ঢাকা ০১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানের মতো হিজাব আইন, সাধারণ মানুষ চাইলে সমর্থন করবে জামায়াত

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৯:৩০:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫১৯ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রলকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এতে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। এরমধ্যে একটি প্রশ্ন ছিল— অনেক বাংলাদেশির ভয় যদি জামায়াত ক্ষমতায় আসে, তাহলে বর্তমানে তাদের যে জীবনযাত্রা রয়েছে সেটি পরিবর্তন হয়ে যাবে। জামায়াত নৈতিকতার পুলিশিং করবে। তারা হয়ত নারীদের ওপর হিজাব চাপিয়ে দেবে। এ ব্যাপারে আপনার জবাব কি?

জবাবে জামায়াতের এ নেতা বলেন, “এটি সঠিক নয়। এর বদলে আমাদের নারীরা সবচেয়ে নিরাপদ পরিবেশ পাবেন। তারা সম্মান ও মর্যাদা পাবেন। নাগরিক হিসেবে তাদের অধিকার সুরক্ষা করা হবে। আমাদের আমির প্রস্তাব দিয়েছেন যেসব মায়ের শিশু সন্তান রয়েছে তারা কম সময় কাজ করবেন। কিন্তু সরকারি তহবিলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বেতন পাবেন। আমাদের তৈরি পোশাক খাতে ৫০ লাখের বেশি নারী কাজ করেন। কিন্তু তাদের জন্য কোনো নিরাপদ পরিবেশ নেই। তাদের শিশু সন্তানদের জন্য কোনো ডে কেয়ার নেই। তাদের ব্যাপারে কেউ ভাবেন না। ফলে বাধ্য হয়ে নিজেদের শিশুদের তারা ফ্যাক্টরিতে নিয়ে আসেন। নারীদের জন্য আমাদের নীতিগুলো বৈজ্ঞানিক, মানবিক এবং বাস্তববাদী।”

ক্ষমতায় আসলে হিজাব নিয়ে কী নীতি হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে জুবায়ের বলেন, “নারীরা যেটি পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন, তারা যেটিকে মনে করবেন তাদের জন্য মানানসই, তারা সেটিই পরবেন। আমরা কারও ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেব না। একজন নারী হিজাব পরতে পারেন, আরেকজন চাইলে না পরতে পারবেন। এক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাপ আসবে না। একজন নারী তার স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং শিক্ষা অনুযায়ী পোশাক নির্ধারণ করবেন। কোনটি ভালো, কোনটি খারাপ, সে সিদ্ধান্ত তিনি নেবেন।”

ইরানে বাধ্যতামূলকভাবে হিজাব পরার আইন রয়েছে। আপনি কি এটি ভুল মনে করেন? জবাবে তিনি বলেন, “আমি বলছি না এটি ভুল। প্রত্যেক দেশের আলাদা আইন আছে, নীতি আছে। সাধারণ মানুষের সমর্থন অনুযায়ী এগুলো করা হয়েছে। বাংলাদেশ তার সংবিধান অনুযায়ী চলে। ভারত তার সংবিধান অনুযায়ী চলে। ইরান তার সংবিধান অনুযায়ী চলে। সৌদি আরবের নিজস্ব আইন আছে।”

যদি একদিন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানুষ হিজাব (আইন) চায়? জবাবে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ যদি ভবিষ্যতে হিজাব আইন চায়, আমরা এটি করব। এটি কেন একটি সমস্যা হবে। যদি মানুষ চায় আমরা এটি করব। কেন নয়? বাংলাদেশে ইসলামিক দল আছে, আবার সঙ্গে কমিউনিস্ট পার্টিও আছে। তারা সমাজতন্ত্র কায়েম করতে চায়। যদি মানুষ সমাজতন্ত্র চায়, তাহলে সমাজতন্ত্র হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমাজতন্ত্র হয়েছে। হয়নি কি? অনেক মুসলিম প্রধান দেশে সমাজতন্ত্র আছে? নাকি নেই? এটি হলো গণতন্ত্রের সৌন্দয্য। মানুষ চিন্তাশক্তি, বুদ্ধি ও বিচার দিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা সেটিকে সম্মান জানাব।” সূত্র: স্ক্রল

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউনিফর্মে থাকাকালীন নির্বাচনে কোনও পক্ষপাতিত্ব করা যাবে না: বিমানবাহিনী প্রধান

