ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণভোটে আপনাদের ‘না’ ভোট দিতে হবে: জি এম কাদের

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০২:৫৫:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫১৪ বার পড়া হয়েছে

এবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, বিদ্বেষ আর বিভাজন দেশের ১৮ কোটি মানুষ একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘ইনসাফ আর সাম্যের কথা বলে আজ তৈরি করা হয়েছে চরম বৈষম্য আর দখলদারিত্বের এক অমানবিক রাষ্ট্র। যেখানে চরম নিষ্ঠুরতাকে অভিবাদন জানানো হয়, মন্দিরগির্জা কিংবা মাজারে পৈশাচিক উল্লাস হয়, যেখানে মানুষ আজ বাকরুদ্ধ।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে নিজের ও দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রধান জাতির উদ্দেশে বিটিভিতে ভাষণ দিলেও জাপা চেয়ারম্যানকে দেখা যায়নি। পরে ফেইসবুক পোস্টে জি এম কাদের বলেন, ‘আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি আজ যেন এক মৃত্যুপুরী। দিনেদুপুরে প্রতিপক্ষকে খুন করে মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের বাড়ী ঘর, দোকান লুটপাট, ভাঙ্গচুর ও আগুন দেয়ার অভিযোগ পাওয়ার যাচ্ছে অথচ রাষ্ট্র নির্বিকার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর ও জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু কারো ঘুম ভাঙছে না। এটি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের পূর্বলক্ষণ ছাড়া আর কিছুই নয়।দেশের বর্তমান অবস্থাকেমুমূর্ষুবর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতিও আজ হুমকির মুখে। বিগত কয়েক মাসে শত শত কলকারখানা বন্ধ হয়েছে, বাড়ছে বেকারের সংখ্যা। ব্যাংকের রিজার্ভের প্রকৃত অবস্থা আমাদের অজানা। আমাদের সীমান্ত আজ অন্যের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। নারীরাও আজ নিজ দেশে পরবাসী। আমাদের শিল্পসংস্কৃতি, জারিসারিভাওয়াইয়া আর কবিতার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। এমনকি নারীর শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে চলাফেরাও আজ শকুনের নখরে বন্দি।এই শৃঙ্খল ভাঙতে লাঙ্গল মার্কায় ভোট চেয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে: একজন নারীকে তার পোশাকের জন্য হেনস্তা হতে হবে না। শিক্ষক তার ছাত্রের কাছে প্রহৃত হবেন না। বাউল, শিল্পী বা ভিন্নমতের কোনো মানুষের টুটি চেপে ধরা হবে না। প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে।

এবারের নির্বাচনেমাত্র দুটি পক্ষরয়েছে মন্তব্য করে জিএম কাদের বলেন, ‘একটি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ১৯৭১এর পক্ষের শক্তি, অন্যটি সেই আদর্শবিরোধী অপশক্তি। জাতীয় পার্টি সবসময় আপনাদের পাশে ছিল এবং আছে। জাতীয় পার্টিকেলাঙ্গলপ্রতীকে ভোট দেওয়া মানেই হলো একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনা এবং ১৯৭১এর চেতনাকে জয়যুক্ত করা।যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে, সেই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে দাবি করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে ছিলাম। তাছাড়া দলগত ভাবে জাতীয় পার্টি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। শুধুমাত্র রংপুর শহরে আমাদের দুজন কর্মী শহীদ হয়েছে (মিরাজুল ও মানিক)৪ জন কর্মী কারাবরণ করেছে ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে (আরিফ, ইউসুফ, সজল ও জসিম) অন্যান্য শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে নির্যাতিত ও শহীদ নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নে ও তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরাও অঙ্গীকারাবদ্ধ। রাষ্ট্রের ও সংবিধানের সংস্কারের প্রয়োজন এই বিষয়েও আমাদের কোন দ্বিমত নেই। তবে, আমরা বিশ্বাস করি এ সমস্ত কিছু হতে হবে, সংবিধান সম্মত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। নির্বাচিত সংসদ, সরকার ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগে।গণভোটেনাভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘কোন নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মাধ্যমে শুধু তাদের পূর্ব নির্ধারিত এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য, অস্বচ্ছ ও বেআইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের পক্ষে সৃষ্ট আবেগকে কাজে লাগিয়ে, যে ধরনের সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে, তা আমাদের কাছে গ্রহনযোগ্য নয়। বর্তমান হ্যাঁ/না ভোটের মাধ্যমে, সে রকম একটি উদ্যোগ আমরা লক্ষ্য করছি। সে কারনে, গণভোটে জনগনকেনাভোট দেওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘একদিকে সংবিধান নিয়ে সুপরিকল্পিত প্রতারণা, অন্যদিকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বন্ধন ছিঁড়ে যাওয়ার এক ভয়াবহ দৃশ্য আমরা দেখতে পাচ্ছি। প্রথমত, আসন্ন গণভোট নিয়ে আমার স্পষ্ট বার্তাআপনাদেরনাভোট দিতে হবে। বিভ্রান্তিকর ৪টি বিবৃতির আড়ালে সংবিধানের ৩৮টি পরিবর্তন লুকিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা আশঙ্কা করি, এতে করে দেশে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যহত হবে ও দেশ ক্রমান্বয়ে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাবে।জুলাই সনদে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের যে ৮৪ দফা রয়েছে, তার মধ্যে ৪৮টি বিষয়কেসংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে সংস্কারএবং বাকি বিষয়কেআইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কারহিসাবে চিহ্নিত করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। জুলাই সনদের সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ৪৮টি দফা বাস্তবায়নে জনগণের সম্মতি নিতে গণভোট হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামীকাল কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বাবরি মসজিদের কাজ শুরু হচ্ছে

