ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উত্তর আরব সাগরে বিধ্বংসী অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালালো পাকিস্তান নৌবাহিনী

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১২:২১:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৩০ বার পড়া হয়েছে

উত্তর আরব সাগরে একটি বিস্তৃত সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে সমুদ্র থেকে ভূমি-থেকে-আকাশে (সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল) সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দেশটির সামরিক বাহিনীর মিডিয়া শাখা আইএসপিআর এ তথ্য জানিয়েছে।

 

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, পরিবর্তনশীল নৌযুদ্ধের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাকিস্তান নৌবাহিনী উত্তর আরব সাগরে একটি “কমপ্রিহেনসিভ এক্সারসাইজ” পরিচালনা করে। এই মহড়ার মাধ্যমে নৌবাহিনী তাদের কার্যকরী প্রস্তুতি ও যুদ্ধ সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, যেখানে প্রচলিত যুদ্ধ ব্যবস্থার পাশাপাশি মানববিহীন প্রযুক্তির ব্যবহারও দেখানো হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মহড়ার অংশ হিসেবে ভার্টিক্যাল লঞ্চিং সিস্টেম থেকে এলওয়াই-৮০ (এন) সারফেস-টু-এয়ার মিসাইলের সফল লাইভ ফায়ারিং সম্পন্ন হয়েছে। বর্ধিত পাল্লায় পরিচালিত এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে পাকিস্তান নৌবাহিনীর আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘপাল্লার সক্ষমতা যাচাইও নিশ্চিত করা হয়।

 

উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে আকাশে থাকা লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তান নৌবাহিনীর শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে।

 

এছাড়া মহড়ায় লয়টারিং মিউনিশনের মাধ্যমে সমুদ্রপৃষ্ঠের লক্ষ্যবস্তুতে সফল আঘাত হানা হয়। মহড়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল একটি মানববিহীন সারফেস ভেসেলের (ইউএসভি) সফল ওপেন-সি ট্রায়াল। আইএসপিআর জানায়, এই পরীক্ষার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় নৌপ্রযুক্তিতে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ট্রায়ালগুলোতে প্ল্যাটফর্মটির উচ্চগতির পারফরম্যান্স এবং গুরুত্বপূর্ণ মিশনে টিকে থাকার সক্ষমতা যাচাই করা হয়।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রদর্শিত মূল সক্ষমতাগুলোর মধ্যে ছিল চরম কৌশলগত চালচলন এবং নিখুঁত নেভিগেশন ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা। আইএসপিআর উল্লেখ করেছে, এই মানববিহীন সারফেস ভেসেল কম ঝুঁকিতে উচ্চ প্রভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম এবং এটি একটি ট্যাকটিক্যাল ইন্টারসেপ্টরের মতো গোপনীয়তা প্রদান করে।

মহড়া শেষে নৌবাহিনীর প্রধান (চিফ অব নেভাল স্টাফ) অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ এতে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা ও সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও অপারেশনাল দক্ষতার প্রশংসা করেন। তিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সমুদ্রসীমা রক্ষা এবং জাতীয় সামুদ্রিক স্বার্থ সুরক্ষায় পাকিস্তান নৌবাহিনীর অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

১৬ বছর পর হাতে এলো অর্ডার করা মোবাইল ফোন

উত্তর আরব সাগরে বিধ্বংসী অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালালো পাকিস্তান নৌবাহিনী

আপডেট সময় ১২:২১:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

উত্তর আরব সাগরে একটি বিস্তৃত সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে সমুদ্র থেকে ভূমি-থেকে-আকাশে (সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল) সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দেশটির সামরিক বাহিনীর মিডিয়া শাখা আইএসপিআর এ তথ্য জানিয়েছে।

 

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, পরিবর্তনশীল নৌযুদ্ধের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাকিস্তান নৌবাহিনী উত্তর আরব সাগরে একটি “কমপ্রিহেনসিভ এক্সারসাইজ” পরিচালনা করে। এই মহড়ার মাধ্যমে নৌবাহিনী তাদের কার্যকরী প্রস্তুতি ও যুদ্ধ সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, যেখানে প্রচলিত যুদ্ধ ব্যবস্থার পাশাপাশি মানববিহীন প্রযুক্তির ব্যবহারও দেখানো হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মহড়ার অংশ হিসেবে ভার্টিক্যাল লঞ্চিং সিস্টেম থেকে এলওয়াই-৮০ (এন) সারফেস-টু-এয়ার মিসাইলের সফল লাইভ ফায়ারিং সম্পন্ন হয়েছে। বর্ধিত পাল্লায় পরিচালিত এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে পাকিস্তান নৌবাহিনীর আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘপাল্লার সক্ষমতা যাচাইও নিশ্চিত করা হয়।

 

উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে আকাশে থাকা লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানায় সংস্থাটি। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তান নৌবাহিনীর শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে।

 

এছাড়া মহড়ায় লয়টারিং মিউনিশনের মাধ্যমে সমুদ্রপৃষ্ঠের লক্ষ্যবস্তুতে সফল আঘাত হানা হয়। মহড়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল একটি মানববিহীন সারফেস ভেসেলের (ইউএসভি) সফল ওপেন-সি ট্রায়াল। আইএসপিআর জানায়, এই পরীক্ষার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় নৌপ্রযুক্তিতে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ট্রায়ালগুলোতে প্ল্যাটফর্মটির উচ্চগতির পারফরম্যান্স এবং গুরুত্বপূর্ণ মিশনে টিকে থাকার সক্ষমতা যাচাই করা হয়।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রদর্শিত মূল সক্ষমতাগুলোর মধ্যে ছিল চরম কৌশলগত চালচলন এবং নিখুঁত নেভিগেশন ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় কার্যক্রম চালানোর সক্ষমতা। আইএসপিআর উল্লেখ করেছে, এই মানববিহীন সারফেস ভেসেল কম ঝুঁকিতে উচ্চ প্রভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম এবং এটি একটি ট্যাকটিক্যাল ইন্টারসেপ্টরের মতো গোপনীয়তা প্রদান করে।

মহড়া শেষে নৌবাহিনীর প্রধান (চিফ অব নেভাল স্টাফ) অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফ এতে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা ও সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও অপারেশনাল দক্ষতার প্রশংসা করেন। তিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সমুদ্রসীমা রক্ষা এবং জাতীয় সামুদ্রিক স্বার্থ সুরক্ষায় পাকিস্তান নৌবাহিনীর অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।