ঢাকা ০২:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওসির সামনেই যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৫:০৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৫২ বার পড়া হয়েছে

গুরুদাসপুর উপজেলা-এ হাটের ইজারা কেন্দ্র করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও সরকারি কর্মকর্তাদের সামনেই পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত রাকিবুর রহমান রাজা নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগামী এক বছরের জন্য চন্দ্রপুর তুলাধূনা হাটের ইজারা নিতে ওবায়দুল ইসলাম তপু এবং রাকিবুর রহমান রাজা টেন্ডার জমা দেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে হাট-বাজার ইজারা সংক্রান্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ২১ হাজার ৭১৩ টাকা চুক্তিমূল্যে তুলাধূনা বাজারের ইজারা পান ওবায়দুল ইসলাম তপু।

ইজারা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন রাজা। অভিযোগ অনুযায়ী, সভা শেষে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইউএনও কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় ওসিসহ অন্যদের সামনে তপুর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। সরকারি দপ্তরের সামনে এমন ঘটনায় উপস্থিত অনেকে বিস্মিত হন।

ভুক্তভোগী ওবায়দুল ইসলাম তপু বলেন, হাটের ইজারা না পেয়ে ইউএনও অফিসের সামনে সবার উপস্থিতিতে রাজা তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান তপু।

তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাকিবুর রহমান রাজা। তার দাবি, এক বছর আগে তপুর কাছে তার পাঁচ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে, সেই টাকা ফেরত চেয়েছেন মাত্র। পুলিশ প্রশাসন ও এত লোকের সামনে চাঁদা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুজ্জামান সরকার বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরাসরি চাঁদা দাবি করার মতো কোনো ঘটনা তিনি দেখেননি। তবে রাজা ক্ষোভের বশে তপুকে ‘এলাকায় আয়, তোকে দেখে নেব’ এমন মন্তব্য করেছেন বলে জানান তিনি। তপু নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন ওসি।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা ও অভিযোগের সত্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা জারি

ওসির সামনেই যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৫:০৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গুরুদাসপুর উপজেলা-এ হাটের ইজারা কেন্দ্র করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও সরকারি কর্মকর্তাদের সামনেই পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত রাকিবুর রহমান রাজা নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আগামী এক বছরের জন্য চন্দ্রপুর তুলাধূনা হাটের ইজারা নিতে ওবায়দুল ইসলাম তপু এবং রাকিবুর রহমান রাজা টেন্ডার জমা দেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে হাট-বাজার ইজারা সংক্রান্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ২১ হাজার ৭১৩ টাকা চুক্তিমূল্যে তুলাধূনা বাজারের ইজারা পান ওবায়দুল ইসলাম তপু।

ইজারা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন রাজা। অভিযোগ অনুযায়ী, সভা শেষে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইউএনও কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় ওসিসহ অন্যদের সামনে তপুর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। সরকারি দপ্তরের সামনে এমন ঘটনায় উপস্থিত অনেকে বিস্মিত হন।

ভুক্তভোগী ওবায়দুল ইসলাম তপু বলেন, হাটের ইজারা না পেয়ে ইউএনও অফিসের সামনে সবার উপস্থিতিতে রাজা তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান তপু।

তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাকিবুর রহমান রাজা। তার দাবি, এক বছর আগে তপুর কাছে তার পাঁচ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে, সেই টাকা ফেরত চেয়েছেন মাত্র। পুলিশ প্রশাসন ও এত লোকের সামনে চাঁদা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুজ্জামান সরকার বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরাসরি চাঁদা দাবি করার মতো কোনো ঘটনা তিনি দেখেননি। তবে রাজা ক্ষোভের বশে তপুকে ‘এলাকায় আয়, তোকে দেখে নেব’ এমন মন্তব্য করেছেন বলে জানান তিনি। তপু নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন ওসি।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা ও অভিযোগের সত্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। লিখিত অভিযোগ দায়ের হলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।