জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশে মুজিববাদ ও মওদূদীবাদের আধিপত্য থেকে বের হয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে ‘দায়িত্বশীল ঐক্য’ প্রয়োজন। মঙ্গলবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীর মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটকে দীর্ঘদিন ব্যক্তি বা দলভিত্তিক সংকট হিসেবে ভুলভাবে দেখা হয়েছে। তিনি বলেন, এটি বেগম জিয়া বা তারেক রহমানের সংকট নয়, বরং গভীর রাষ্ট্রগত সংকট, যা পরিবারতন্ত্র বা ব্যক্তিকেন্দ্রিক ব্যাখ্যার ঊর্ধ্বে। বিএনপির দীর্ঘদিনের পরিবারতন্ত্রের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার পথে সংস্কারের ধারণা এনসিপি তুলে ধরেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টে তিনি আরও লিখেন, নতুন প্রজন্ম যদি সত্যিকারের জাগরণ ঘটাতে সক্ষম হয়, তবে তারা পরিবারতন্ত্রের সীমা ভেঙে জনগণের রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারে। ভারতের কংগ্রেসকেও তিনি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, সেখানেও পরিবারতন্ত্র ভেঙে পুনর্গঠনের পথ খোঁজা হচ্ছে।
নাসিরুদ্দীন আরও দাবি করেন, বাংলাদেশের সংকটের মূল উৎস দুটি ধারার আধিপত্যবাদ—মুজিববাদ ও মওদূদীবাদ। পাঁচ দশক ধরে ভারত–পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র হয়ে থাকা বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজ কাঠামো এই দ্বৈত আধিপত্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, শিবির কল্যাণমূলক কিছু কাজের আড়ালে ছাত্রসমাজকে জামায়াতের হাতে তুলে দিয়েছে কিছু সুবিধার বিনিময়ে, যার ফলে দেশ আবারও পুরনো প্রক্সি রাজনীতির ঘূর্ণিতে ফিরে গেছে।
বিএনপির সঙ্গে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, আজ দেশপ্রেমিক শক্তির সামনে দুইটি লড়াই—
১. মুজিববাদ ও মওদূদীবাদের কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম
২. একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক, আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের দায়িত্ব
এই দুই লড়াই কোনো দল একা লড়তে পারবে না বলেই বিএনপি ও এনসিপির গণতান্ত্রিক জাতীয়তাবাদী ধারার মধ্যে ঐক্য প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে এই ঐক্যের শর্ত হিসেবে তিনি বিএনপিকে পরিবারতন্ত্রের সীমাবদ্ধতা ছাড়ার আহ্বান জানান এবং ভারতের প্রভাবমুখী রাজনীতি থেকে সরে এসে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মূলধারায় ফেরার পরামর্শ দেন।
এনসিপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, চারটি প্রশ্নে তাদের কোনো আপস নেই— বাংলাদেশের পুনর্গঠন, সার্বভৌম মর্যাদা, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ, নাগরিক অধিকার, স্বাধীনতা ও সম্মান।
ঐক্য হোক বা না হোক, এনসিপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ‘আদর্শিক লড়াই’ চালিয়ে যাবে জানিয়ে নাসিরুদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের পথ আটকে আছে দুই ফ্যাসিবাদী প্রক্সির হাতে—মুজিববাদ ও মওদূদীবাদে। এ আধিপত্য ভেঙে ন্যায়ভিত্তিক জাতীয় রাষ্ট্র গড়তে হলে প্রতিটি নাগরিককে এই পুনর্গঠনের কাজে যুক্ত হতে হবে।
তার ভাষায়, এটি কেবল ক্ষমতা বা নির্বাচনের লড়াই নয়—এটি বাংলাদেশের আত্মাকে পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম।


























