ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে আহত আন্দোলনকারীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১২:০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৩৫ বার পড়া হয়েছে

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করায় দেশজুড়ে হাসপাতালগুলো আহত রোগীর চাপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষের কঠোর হুঁশিয়ারি ও আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগের মধ্যেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবরটি জানিয়েছে।

 

বিবিসিকে দেওয়া বক্তব্যে এক চিকিৎসক জানান, তেহরানের প্রধান চক্ষু বিশেষায়িত কেন্দ্র ফারাবি হাসপাতাল সংকটকালীন সময় হিসেবে এই পরিস্থিতিতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত চাপের কারণে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার স্থগিত করা হয়েছে এবং বাড়তি চিকিৎসাকর্মী ডাকা হয়েছে।

তেহরান ও শিরাজের চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক আহত বিক্ষোভকারী হাসপাতালে আনা হচ্ছে, যাদের অনেকের শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে। শিরাজের এক ডাক্তার বলেন, রোগীর সংখ্যা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সার্জন তাদের হাসপাতালে নেই। তিনি জানান, বহু আহতের মাথা ও চোখে গুলির ক্ষত রয়েছে, যা সামাল দেওয়ার মতো প্রস্তুতি হাসপাতালগুলোর নেই।

 

এদিকে কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ায় পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফানি দুজারিক নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর শিশুসহ অন্তত ৫০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে এবং দুই হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ইরানি পুলিশ শুক্রবার তেহরানে কোনো মৃত্যুর ঘটনা অস্বীকার করলেও ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ও সম্পত্তি ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছে।

অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অসন্তোষের জেরে ইরানের ডজনখানেক শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় নেতারা তেহরানকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

১৬ বছর পর হাতে এলো অর্ডার করা মোবাইল ফোন

ইরানে আহত আন্দোলনকারীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো

আপডেট সময় ১২:০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করায় দেশজুড়ে হাসপাতালগুলো আহত রোগীর চাপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষের কঠোর হুঁশিয়ারি ও আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগের মধ্যেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ খবরটি জানিয়েছে।

 

বিবিসিকে দেওয়া বক্তব্যে এক চিকিৎসক জানান, তেহরানের প্রধান চক্ষু বিশেষায়িত কেন্দ্র ফারাবি হাসপাতাল সংকটকালীন সময় হিসেবে এই পরিস্থিতিতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত চাপের কারণে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার স্থগিত করা হয়েছে এবং বাড়তি চিকিৎসাকর্মী ডাকা হয়েছে।

তেহরান ও শিরাজের চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক আহত বিক্ষোভকারী হাসপাতালে আনা হচ্ছে, যাদের অনেকের শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে। শিরাজের এক ডাক্তার বলেন, রোগীর সংখ্যা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সার্জন তাদের হাসপাতালে নেই। তিনি জানান, বহু আহতের মাথা ও চোখে গুলির ক্ষত রয়েছে, যা সামাল দেওয়ার মতো প্রস্তুতি হাসপাতালগুলোর নেই।

 

এদিকে কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ায় পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফানি দুজারিক নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর শিশুসহ অন্তত ৫০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে এবং দুই হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ইরানি পুলিশ শুক্রবার তেহরানে কোনো মৃত্যুর ঘটনা অস্বীকার করলেও ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ও সম্পত্তি ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছে।

অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অসন্তোষের জেরে ইরানের ডজনখানেক শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় নেতারা তেহরানকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।