ঢাকা ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশের চাবি জনগণের হাতে, দরজাটা খুললে অপরিসীম সম্ভাবনা: আলী রীয়াজ

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৯:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫১৭ বার পড়া হয়েছে

সবাইকে গণভোটে অংশ নেওয়া এবং অন্যদের উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ। তিনি বলেছেন, ‘দেশের চাবি জনগণের হাতে। দরজাটা খুললে সামনে অপরিসীম সম্ভাবনা। গণভোটের পাশে টিক চিহ্ন দিন।’

 

আজ সোমবার বিকেলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী মিলনায়তনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় রাজশাহী বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মিলনায়তনের বাইরে ছিল ১২টি স্টল। এসব স্টল থেকে গণভোটের ব্যাপারে নানা ধরনের লিফলেট ও পুস্তিকা বিতরণ করা হয়।

২০২৬ সালের গণভোট কোনো সরকারকে ক্ষমতায় রাখার বা সরানোর প্রশ্ন নয় উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে আলী রিয়াজ বলেন, এটি আগামী ১০-১৫ বছরের জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামো নির্ধারণের সিদ্ধান্ত। জনগণের সম্মতির মাধ্যমেই একটি জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

আলী রীয়াজ আরও বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাঙালি যে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিল, পাকিস্তান রাষ্ট্রকাঠামোর ভেতরে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তাই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হয়। সংবিধানে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়ের অঙ্গীকার থাকলেও গত ৫৪ বছরে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যায়নি। বিশেষ করে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কে তিনি ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও কার্যত একনায়কতান্ত্রিক শাসনের সময় হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট সেই ভাঙা প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের একটি সুযোগ। এই গণভোট ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে জনগণের সম্মতি নেওয়ার প্রক্রিয়া। বাংলাদেশে ৩৫ বছর গণভোট হয়নি। আর বর্তমান ভোটারের বড় একটি অংশ কখনো গণভোট দেখেননি। তাই জনগণকে এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বোঝানো জরুরি।

আলী রীয়াজ আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ কোনো দলের ইশতেহার নয়। গণভোটের মাধ্যমে এটি সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি পাবে। গণভোট পাস হলে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।

সভায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, রাজশাহী পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস এম আবদুর রাজ্জাক। সভা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ বেতার রাজশাহীর ধারাভাষ্যকার আবদুর রোকন মাসুম।

এর আগে সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী হজরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আলী রীয়াজ। রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বছরের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল ভারত

দেশের চাবি জনগণের হাতে, দরজাটা খুললে অপরিসীম সম্ভাবনা: আলী রীয়াজ

আপডেট সময় ০৯:২৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

সবাইকে গণভোটে অংশ নেওয়া এবং অন্যদের উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ। তিনি বলেছেন, ‘দেশের চাবি জনগণের হাতে। দরজাটা খুললে সামনে অপরিসীম সম্ভাবনা। গণভোটের পাশে টিক চিহ্ন দিন।’

 

আজ সোমবার বিকেলে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী মিলনায়তনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় রাজশাহী বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মিলনায়তনের বাইরে ছিল ১২টি স্টল। এসব স্টল থেকে গণভোটের ব্যাপারে নানা ধরনের লিফলেট ও পুস্তিকা বিতরণ করা হয়।

২০২৬ সালের গণভোট কোনো সরকারকে ক্ষমতায় রাখার বা সরানোর প্রশ্ন নয় উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে আলী রিয়াজ বলেন, এটি আগামী ১০-১৫ বছরের জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামো নির্ধারণের সিদ্ধান্ত। জনগণের সম্মতির মাধ্যমেই একটি জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্র গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

আলী রীয়াজ আরও বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাঙালি যে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিল, পাকিস্তান রাষ্ট্রকাঠামোর ভেতরে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তাই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হয়। সংবিধানে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়ের অঙ্গীকার থাকলেও গত ৫৪ বছরে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যায়নি। বিশেষ করে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কে তিনি ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও কার্যত একনায়কতান্ত্রিক শাসনের সময় হিসেবে উল্লেখ করেন।

 

আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট সেই ভাঙা প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের একটি সুযোগ। এই গণভোট ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে জনগণের সম্মতি নেওয়ার প্রক্রিয়া। বাংলাদেশে ৩৫ বছর গণভোট হয়নি। আর বর্তমান ভোটারের বড় একটি অংশ কখনো গণভোট দেখেননি। তাই জনগণকে এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বোঝানো জরুরি।

আলী রীয়াজ আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ কোনো দলের ইশতেহার নয়। গণভোটের মাধ্যমে এটি সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি পাবে। গণভোট পাস হলে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।

সভায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, রাজশাহী পুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. জিল্লুর রহমান, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস এম আবদুর রাজ্জাক। সভা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ বেতার রাজশাহীর ধারাভাষ্যকার আবদুর রোকন মাসুম।

এর আগে সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী হজরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আলী রীয়াজ। রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।