ইরানের মতো হিজাব আইন, সাধারণ মানুষ চাইলে সমর্থন করবে জামায়াত

আপডেট সময় ০৯:৩০:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রলকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এতে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। এরমধ্যে একটি প্রশ্ন ছিল— অনেক বাংলাদেশির ভয় যদি জামায়াত ক্ষমতায় আসে, তাহলে বর্তমানে তাদের যে জীবনযাত্রা রয়েছে সেটি পরিবর্তন হয়ে যাবে। জামায়াত নৈতিকতার পুলিশিং করবে। তারা হয়ত নারীদের ওপর হিজাব চাপিয়ে দেবে। এ ব্যাপারে আপনার জবাব কি?

জবাবে জামায়াতের এ নেতা বলেন, “এটি সঠিক নয়। এর বদলে আমাদের নারীরা সবচেয়ে নিরাপদ পরিবেশ পাবেন। তারা সম্মান ও মর্যাদা পাবেন। নাগরিক হিসেবে তাদের অধিকার সুরক্ষা করা হবে। আমাদের আমির প্রস্তাব দিয়েছেন যেসব মায়ের শিশু সন্তান রয়েছে তারা কম সময় কাজ করবেন। কিন্তু সরকারি তহবিলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বেতন পাবেন। আমাদের তৈরি পোশাক খাতে ৫০ লাখের বেশি নারী কাজ করেন। কিন্তু তাদের জন্য কোনো নিরাপদ পরিবেশ নেই। তাদের শিশু সন্তানদের জন্য কোনো ডে কেয়ার নেই। তাদের ব্যাপারে কেউ ভাবেন না। ফলে বাধ্য হয়ে নিজেদের শিশুদের তারা ফ্যাক্টরিতে নিয়ে আসেন। নারীদের জন্য আমাদের নীতিগুলো বৈজ্ঞানিক, মানবিক এবং বাস্তববাদী।”

ক্ষমতায় আসলে হিজাব নিয়ে কী নীতি হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে জুবায়ের বলেন, “নারীরা যেটি পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন, তারা যেটিকে মনে করবেন তাদের জন্য মানানসই, তারা সেটিই পরবেন। আমরা কারও ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেব না। একজন নারী হিজাব পরতে পারেন, আরেকজন চাইলে না পরতে পারবেন। এক্ষেত্রে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাপ আসবে না। একজন নারী তার স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং শিক্ষা অনুযায়ী পোশাক নির্ধারণ করবেন। কোনটি ভালো, কোনটি খারাপ, সে সিদ্ধান্ত তিনি নেবেন।”

ইরানে বাধ্যতামূলকভাবে হিজাব পরার আইন রয়েছে। আপনি কি এটি ভুল মনে করেন? জবাবে তিনি বলেন, “আমি বলছি না এটি ভুল। প্রত্যেক দেশের আলাদা আইন আছে, নীতি আছে। সাধারণ মানুষের সমর্থন অনুযায়ী এগুলো করা হয়েছে। বাংলাদেশ তার সংবিধান অনুযায়ী চলে। ভারত তার সংবিধান অনুযায়ী চলে। ইরান তার সংবিধান অনুযায়ী চলে। সৌদি আরবের নিজস্ব আইন আছে।”

যদি একদিন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানুষ হিজাব (আইন) চায়? জবাবে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ যদি ভবিষ্যতে হিজাব আইন চায়, আমরা এটি করব। এটি কেন একটি সমস্যা হবে। যদি মানুষ চায় আমরা এটি করব। কেন নয়? বাংলাদেশে ইসলামিক দল আছে, আবার সঙ্গে কমিউনিস্ট পার্টিও আছে। তারা সমাজতন্ত্র কায়েম করতে চায়। যদি মানুষ সমাজতন্ত্র চায়, তাহলে সমাজতন্ত্র হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমাজতন্ত্র হয়েছে। হয়নি কি? অনেক মুসলিম প্রধান দেশে সমাজতন্ত্র আছে? নাকি নেই? এটি হলো গণতন্ত্রের সৌন্দয্য। মানুষ চিন্তাশক্তি, বুদ্ধি ও বিচার দিয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা সেটিকে সম্মান জানাব।” সূত্র: স্ক্রল