ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মসজিদে বন্দুক হামলা, নিজের জীবন দিয়ে শত শিশুর প্রাণ বাঁচালেন ‘বীর’ আবদুল্লাহ

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • ৫১৮ বার পড়া হয়েছে

এবার যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোর একটি মসজিদে বন্দুক হামলায় নিহত নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহকেবীরহিসেবে আখ্যায়িত করেছে পুলিশ ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়। তাদের দাবি, তার সাহসী পদক্ষেপের কারণেই আরও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বুধবার (২০ মে) বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে হামলার ঘটনায় আমিন আবদুল্লাহসহ তিন মুসল্লি নিহত হন। হামলার পর দুই কিশোর হামলাকারী আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা মসজিদের প্রবেশপথ অতিক্রম করার সময় আমিন আবদুল্লাহ তাদের দিকে গুলি চালান। পাল্টা গুলিতে তিনি নিহত হন। তবে মৃত্যুর আগেই তিনি জরুরি লকডাউন ব্যবস্থা কার্যকর করেন। যার ফলে ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে থাকা স্কুলের প্রায় ১৪০ শিশুসহ বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা পায়। সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তার কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে বীরত্বপূর্ণ ছিল। তিনি বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।

নিহত অপর দুইজনের নাম মনসুর কাজিহা ও নাদের আওয়াদ বলে জানিয়েছে কাউন্সিল অন আমেরিকানইসলামিক রিলেশনসসান ডিয়েগো (কেইরএসডি) তারা দুজনই মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন। আমিন আবদুল্লাহ ছিলেন আট সন্তানের জনক। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, তিনি এক দশকের বেশি সময় ধরে মসজিদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সবার কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাকে সদালাপী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কেইরএসডির মুখপাত্র তাজহীন নিজাম বলেন, ‘তিনি প্রতিদিন হাসিমুখে মানুষকে স্বাগত জানাতেন। শিশুদেরও খুব স্নেহ করতেন। তিনি সত্যিকারের একজন বীর।হামলার ঘটনায় পুলিশ এটিকেঘৃণাজনিত অপরাধহিসেবে তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা সন্দেহভাজনদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি বাসা থেকে ৩০টির বেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি ক্রসবো উদ্ধার করেছে। এছাড়া তাদের কাছ থেকে ধর্মীয় ও বর্ণবাদী মতাদর্শসংবলিত কিছু নথিও জব্দ করা হয়েছে।

সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া বলেন, ‘এই হামলাকারীরা আমাদের শহরের প্রতিনিধিত্ব করে না। বরং নিহত এই তিন মুসলিমই আমাদের প্রকৃত পরিচয় বহন করেন।এদিকে নিহতদের পরিবারের সহায়তায় অনলাইনে চালু করা তহবিলে ইতোমধ্যে প্রায় ২ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার অনুদান সংগ্রহ হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সময় গেলে সাধন হবে না: মাহফুজকে আনিস আলমগীর

মসজিদে বন্দুক হামলা, নিজের জীবন দিয়ে শত শিশুর প্রাণ বাঁচালেন ‘বীর’ আবদুল্লাহ

আপডেট সময় ১০:০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

এবার যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোর একটি মসজিদে বন্দুক হামলায় নিহত নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহকেবীরহিসেবে আখ্যায়িত করেছে পুলিশ ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়। তাদের দাবি, তার সাহসী পদক্ষেপের কারণেই আরও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বুধবার (২০ মে) বিবিসির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে হামলার ঘটনায় আমিন আবদুল্লাহসহ তিন মুসল্লি নিহত হন। হামলার পর দুই কিশোর হামলাকারী আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা মসজিদের প্রবেশপথ অতিক্রম করার সময় আমিন আবদুল্লাহ তাদের দিকে গুলি চালান। পাল্টা গুলিতে তিনি নিহত হন। তবে মৃত্যুর আগেই তিনি জরুরি লকডাউন ব্যবস্থা কার্যকর করেন। যার ফলে ইসলামিক সেন্টারের সঙ্গে থাকা স্কুলের প্রায় ১৪০ শিশুসহ বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা পায়। সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তার কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে বীরত্বপূর্ণ ছিল। তিনি বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন।

নিহত অপর দুইজনের নাম মনসুর কাজিহা ও নাদের আওয়াদ বলে জানিয়েছে কাউন্সিল অন আমেরিকানইসলামিক রিলেশনসসান ডিয়েগো (কেইরএসডি) তারা দুজনই মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন। আমিন আবদুল্লাহ ছিলেন আট সন্তানের জনক। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, তিনি এক দশকের বেশি সময় ধরে মসজিদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সবার কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাকে সদালাপী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কেইরএসডির মুখপাত্র তাজহীন নিজাম বলেন, ‘তিনি প্রতিদিন হাসিমুখে মানুষকে স্বাগত জানাতেন। শিশুদেরও খুব স্নেহ করতেন। তিনি সত্যিকারের একজন বীর।হামলার ঘটনায় পুলিশ এটিকেঘৃণাজনিত অপরাধহিসেবে তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা সন্দেহভাজনদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি বাসা থেকে ৩০টির বেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি ক্রসবো উদ্ধার করেছে। এছাড়া তাদের কাছ থেকে ধর্মীয় ও বর্ণবাদী মতাদর্শসংবলিত কিছু নথিও জব্দ করা হয়েছে।

সান ডিয়েগোর মেয়র টড গ্লোরিয়া বলেন, ‘এই হামলাকারীরা আমাদের শহরের প্রতিনিধিত্ব করে না। বরং নিহত এই তিন মুসলিমই আমাদের প্রকৃত পরিচয় বহন করেন।এদিকে নিহতদের পরিবারের সহায়তায় অনলাইনে চালু করা তহবিলে ইতোমধ্যে প্রায় ২ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার অনুদান সংগ্রহ হয়েছে।