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। কুয়েতে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ১৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার তথ্য জানানো হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলেছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ ধরনের মোট ৪২১টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ৯৪ বার সতর্ক সংকেত বাজানো হয়েছে।
বাহরাইনেও সাইরেন বাজানো হয়। দেশটির সরকার নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোর আশপাশের এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়। এসব স্থাপনাকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ পরিস্থিতিতে কাতার এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর আঘাত পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।



















