ঢাকা ০১:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ: ক্ষতিপূরণ চাইলেন পরশুরামের সেই ইমাম

এবার ফেনীর পরশুরামে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে এক মাস দুদিন কারাভোগের পর ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রামাণিত হয়েছেন ইমাম ও খতিব মোজাফফর আহমেদ। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের জৈবিক পিতা তার আপন বড়ভাই। ভাইকে বাঁচাতে পরিকল্পিতভাবে ইমামকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে ইমাম আর্থিকের পাশাপাশি অপমান অপদস্ত হয়েছেন সামাজিকভাবে। শুক্রবার তিনি দোষীদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

ফেনীর সীমান্তবর্তী উপজেলা পরশুরামে মোজাফফরের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ ওঠার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। হারাতে হয় চাকরি। দূরে সরে যায় আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসী। মামলার খরচ চালাতে বিক্রি করতে হয়েছে বাড়ির জায়গা। প্রতিনিয়ত হেয়প্রতিপন্ন হয়েছে তার পরিবার। এসব কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মোজাফফর। এদিকে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালত তাকে নির্দোষ হিসাবে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষায় জানা যায়, কিশোরীর গর্ভের সন্তানের শিশুটির বাবা ওই ইমাম নন; বরং মেয়েটিরই আপন বড় ভাই। পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ভাই নিজেও বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর পরশুরামের ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার মা স্থানীয় টেটরশ্বর জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মোজাফফরের বিরুদ্ধে পরশুরাম মডেল থানায় মামলা করেন। দুদিন পর ইমামকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে সন্তান প্রসব করে ওই কিশোরী। দায় চাপানো হয় মোজাফফরের ওপর।

জানা যায়, সন্তানের পিতার পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ডিএনএ পরীক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডিএনএ পরীক্ষায় মোরশেদের সঙ্গে তার বোনের সন্তানের পিতা হিসাবে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। মোজাফফর ওই সন্তানের জৈবিক পিতা নন। মোজাফফরের ডিএনএর মিল না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে কিশোরীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে ওই কিশোরী তার আপন বড় ভাই মোরশেদ তাকে লাগাতার ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয়। ২০২৫ সালের ১৯ মে মোরশেদকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আপন বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে মোরশেদ।

এদিকে ইমাম মোজাফফর শুক্রবার বলেন, আমি প্রথম থেকে বলেছি, আমি নির্দোষ। কেউ আমার কথা বিশ্বাস তো দূরের কথা শুনতেও চাননি। আমি এ অপবাদের বিচার চাই, ক্ষতিপূরণ চাই। যেন এ ধরনের ঘটনা দেশে কোথাও আর না হয়। শুরুতে প্রকৃত সত্য তুলে ধরলে আজ আমার এই করুণদশা হতো না।  মোজাফফরের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উদ্ঘাটন হয়েছে। এখন তিনি চাইলে মামলা করতে পারবেন। পরশুরাম মডেল থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম জানান, নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘মাইলস্টোনের দগ্ধ শিশুদের চিকিৎসায় ডা. সামন্ত লালকে আসতে দেয়নি ইউনূস সরকার’

ধর্ষণ মামলায় নির্দোষ: ক্ষতিপূরণ চাইলেন পরশুরামের সেই ইমাম

আপডেট সময় ১১:০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

এবার ফেনীর পরশুরামে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে এক মাস দুদিন কারাভোগের পর ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রামাণিত হয়েছেন ইমাম ও খতিব মোজাফফর আহমেদ। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের জৈবিক পিতা তার আপন বড়ভাই। ভাইকে বাঁচাতে পরিকল্পিতভাবে ইমামকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে ইমাম আর্থিকের পাশাপাশি অপমান অপদস্ত হয়েছেন সামাজিকভাবে। শুক্রবার তিনি দোষীদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

ফেনীর সীমান্তবর্তী উপজেলা পরশুরামে মোজাফফরের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ ওঠার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। হারাতে হয় চাকরি। দূরে সরে যায় আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসী। মামলার খরচ চালাতে বিক্রি করতে হয়েছে বাড়ির জায়গা। প্রতিনিয়ত হেয়প্রতিপন্ন হয়েছে তার পরিবার। এসব কারণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মোজাফফর। এদিকে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালত তাকে নির্দোষ হিসাবে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। ডিএনএ পরীক্ষায় জানা যায়, কিশোরীর গর্ভের সন্তানের শিশুটির বাবা ওই ইমাম নন; বরং মেয়েটিরই আপন বড় ভাই। পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ভাই নিজেও বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর পরশুরামের ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে তার মা স্থানীয় টেটরশ্বর জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মোজাফফরের বিরুদ্ধে পরশুরাম মডেল থানায় মামলা করেন। দুদিন পর ইমামকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে সন্তান প্রসব করে ওই কিশোরী। দায় চাপানো হয় মোজাফফরের ওপর।

জানা যায়, সন্তানের পিতার পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ডিএনএ পরীক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডিএনএ পরীক্ষায় মোরশেদের সঙ্গে তার বোনের সন্তানের পিতা হিসাবে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। মোজাফফর ওই সন্তানের জৈবিক পিতা নন। মোজাফফরের ডিএনএর মিল না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে কিশোরীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে ওই কিশোরী তার আপন বড় ভাই মোরশেদ তাকে লাগাতার ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয়। ২০২৫ সালের ১৯ মে মোরশেদকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আপন বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ২০ মে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে মোরশেদ।

এদিকে ইমাম মোজাফফর শুক্রবার বলেন, আমি প্রথম থেকে বলেছি, আমি নির্দোষ। কেউ আমার কথা বিশ্বাস তো দূরের কথা শুনতেও চাননি। আমি এ অপবাদের বিচার চাই, ক্ষতিপূরণ চাই। যেন এ ধরনের ঘটনা দেশে কোথাও আর না হয়। শুরুতে প্রকৃত সত্য তুলে ধরলে আজ আমার এই করুণদশা হতো না।  মোজাফফরের আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা বিরল। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় সত্য উদ্ঘাটন হয়েছে। এখন তিনি চাইলে মামলা করতে পারবেন। পরশুরাম মডেল থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম জানান, নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সমাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।