গণভোটে আপনাদের ‘না’ ভোট দিতে হবে: জি এম কাদের

আপডেট সময় ০২:৫৫:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, বিদ্বেষ আর বিভাজন দেশের ১৮ কোটি মানুষ একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘ইনসাফ আর সাম্যের কথা বলে আজ তৈরি করা হয়েছে চরম বৈষম্য আর দখলদারিত্বের এক অমানবিক রাষ্ট্র। যেখানে চরম নিষ্ঠুরতাকে অভিবাদন জানানো হয়, মন্দিরগির্জা কিংবা মাজারে পৈশাচিক উল্লাস হয়, যেখানে মানুষ আজ বাকরুদ্ধ।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে নিজের ও দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। গতকাল বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রধান জাতির উদ্দেশে বিটিভিতে ভাষণ দিলেও জাপা চেয়ারম্যানকে দেখা যায়নি। পরে ফেইসবুক পোস্টে জি এম কাদের বলেন, ‘আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি আজ যেন এক মৃত্যুপুরী। দিনেদুপুরে প্রতিপক্ষকে খুন করে মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের বাড়ী ঘর, দোকান লুটপাট, ভাঙ্গচুর ও আগুন দেয়ার অভিযোগ পাওয়ার যাচ্ছে অথচ রাষ্ট্র নির্বিকার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে বাড়িঘর ভাংচুর ও জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু কারো ঘুম ভাঙছে না। এটি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের পূর্বলক্ষণ ছাড়া আর কিছুই নয়।দেশের বর্তমান অবস্থাকেমুমূর্ষুবর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতিও আজ হুমকির মুখে। বিগত কয়েক মাসে শত শত কলকারখানা বন্ধ হয়েছে, বাড়ছে বেকারের সংখ্যা। ব্যাংকের রিজার্ভের প্রকৃত অবস্থা আমাদের অজানা। আমাদের সীমান্ত আজ অন্যের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। নারীরাও আজ নিজ দেশে পরবাসী। আমাদের শিল্পসংস্কৃতি, জারিসারিভাওয়াইয়া আর কবিতার কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। এমনকি নারীর শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে চলাফেরাও আজ শকুনের নখরে বন্দি।এই শৃঙ্খল ভাঙতে লাঙ্গল মার্কায় ভোট চেয়ে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে: একজন নারীকে তার পোশাকের জন্য হেনস্তা হতে হবে না। শিক্ষক তার ছাত্রের কাছে প্রহৃত হবেন না। বাউল, শিল্পী বা ভিন্নমতের কোনো মানুষের টুটি চেপে ধরা হবে না। প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে।

এবারের নির্বাচনেমাত্র দুটি পক্ষরয়েছে মন্তব্য করে জিএম কাদের বলেন, ‘একটি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ১৯৭১এর পক্ষের শক্তি, অন্যটি সেই আদর্শবিরোধী অপশক্তি। জাতীয় পার্টি সবসময় আপনাদের পাশে ছিল এবং আছে। জাতীয় পার্টিকেলাঙ্গলপ্রতীকে ভোট দেওয়া মানেই হলো একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনা এবং ১৯৭১এর চেতনাকে জয়যুক্ত করা।যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে, সেই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে দাবি করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে ছিলাম। তাছাড়া দলগত ভাবে জাতীয় পার্টি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। শুধুমাত্র রংপুর শহরে আমাদের দুজন কর্মী শহীদ হয়েছে (মিরাজুল ও মানিক)৪ জন কর্মী কারাবরণ করেছে ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে (আরিফ, ইউসুফ, সজল ও জসিম) অন্যান্য শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে নির্যাতিত ও শহীদ নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নে ও তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরাও অঙ্গীকারাবদ্ধ। রাষ্ট্রের ও সংবিধানের সংস্কারের প্রয়োজন এই বিষয়েও আমাদের কোন দ্বিমত নেই। তবে, আমরা বিশ্বাস করি এ সমস্ত কিছু হতে হবে, সংবিধান সম্মত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। নির্বাচিত সংসদ, সরকার ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগে।গণভোটেনাভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘কোন নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মাধ্যমে শুধু তাদের পূর্ব নির্ধারিত এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য, অস্বচ্ছ ও বেআইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের পক্ষে সৃষ্ট আবেগকে কাজে লাগিয়ে, যে ধরনের সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে, তা আমাদের কাছে গ্রহনযোগ্য নয়। বর্তমান হ্যাঁ/না ভোটের মাধ্যমে, সে রকম একটি উদ্যোগ আমরা লক্ষ্য করছি। সে কারনে, গণভোটে জনগনকেনাভোট দেওয়ার আহবান জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ এখন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘একদিকে সংবিধান নিয়ে সুপরিকল্পিত প্রতারণা, অন্যদিকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বন্ধন ছিঁড়ে যাওয়ার এক ভয়াবহ দৃশ্য আমরা দেখতে পাচ্ছি। প্রথমত, আসন্ন গণভোট নিয়ে আমার স্পষ্ট বার্তাআপনাদেরনাভোট দিতে হবে। বিভ্রান্তিকর ৪টি বিবৃতির আড়ালে সংবিধানের ৩৮টি পরিবর্তন লুকিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা আশঙ্কা করি, এতে করে দেশে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যহত হবে ও দেশ ক্রমান্বয়ে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাবে।জুলাই সনদে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের যে ৮৪ দফা রয়েছে, তার মধ্যে ৪৮টি বিষয়কেসংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে সংস্কারএবং বাকি বিষয়কেআইন/অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কারহিসাবে চিহ্নিত করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। জুলাই সনদের সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ৪৮টি দফা বাস্তবায়নে জনগণের সম্মতি নিতে গণভোট হচ্ছে।