বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বকে নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ছাত্রসংগঠক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি জিয়ার প্রতি মুগ্ধ, বিশেষত তিনটি কারণে—
১. দেশের রাজনীতিতে বিভাজনের দেয়াল ভাঙা এবং ঐক্যের সূচনা,
২. আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সাহসী অবস্থান,
৩. পার্বত্য অঞ্চলের জন্য কৌশলী ও দূরদর্শী নেতৃত্ব।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে তিনি সর্বদা ‘আপসহীন নেতা’ হিসেবে চেনেছেন। ২০০১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি দেখেছেন যে, জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেও তিনি দেশের স্বার্থে কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করেননি। এ কারণে তার অসুস্থতার সময় দেশজুড়ে যে দোয়ার ঝড় দেখা গেছে, তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি তারেক রহমানের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে বলেন, ৩৬ জুলাই পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির নীতিমালা ও আচরণ জিয়ার ও খালেদা জিয়ার আদর্শের সঙ্গে মিলছে না। তিনি বলেন, বিএনপি ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে না পারা এবং জামায়াতের প্রতি তাচ্ছিল্যের আচরণ প্রদর্শন করছে।
জাহিদুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, তিনি নিজে কারাগারে থাকা অবস্থায় ছাত্রশিবির ও জামায়াতের অনেক সদস্যের উপর নির্যাতনের প্রমাণ দেখেছেন। পাশাপাশি বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর ঘটে যাওয়া নিপীড়নও তার জানা আছে। তিনি আশাবাদী, তারেক রহমান যদি নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখে জিয়ার রক্ত ও আদর্শকে ধারণ করে রাজনীতি করে, তবে দেশের বিপ্লবী ও দেশপ্রেমিক শক্তি তাকে সহযোগিতা করবে।
শেষে তিনি দুটি মূল বার্তা দিয়েছেন—
১. জিয়ার ও খালেদা জিয়ার আদর্শকে যতদিন বিএনপি ধারণ করতে পারবে, দল তখন টিকে থাকবে; বিপরীত চিন্তাধারা কখনো টিকে থাকতে পারবে না।
২. বামপন্থী ও বিদেশী স্বার্থান্বেষী শক্তি কখনো দেশের উপকারে নয়, বরং বিভাজন ও ইসলাম বিদ্বেষই তাদের লক্ষ্য।
জাহিদুল ইসলাম মনে করেন, ক্ষমতা স্থায়ী নয়, কিন্তু আচরণ ও আদর্শ মানুষকে ভালোবাসা বা ঘৃণার প্রতীক হিসেবে তৈরি করে। তিনি দোয়া করেন, মহান আল্লাহ দেশের স্বার্থে সঠিক বোধ দান করুন।
























