ঢাকা ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ধ কারখানার জন্য বিশাল তহবিল ঘোষণা করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

এবার দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার এক তহবিল চালুর প্রক্রিয়া চলছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে। সব ঠিকঠাক থাকলে চলতি সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই তহবিল গঠনের ঘোষণা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনিবার্য কারণবশত বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও কারখানাগুলো, যারা তাদের ঋণ পরিশোধ করতে ইচ্ছুক, তারা এই তহবিল থেকে স্বল্প সুদে কার্যকরী মূলধন ঋণ নিতে পারবে। কিছু ক্ষেত্রে, প্রতিষ্ঠানগুলো মেয়াদী ঋণও পেতে পারে। এই ঋণের সুদের হার ১৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হতে পারে এবং এর সঙ্গে ভর্তুকি থাকতে পারে ৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে এই তহবিল গঠনের ঘোষণা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে, গত শুক্রবার (১ মে) মহান মে দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জানা গেছে, তহবিল গঠনের আগে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালার খসড়া তৈরির কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহমেদের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি। এতে চার জন নির্বাহী পরিচালক, ছয় জন পরিচালক, পাঁচ জন অতিরিক্ত পরিচালক এবং এক জন করে যুগ্মপরিচালক, উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক রয়েছেন। তহবিল সহায়তা ছাড়াও কারখানাগুলো চালু করতে আর কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক গঠিত এই ১৯ সদস্যের কমিটি। ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোকে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর তালিকা এবং তাদের ঋণের অবস্থা সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। এই অনুরোধে শুধুমাত্র ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ থাকা কারখানাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, এবং সম্পূর্ণ বন্ধ ও আংশিকভাবে বন্ধ কারখানাগুলোর জন্য আলাদা তালিকা চাওয়া হয়েছে।

বন্ধ যেসব কারখানার বাজার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব কারখানা চালু করতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যেসব ভালো শিল্প কারখানা বন্ধ হয়েছে তা সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে জালজালিয়াতি, অর্থ পাচারসহ বড় অপরাধে জড়িত না এ রকম কারখানাকে সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।  বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, মোটাদাগে তিনটি পরামর্শ পাওয়া গেছে। এগুলো হচ্ছে ঋণ নিয়মিত করে কারখানা সচলের জন্য ডাউনপেমেন্টের শর্ত শিথিল করা, কারখানা চালুর সঙ্গে সঙ্গে তহবিল সহায়তা, আমদানিরপ্তানি কার্যক্রমের জন্য ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান, প্রয়োজনে কম মার্জিনে এলসি খোলার সুযোগ দেওয়া। কারখানা বন্ধ হওয়ার আগে গ্রাহকের আচরণের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো এ সুবিধা দিতে পারবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশেষ অভিযানে বস্তিতে মিলল সুড়ঙ্গপথ, ভেতরে বিলাসবহুল ঘর

বন্ধ কারখানার জন্য বিশাল তহবিল ঘোষণা করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

এবার দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার এক তহবিল চালুর প্রক্রিয়া চলছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে। সব ঠিকঠাক থাকলে চলতি সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই তহবিল গঠনের ঘোষণা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনিবার্য কারণবশত বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও কারখানাগুলো, যারা তাদের ঋণ পরিশোধ করতে ইচ্ছুক, তারা এই তহবিল থেকে স্বল্প সুদে কার্যকরী মূলধন ঋণ নিতে পারবে। কিছু ক্ষেত্রে, প্রতিষ্ঠানগুলো মেয়াদী ঋণও পেতে পারে। এই ঋণের সুদের হার ১৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হতে পারে এবং এর সঙ্গে ভর্তুকি থাকতে পারে ৫ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে এই তহবিল গঠনের ঘোষণা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে, গত শুক্রবার (১ মে) মহান মে দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জানা গেছে, তহবিল গঠনের আগে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালার খসড়া তৈরির কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহমেদের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি। এতে চার জন নির্বাহী পরিচালক, ছয় জন পরিচালক, পাঁচ জন অতিরিক্ত পরিচালক এবং এক জন করে যুগ্মপরিচালক, উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালক রয়েছেন। তহবিল সহায়তা ছাড়াও কারখানাগুলো চালু করতে আর কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক গঠিত এই ১৯ সদস্যের কমিটি। ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোকে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর তালিকা এবং তাদের ঋণের অবস্থা সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। এই অনুরোধে শুধুমাত্র ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ থাকা কারখানাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, এবং সম্পূর্ণ বন্ধ ও আংশিকভাবে বন্ধ কারখানাগুলোর জন্য আলাদা তালিকা চাওয়া হয়েছে।

বন্ধ যেসব কারখানার বাজার সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব কারখানা চালু করতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যেসব ভালো শিল্প কারখানা বন্ধ হয়েছে তা সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে জালজালিয়াতি, অর্থ পাচারসহ বড় অপরাধে জড়িত না এ রকম কারখানাকে সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।  বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, মোটাদাগে তিনটি পরামর্শ পাওয়া গেছে। এগুলো হচ্ছে ঋণ নিয়মিত করে কারখানা সচলের জন্য ডাউনপেমেন্টের শর্ত শিথিল করা, কারখানা চালুর সঙ্গে সঙ্গে তহবিল সহায়তা, আমদানিরপ্তানি কার্যক্রমের জন্য ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান, প্রয়োজনে কম মার্জিনে এলসি খোলার সুযোগ দেওয়া। কারখানা বন্ধ হওয়ার আগে গ্রাহকের আচরণের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো এ সুবিধা দিতে পারবে।