ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হুমকি-ধামকিতে মাথা নত করবে না ইউরোপ: ট্রাম্পের হুমকির জবাবে মাক্রোঁ

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৪:১২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫১৬ বার পড়া হয়েছে

এবার ইউরোপ কোনো ধরনের হুমকি, ভয়ভীতি বা জবরদস্তির কাছে নতি স্বীকার করবে না—এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। গ্রিনল্যান্ড দখলের অনুমতি না দিলে ইউরোপের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) মঞ্চ থেকে এসব কথা বলেন মাক্রোঁ।

মাক্রোঁ বলেন, “আমরা জবরদস্তিকারীদের চেয়ে সম্মানকে এবং পাশবিক শক্তির চেয়ে আইনের শাসনকে বেশি প্রাধান্য দিই।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপ ‘শক্তিশালী পক্ষের আইন’ নিষ্ক্রিয়ভাবে মেনে নেবে না। তা করলে ইউরোপকে কার্যত পরাধীন বা ‘ভ্যাসাল’ রাষ্ট্রে পরিণত হতে হবে। ইউরোপ যখন একটি নিয়মবিহীন বৈশ্বিক ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে, তখনও আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ও আইনের শাসনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে বলে জানান তিনি।

মাক্রোঁ ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পাল্টা কঠোর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। তিনি ইইউর তথাকথিত ‘অ্যান্টি-কোয়ার্সন ইনস্ট্রুমেন্ট’ ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেন, যা অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘ট্রেড বাজুকা’ নামে পরিচিত। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সরকারি টেন্ডারে প্রবেশাধিকার সীমিত করা বা প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মসহ পরিষেবা খাতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

মাক্রোঁ বলেন, “ওয়াশিংটনের নতুন নতুন শুল্ক আরোপের এই অন্তহীন প্রবণতা মৌলিকভাবে অগ্রহণযোগ্য—বিশেষ করে যখন এগুলো আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।” গত শনিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্রান্সসহ কয়েকটি ইউরোপীয় মিত্র দেশের ওপর ক্রমবর্ধমান হারে শুল্ক আরোপ করা হবে। গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলবে বলেও জানান তিনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান দেশগুলো এ পদক্ষেপকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ বা অনৈতিক চাপ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। এ ইস্যুতে জরুরি আলোচনার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা আগামী বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে এক বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে বসবেন। ট্রাম্প সম্প্রতি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাক্রোঁর পাঠানো ব্যক্তিগত বার্তার স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন, যা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের গুরুতর লঙ্ঘন বলে মনে করছেন ফরাসি কর্মকর্তারা। ওই বার্তায় মাক্রোঁ ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিভ্রান্তির কথা জানান এবং একটি জি-৭ সম্মেলনের প্রস্তাব দেন বলে জানা গেছে।

মাক্রোঁ নিশ্চিত করেছেন, ট্রাম্প দাভোসে উপস্থিত থাকলেও তার সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, “আমাকে আমার সময়সূচি পরিবর্তন করতে হবে না। এই সফরসূচি অনেক আগেই নির্ধারিত ছিল।” ২০১৭ সাল থেকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মাক্রোঁর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক শুরু থেকেই চড়াই-উতরাইপূর্ণ। কখনো সৌহার্দ্য, কখনো প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব—এই দুই নেতার সম্পর্ক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বহুবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে। মাক্রোঁর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তিনি ট্রাম্পের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপিতে যোগ দিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ

হুমকি-ধামকিতে মাথা নত করবে না ইউরোপ: ট্রাম্পের হুমকির জবাবে মাক্রোঁ

আপডেট সময় ০৪:১২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

এবার ইউরোপ কোনো ধরনের হুমকি, ভয়ভীতি বা জবরদস্তির কাছে নতি স্বীকার করবে না—এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। গ্রিনল্যান্ড দখলের অনুমতি না দিলে ইউরোপের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) মঞ্চ থেকে এসব কথা বলেন মাক্রোঁ।

মাক্রোঁ বলেন, “আমরা জবরদস্তিকারীদের চেয়ে সম্মানকে এবং পাশবিক শক্তির চেয়ে আইনের শাসনকে বেশি প্রাধান্য দিই।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপ ‘শক্তিশালী পক্ষের আইন’ নিষ্ক্রিয়ভাবে মেনে নেবে না। তা করলে ইউরোপকে কার্যত পরাধীন বা ‘ভ্যাসাল’ রাষ্ট্রে পরিণত হতে হবে। ইউরোপ যখন একটি নিয়মবিহীন বৈশ্বিক ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে, তখনও আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ও আইনের শাসনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখবে বলে জানান তিনি।

মাক্রোঁ ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পাল্টা কঠোর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। তিনি ইইউর তথাকথিত ‘অ্যান্টি-কোয়ার্সন ইনস্ট্রুমেন্ট’ ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেন, যা অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘ট্রেড বাজুকা’ নামে পরিচিত। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সরকারি টেন্ডারে প্রবেশাধিকার সীমিত করা বা প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মসহ পরিষেবা খাতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

মাক্রোঁ বলেন, “ওয়াশিংটনের নতুন নতুন শুল্ক আরোপের এই অন্তহীন প্রবণতা মৌলিকভাবে অগ্রহণযোগ্য—বিশেষ করে যখন এগুলো আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।” গত শনিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্রান্সসহ কয়েকটি ইউরোপীয় মিত্র দেশের ওপর ক্রমবর্ধমান হারে শুল্ক আরোপ করা হবে। গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলবে বলেও জানান তিনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান দেশগুলো এ পদক্ষেপকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ বা অনৈতিক চাপ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। এ ইস্যুতে জরুরি আলোচনার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা আগামী বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে এক বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে বসবেন। ট্রাম্প সম্প্রতি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাক্রোঁর পাঠানো ব্যক্তিগত বার্তার স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন, যা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের গুরুতর লঙ্ঘন বলে মনে করছেন ফরাসি কর্মকর্তারা। ওই বার্তায় মাক্রোঁ ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিভ্রান্তির কথা জানান এবং একটি জি-৭ সম্মেলনের প্রস্তাব দেন বলে জানা গেছে।

মাক্রোঁ নিশ্চিত করেছেন, ট্রাম্প দাভোসে উপস্থিত থাকলেও তার সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, “আমাকে আমার সময়সূচি পরিবর্তন করতে হবে না। এই সফরসূচি অনেক আগেই নির্ধারিত ছিল।” ২০১৭ সাল থেকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মাক্রোঁর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক শুরু থেকেই চড়াই-উতরাইপূর্ণ। কখনো সৌহার্দ্য, কখনো প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব—এই দুই নেতার সম্পর্ক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বহুবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে। মাক্রোঁর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তিনি ট্রাম্পের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন।