ঢাকা ০১:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সহায়তা দিতে অপারগ যুক্তরাষ্ট্র!

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৯:৫৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৩৪ বার পড়া হয়েছে

ইরানজুড়ে চলমান অস্থিরতা ও সহিংস পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ায় দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১২ জানুয়ারি) মার্কিন দূতাবাস এক নিরাপত্তা সতর্কতায় স্পষ্টভাবে জানায়, “এখনই ইরান ত্যাগ করুন।” সতর্কবার্তায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সরকার কোনো ধরনের সহায়তা দিতে পারবে না। এমন অবস্থায় নাগরিকদের নিজ উদ্যোগেই দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করতে হবে।

 

সতর্কতায় আরও বলা হয়েছে, যারা কোনো কারণে ইরান ছাড়তে পারছেন না, তারা যেন নিজেদের বাসভবনের ভেতরে অথবা অন্য কোনো নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নেন। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের ইন্টারনেট বিভ্রাট অব্যাহত থাকার জন্য প্রস্তুত থাকতে, বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা ঠিক করে রাখতে এবং পরিস্থিতি নিরাপদ মনে হলে আর্মেনিয়া বা তুরস্ক হয়ে স্থলপথে ইরান ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বৈত নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করে বলা হয়েছে, ইরান ত্যাগের সময় তাদের অবশ্যই ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। কারণ, ইরান সরকার দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকার করে না এবং দ্বৈত নাগরিকদের কেবল ইরানি নাগরিক হিসেবেই বিবেচনা করে। সতর্কবার্তায় বলা হয়, মার্কিন পাসপোর্ট প্রদর্শন বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণই ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে কাউকে আটক করার জন্য যথেষ্ট কারণ হতে পারে।

 

এদিকে, ইরানের পরিস্থিতি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও উত্তেজনা বাড়ছে। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের বিরুদ্ধে আবারও হুঁশিয়ারি দেন। তবে ট্রাম্প এটাও বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক পথের সম্ভাবনাও তিনি পুরোপুরি নাকচ করছেন না।

 

মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, সোমবার ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে ব্রিফ করা হয়েছে, যেখানে প্রচলিত সামরিক বিমান হামলার বাইরে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও রয়েছে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে দুই পেন্টাগন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, এসব বিকল্পের মধ্যে সাইবার অভিযান ও মনস্তাত্ত্বিক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যার মাধ্যমে ইরানের কমান্ড কাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব সাইবার ও মনস্তাত্ত্বিক অভিযান আলাদাভাবে বা একযোগে চালানো হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। হোয়াইট হাউসে মঙ্গলবার ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দলের বৈঠকে ইরান সংক্রান্ত হালনাগাদ বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

 

এর আগে রোববার ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন ইরানের পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং চলমান বিক্ষোভে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে থাকায় “খুব শক্ত বিকল্প” বিবেচনায় রয়েছে। তিনি জানান, ইরান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি প্রতি ঘণ্টায় প্রতিবেদন পাচ্ছেন এবং উপযুক্ত সময়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হ্যাঁ ভোটে বিজয় এলে সাংবাদিকদের দিকে কেউ চোখ রাঙাতে পারবে না: মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

ইরানে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সহায়তা দিতে অপারগ যুক্তরাষ্ট্র!

আপডেট সময় ০৯:৫৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানজুড়ে চলমান অস্থিরতা ও সহিংস পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ায় দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১২ জানুয়ারি) মার্কিন দূতাবাস এক নিরাপত্তা সতর্কতায় স্পষ্টভাবে জানায়, “এখনই ইরান ত্যাগ করুন।” সতর্কবার্তায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সরকার কোনো ধরনের সহায়তা দিতে পারবে না। এমন অবস্থায় নাগরিকদের নিজ উদ্যোগেই দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করতে হবে।

 

সতর্কতায় আরও বলা হয়েছে, যারা কোনো কারণে ইরান ছাড়তে পারছেন না, তারা যেন নিজেদের বাসভবনের ভেতরে অথবা অন্য কোনো নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নেন। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের ইন্টারনেট বিভ্রাট অব্যাহত থাকার জন্য প্রস্তুত থাকতে, বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা ঠিক করে রাখতে এবং পরিস্থিতি নিরাপদ মনে হলে আর্মেনিয়া বা তুরস্ক হয়ে স্থলপথে ইরান ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বৈত নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করে বলা হয়েছে, ইরান ত্যাগের সময় তাদের অবশ্যই ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে। কারণ, ইরান সরকার দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকার করে না এবং দ্বৈত নাগরিকদের কেবল ইরানি নাগরিক হিসেবেই বিবেচনা করে। সতর্কবার্তায় বলা হয়, মার্কিন পাসপোর্ট প্রদর্শন বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণই ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে কাউকে আটক করার জন্য যথেষ্ট কারণ হতে পারে।

 

এদিকে, ইরানের পরিস্থিতি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও উত্তেজনা বাড়ছে। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের বিরুদ্ধে আবারও হুঁশিয়ারি দেন। তবে ট্রাম্প এটাও বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে কূটনৈতিক পথের সম্ভাবনাও তিনি পুরোপুরি নাকচ করছেন না।

 

মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, সোমবার ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে ব্রিফ করা হয়েছে, যেখানে প্রচলিত সামরিক বিমান হামলার বাইরে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও রয়েছে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে দুই পেন্টাগন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, এসব বিকল্পের মধ্যে সাইবার অভিযান ও মনস্তাত্ত্বিক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যার মাধ্যমে ইরানের কমান্ড কাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব সাইবার ও মনস্তাত্ত্বিক অভিযান আলাদাভাবে বা একযোগে চালানো হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। হোয়াইট হাউসে মঙ্গলবার ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দলের বৈঠকে ইরান সংক্রান্ত হালনাগাদ বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

 

এর আগে রোববার ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন ইরানের পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং চলমান বিক্ষোভে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে থাকায় “খুব শক্ত বিকল্প” বিবেচনায় রয়েছে। তিনি জানান, ইরান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি প্রতি ঘণ্টায় প্রতিবেদন পাচ্ছেন এবং উপযুক্ত সময়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানান তিনি।