ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া ২৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ, শিগগিরই দেশে আনা হবে: গভর্নর

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:৩৮:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • ৫২৯ বার পড়া হয়েছে

এবার বিদেশে পাচার হওয়া বাংলাদেশের অর্থ ও সম্পদ ফেরত আনার অগ্রগতি হয়েছে। যুক্তরাজ্যে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারী’ (পাচার হওয়া সম্পদ) এর অংশ হিসেবে এই সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে খুব শিগগিরই এই অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এই তথ্য জানান।

তিনি জানান, একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের চলমান সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ কমানো, দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করেন গভর্নর। এ সময় সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ওনিউ এজপত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবীর এবং সাধারণ সম্পাদক ওবণিক বার্তাপত্রিকার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী এবং দৈনিক আগামীর সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন প্রতিনিধি দলের সভায় অংশ নেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরেরাও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফেরাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা তুলে ধরে গভর্নর জানান, ইতোমধ্যে এই প্রক্রিয়ায় কিছু প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাংকগুলোর কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস) উন্নয়ন ও সমন্বয় সম্পন্ন হওয়ার পর পুনর্গঠন কার্যক্রম আরও গতি পাবে। গভর্নর ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি বৃহৎ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি সম্পাদকদের জানান। গভর্নর জানান, খেলাপি ঋণের মামলা দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তির লক্ষ্যেঅর্থঋণ আদালত আইনএর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংশোধন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি আদায় অযোগ্য ঋণসমূহ নিষ্পত্তির জন্যডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি অ্যাক্টপ্রণয়ন করা হচ্ছে।

গভর্নর ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা সমীচীন উল্লেখ করে জানান, ব্যাংকিং খাতে ব্যাংকের পরিচালনা ও ঋণ বিতরণে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই বর্তমান সংস্কার কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে মো. মোস্তাকুর রহমান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সমন্বিত ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছে। এর আওতায় ডিজিটাল ন্যানোলোন ব্যবস্থা, এআইভিত্তিক ঋণ মূল্যায়ন এবং ক্রেডিট ব্যুরোর অনুমোদনের বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডেন্টিটি, ওয়ান ওয়ালেটধারণার মাধ্যমে ডিজিটাল রূপান্তর ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন হবে। তিনি জানান, ‘বাংলা কিউআর’-এর মাধ্যমে ক্যাশলেস লেনদেন নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকের লেনদেন রিপোর্টিং সিস্টেমে আনার মাধ্যমে দেশের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করা সম্ভব।

গভর্নর জানান, বিদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনুমোদিত পরিমাণের অধিক ডলার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দিচ্ছে। এছাড়া ইউপাস এলসির ক্ষেত্রে বিল ডিসকাউন্টিংয়ের জন্য ব্যবহৃত ফান্ডের সুদহার হ্রাস করা হয়েছে, যা আমদানিকৃত পণ্যের দাম হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখবে। সাক্ষাৎকালে সম্পাদক পরিষদের সদস্যরা ব্যাংকিং খাতের টেকসই উন্নয়নে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত দেন এবং উভয় পক্ষ আর্থিক খাতের অগ্রগতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানের পর নেপালেও নিষিদ্ধ ভারতের আম

যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া ২৫ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ, শিগগিরই দেশে আনা হবে: গভর্নর

আপডেট সময় ১০:৩৮:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

এবার বিদেশে পাচার হওয়া বাংলাদেশের অর্থ ও সম্পদ ফেরত আনার অগ্রগতি হয়েছে। যুক্তরাজ্যে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারী’ (পাচার হওয়া সম্পদ) এর অংশ হিসেবে এই সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে খুব শিগগিরই এই অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাতের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এই তথ্য জানান।

তিনি জানান, একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের চলমান সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, খেলাপি ঋণ কমানো, দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন এবং ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করেন গভর্নর। এ সময় সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ওনিউ এজপত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবীর এবং সাধারণ সম্পাদক ওবণিক বার্তাপত্রিকার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী এবং দৈনিক আগামীর সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন প্রতিনিধি দলের সভায় অংশ নেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরেরাও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ও সুশাসন ফেরাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা তুলে ধরে গভর্নর জানান, ইতোমধ্যে এই প্রক্রিয়ায় কিছু প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন সম্পন্ন হয়েছে। ব্যাংকগুলোর কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস) উন্নয়ন ও সমন্বয় সম্পন্ন হওয়ার পর পুনর্গঠন কার্যক্রম আরও গতি পাবে। গভর্নর ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি বৃহৎ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি সম্পাদকদের জানান। গভর্নর জানান, খেলাপি ঋণের মামলা দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তির লক্ষ্যেঅর্থঋণ আদালত আইনএর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংশোধন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি আদায় অযোগ্য ঋণসমূহ নিষ্পত্তির জন্যডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি অ্যাক্টপ্রণয়ন করা হচ্ছে।

গভর্নর ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা সমীচীন উল্লেখ করে জানান, ব্যাংকিং খাতে ব্যাংকের পরিচালনা ও ঋণ বিতরণে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই বর্তমান সংস্কার কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে মো. মোস্তাকুর রহমান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সমন্বিত ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছে। এর আওতায় ডিজিটাল ন্যানোলোন ব্যবস্থা, এআইভিত্তিক ঋণ মূল্যায়ন এবং ক্রেডিট ব্যুরোর অনুমোদনের বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডেন্টিটি, ওয়ান ওয়ালেটধারণার মাধ্যমে ডিজিটাল রূপান্তর ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন হবে। তিনি জানান, ‘বাংলা কিউআর’-এর মাধ্যমে ক্যাশলেস লেনদেন নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকের লেনদেন রিপোর্টিং সিস্টেমে আনার মাধ্যমে দেশের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করা সম্ভব।

গভর্নর জানান, বিদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনুমোদিত পরিমাণের অধিক ডলার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দিচ্ছে। এছাড়া ইউপাস এলসির ক্ষেত্রে বিল ডিসকাউন্টিংয়ের জন্য ব্যবহৃত ফান্ডের সুদহার হ্রাস করা হয়েছে, যা আমদানিকৃত পণ্যের দাম হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখবে। সাক্ষাৎকালে সম্পাদক পরিষদের সদস্যরা ব্যাংকিং খাতের টেকসই উন্নয়নে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত দেন এবং উভয় পক্ষ আর্থিক খাতের অগ্রগতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।