ঢাকা ০১:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ারকে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন রমেশ চন্দ্রের স্ত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:২৪:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫১৯ বার পড়া হয়েছে

এবার ঠাকুরগাঁও১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে জেলাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। তার প্রয়াণে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সাবেক এই সংসদ সদস্যের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে শেষবারের মতো তাকে দেখতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়ার গ্রামের বাড়িতে ছুটে যান কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও১ আসনের জামায়াতের দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন। সেখানে তিনি মরহুমের সহধর্মিণী অঞ্জলি রানী সেনকে সান্ত্বনা দেন এবং কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন।

এ সময় দেলাওয়ার হোসেনকে কাছে পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন অঞ্জলি রানী সেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘তুমি এসেছ বাবা। আমার আর কেউ নাই।তিনি আরও বলেন, নির্বাচনটা পর্যন্ত থাকলো না। কাল সন্ধ্যায় পরিবারের লোকজন বলেছিল আলমগীরের (বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) কাছে তোমরা যাও। লোকটাকে (রমেশ চন্দ্র সেন) যেন একটু ছেড়ে দেয়। তারপর তোমার বোন আর বোন জামাই এসেছিল। তাদের কেউ আমি বলেছি দেলাওয়ার আসুক তাকেও বলব। এসময় জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন অঞ্জলি রানী সেনকে পানি খাইয়ে দেন।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁও একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারাল। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছেন। আজ শোকাহত পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ানোকে আমি আমার নৈতিক দায়িত্ব মনে করেছি। মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং তার সহধর্মিণীসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। রমেশ চন্দ্র সেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

এর আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রমেশ চন্দ্র সেন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কারা সূত্রে জানা গেছে, সকালে ঘুম থেকে উঠে দৈনন্দিন কাজ শেষে নাস্তা করার পর তিনি ওয়ার্ডের ওয়াশরুমে যান। গোসলের প্রস্তুতিকালে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গেলে কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে ১৬ আগস্ট রাতে সদর উপজেলার রুহিয়া সেনপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করে। আদালতের মাধ্যমে প্রথমে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে এবং পরদিন দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন। রমেশ চন্দ্র সেন ১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের কশালগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ক্ষিতীন্দ্র মোহন সেন ও মাতা বালাশ্বরী সেন। তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজে পড়াশোনা করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে দলীয় মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছর ছাত্রজনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত হলে তার সংসদ সদস্য পদ শেষ হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেড় বছর মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে না ফেরার দেশে আরও এক জুলাই যোদ্ধা

জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ারকে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন রমেশ চন্দ্রের স্ত্রী

আপডেট সময় ১০:২৪:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এবার ঠাকুরগাঁও১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে জেলাজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। তার প্রয়াণে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সাবেক এই সংসদ সদস্যের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে শেষবারের মতো তাকে দেখতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়ার গ্রামের বাড়িতে ছুটে যান কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও১ আসনের জামায়াতের দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন। সেখানে তিনি মরহুমের সহধর্মিণী অঞ্জলি রানী সেনকে সান্ত্বনা দেন এবং কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন।

এ সময় দেলাওয়ার হোসেনকে কাছে পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়েন অঞ্জলি রানী সেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘তুমি এসেছ বাবা। আমার আর কেউ নাই।তিনি আরও বলেন, নির্বাচনটা পর্যন্ত থাকলো না। কাল সন্ধ্যায় পরিবারের লোকজন বলেছিল আলমগীরের (বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) কাছে তোমরা যাও। লোকটাকে (রমেশ চন্দ্র সেন) যেন একটু ছেড়ে দেয়। তারপর তোমার বোন আর বোন জামাই এসেছিল। তাদের কেউ আমি বলেছি দেলাওয়ার আসুক তাকেও বলব। এসময় জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন অঞ্জলি রানী সেনকে পানি খাইয়ে দেন।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁও একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারাল। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছেন। আজ শোকাহত পরিবারের পাশে এসে দাঁড়ানোকে আমি আমার নৈতিক দায়িত্ব মনে করেছি। মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং তার সহধর্মিণীসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। রমেশ চন্দ্র সেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

এর আগে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রমেশ চন্দ্র সেন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কারা সূত্রে জানা গেছে, সকালে ঘুম থেকে উঠে দৈনন্দিন কাজ শেষে নাস্তা করার পর তিনি ওয়ার্ডের ওয়াশরুমে যান। গোসলের প্রস্তুতিকালে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গেলে কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে ১৬ আগস্ট রাতে সদর উপজেলার রুহিয়া সেনপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করে। আদালতের মাধ্যমে প্রথমে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে এবং পরদিন দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন। রমেশ চন্দ্র সেন ১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের কশালগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ক্ষিতীন্দ্র মোহন সেন ও মাতা বালাশ্বরী সেন। তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজে পড়াশোনা করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে দলীয় মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছর ছাত্রজনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত হলে তার সংসদ সদস্য পদ শেষ হয়।