ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান রবিবার বলেছেন, ‘দাঙ্গাকারীদের’ সমাজ অস্থিতিশীল করতে দেওয়া উচিত হবে না। টানা তিন রাত ধরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র হওয়ার পর এটিই তার প্রথম মন্তব্য।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া ইরানের বিক্ষোভ দুই সপ্তাহ ধরে চলছে এবং ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত ধর্মতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও এটি একটি আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রবিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘প্রতিবাদ করা জনগণের অধিকার’। তবে তিনি বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদে থাকা বলে অভিযোগ করা ‘দাঙ্গাকারীদের’ সঙ্গে দেশের ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জনঅসন্তোষের মধ্যে পার্থক্য টানেন।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে তিনি বলেন, ‘ইরানের জনগণের উচিত দাঙ্গাকারীদের সমাজ অস্থিতিশীল করতে না দেওয়া। জনগণের বিশ্বাস রাখা উচিত যে আমরা (সরকার) ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’
পেজেশকিয়ান ইরানিদের আহ্বান জানান, ‘একত্রিত হন এবং এই লোকদের রাস্তায় দাঙ্গা করতে দেবেন না।’
তিনি বলেন, ‘মানুষের কোনো উদ্বেগ থাকলে আমরা তা শুনব। শোনা এবং সমস্যা সমাধান করা আমাদের দায়িত্ব। তবে আমাদের সর্বোচ্চ দায়িত্ব হলো দাঙ্গাকারীদের এসে সমাজ অস্থিতিশীল করতে না দেওয়া।’
সাম্প্রতিক দিনে দেশজুড়ে বড় জমায়েত হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাণঘাতী দমনাভিযান আড়াল করতেই ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতেও বিক্ষোভকারীরা সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে। পেজেশকিয়ান অভিযোগ করে বলেন, ‘অর্থনৈতিক আলোচনা ও আমরা যে সমাধান নিয়ে কাজ করছি, তার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই অস্থিরতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’
মসজিদে আগুন দেওয়াদের ‘অমানুষ’ বলে অভিহিত করে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘তারা ভেতরে ও বাইরে থেকে কিছু মানুষকে বাছাই করে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তারা বিদেশ থেকে সন্ত্রাসীদের দেশে এনেছে ‘
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার দেশ বিক্ষোভকারীদের ‘সহায়তায় প্রস্তুত’ এবং ইরানি কর্তৃপক্ষ ‘মানুষ হত্যা শুরু করলে’ নতুন সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন।




















