অভিযান চালিয়ে চীনের অন্যতম বৃহৎ এক আন্ডারগ্রাউন্ড চার্চের বেশ কয়েকজন পাদ্রিকে আটক করেছে পুলিশ। দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের আর্লি রেইন কভেনেন্ট চার্চের নেতা লি ইংচিয়াংকে ডেয়াং শহরে তার বাসা থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গির্জার বিবৃতির অনুযায়ী, এটি দেশজুড়ে নিবন্ধনবিহীন খ্রিস্টান গোষ্ঠীগুলোর ওপর চলমান ব্যাপক দমন অভিযানের সর্বশেষ আঘাত বলে মনে হচ্ছে। বিবিসি , রয়টার্স।
চীনে আন্ডারগ্রাউন্ড চার্চ বলতে বোঝানো হয়, সেসব ক্যাথলিক চার্চকে, যারা রাষ্ট্র অনুমোদিত ক্যাথলিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়।
আর্লি রেইন কভেনেন্ট চার্চ জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার পুলিশ তাদের অফিস এবং নেতাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে আটক করে। এর মধ্যে ৫ জনকে পরবর্তীতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তবে চার জন- যার মধ্যে চার্চের নেতা লি ইয়িংচিয়াং এবং তার স্ত্রী রয়েছেন – তারা এখনও রিমান্ডে আছেন।
এই দমন অভিযানটি আরেকটি প্রভাবশালী আন্ডারগ্রাউন্ড গির্জা—জায়ন চার্চের ১৮ জন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে গ্রেফতারের পর থেকে শুরু হয়, যা গত অক্টোবর মাসে দেশব্যাপী এক অভিযানের অংশ ছিল।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে ঝেজিয়াং প্রদেশের আরেকটি অবৈধ গির্জার প্রায় ১০০ জন সদস্যকেও আটক করার খবর পাওয়া গেছে।
অধিকার সংস্থা এনজিও-র চীন গবেষক ইয়ালকুন উলুযোল বলেছেন, আর্লি রেইন চার্চের সদস্যদের সাম্প্রতিক গ্রেফতার চীনে ঘরোয়া গির্জার ওপর সরকারের স্পষ্ট আক্রমণের অংশ। বেইজিং তার আদর্শগত নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ি করছে, নিবন্ধনবিহীন গির্জাগুলোকে কমিউনিস্ট পার্টির আদর্শের ‘অবাধ্য’ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এর ফলে তারা কঠিন মূল্য প্রদান করছে।
ওয়েনঝু শহরকে প্রায়শই চীনের জেরুজালেম বলা হয়, কারণ এখানে খ্রিস্টানদের সংখ্যা অনেক। ডিসেম্বর মাসে ইয়াইয়াং চার্র এর প্রায় ১০০ সদস্যকে আটক করা হয়েছিল, যার মধ্যে এখনও কয়েকজন আটক রয়েছে।
গত বছরও চীনের অন্যান্য শহরে বড় বড় গোপন চার্চের নেতাদের আটক করা হয়েছিল।




















