একসময় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত ভারত আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক শক্তিতে পরিণত হবে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেছেন, এখন আর কোনও শক্তিই ভারতকে সেই অবস্থানে পৌঁছানো থেকে থামাতে পারবে না। খবর এনডিটিভি
রাজনাথ সিং বলেন, একসময় যে ভারত অস্ত্র আমদানির জন্য পরিচিত ছিল, আগামী ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে সেই দেশই বিশ্বের অন্যতম বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক শক্তিতে পরিণত হবে। শনিবার (২৩ মে) শিরডিতে গোলাবারুদ উৎপাদন কারখানার উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন। রাজনাথ সিং বলেন, যে দেশ নিজের অস্ত্র নিজে তৈরি করতে পারে, সেই দেশই নিজের ভবিষ্যৎ নিজে লিখতে পারে। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগেও প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বেসরকারি খাতের ভূমিকা ছিল খুবই সীমিত। এখন তা বেড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। সরকার ভবিষ্যতে এটিকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি খাত এখন শুধু নাট–বল্টু সরবরাহকারী নয়, তারা অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থাও তৈরি করছে’। তিনি আরও বলেন, ‘ভারতকে একসময় অস্ত্র আমদানিকারক দেশ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু আগামী ২৫–৩০ বছরে এটিকে সবচেয়ে বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হওয়া থেকে কোনও শক্তিই আটকাতে পারবে না।’ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও বেসরকারি খাতের উদ্ভাবন একসঙ্গে কাজ করলে দেশ নতুন উচ্চতায় পৌঁছায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রাজনাথ সিং বলেন, ‘ভারতকে গোলাবারুদ ও অটোমেশনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে গানপাউডার তৈরিতে পটাশিয়াম নাইট্রেট ব্যবহার করা হতো এবং এর মাধ্যমে তারা সামরিক শক্তি বাড়িয়েছিল। প্রতিরক্ষা শিল্পের ক্ষেত্রে ভারত অনেক দূর এগিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনাথ সিং বলেন, স্বাধীনতার আগেও ভারতে অস্ত্র কারখানা ছিল এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের শিকড় গভীর ছিল। তবে স্বাধীনতার পর পুরোনো সক্ষমতা ও আধুনিক চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি হয়নি। এর মূল কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেয়া হয়নি এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদন মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তিনি বলেন, সরকার একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব মডেল চালু করেছে এবং ৫ হাজার পণ্যের একটি ইতিবাচক দেশীয়করণ তালিকা তৈরি করেছে। এ তালিকাভুক্ত পণ্য ভারত থেকেই সশস্ত্র বাহিনীকে কিনতে হবে— এমন বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে।





















