এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার চীন সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বেইজিংয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন। সফরের শুরুতে শি জিনপিংকে ‘মহান নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যে একটি ‘অসাধারণ ভবিষ্যতে’র স্বপ্ন দেখছেন বলে মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেইজিংয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রারম্ভিক বক্তব্যে ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টকে তার ‘বন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করেন এবং এই বৈঠককে নিজের জন্য অত্যন্ত সম্মানের বলে উল্লেখ করেন।
যদিও এই সম্মেলনটি ব্যাপক জাঁকজমক ও প্রতীকী অর্থে গুরুত্বপূর্ণ, তবে বাণিজ্য, তাইওয়ান ইস্যু কিংবা ইরান যুদ্ধের মতো জটিল বিষয়গুলোতে বড় ধরনের কোনো নাটকীয় সাফল্যের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন যে, অতীতে দুই দেশের মধ্যে নানা বিষয়ে মতভেদ থাকলেও তারা টেলিফোনে আলাপচারিতার মাধ্যমে খুব দ্রুত সেগুলোর সমাধান করেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আপনি একজন মহান নেতা, অনেকে হয়তো আমার এই বলাটা পছন্দ করেন না, কিন্তু সত্য এটাই যে আপনি মহান। আমাদের একসঙ্গে একটি চমৎকার ভবিষ্যৎ রয়েছে।’
নিজের এই সফরে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদেরও সঙ্গে নিয়ে এসেছেন, যার মধ্যে এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এবং টেসলার ইলোন মাস্কের মতো ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য হলো চীনের সঙ্গে কৃষি পণ্য ও যাত্রীবাহী বিমান বিক্রির চুক্তি ত্বরান্বিত করা এবং একটি স্থায়ী বোর্ড গঠন করা যাতে ভবিষ্যতে গত বছরের মতো শুল্ক যুদ্ধ বা বাণিজ্য যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আলোচনার শুরুতে শি জিনপিং বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান অস্থিরতা ও রূপান্তরের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত এক শতাব্দীতে বিশ্ব এমন পরিবর্তনের সাক্ষী হয়নি এবং বর্তমান এই অস্থির সময়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের স্থিতিশীল সম্পর্ক অত্যন্ত জরুরি।
শি জিনপিং তার বক্তব্যে ‘থুসিডাইডস ট্র্যাপ’ বা উদীয়মান শক্তির সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত শক্তির অনিবার্য সংঘাতের তত্ত্বটি উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, দুই দেশ কি এই ফাঁদ এড়িয়ে সম্পর্কের একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে? তিনি আরও জানান, সারা বিশ্ব এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে এবং মানবজাতির ভবিষ্যতের স্বার্থে দুই দেশের সংঘাতের বদলে সহযোগিতার পথে হাঁটা উচিত।
সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহে আলোচনা শুরু হলেও বেশ কিছু অমীমাংসিত ইস্যু এই সম্মেলনের কেন্দ্রে রয়েছে। বিশেষ করে তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন এবং ফেনটানিল পাচার রোধে বেইজিংয়ের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের অতৃপ্তি আলোচনার টেবিলে ছায়া ফেলতে পারে। অন্যদিকে শি জিনপিং ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। দুই দিনের এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। শুক্রবার দুপুরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত বৈঠকের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প তার এই ঐতিহাসিক বেইজিং সফর শেষ করবেন বলে জানা গেছে। সূত্র: এনডিটিভি






















