এবার মধ্যপ্রাচ্যের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রকে মানচিত্র থেকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলার যে পরিকল্পনা ইরান করেছিল, তা এখন পুরোপুরি নস্যাৎ হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিল ইরান। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্নও করে দিতে চেয়েছিল দেশটি। তেহরানের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাগুলো এখন ‘মৃত’।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন–ইসরায়েল জোটের মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। ট্রাম্পের মতে, ইরানের দীর্ঘদিনের সামরিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলো বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যৌথ সামরিক অভিযানের প্রেক্ষিতে তিনি এই দাবি করেন। ওই শক্তিশালী বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির শীর্ষপর্যায়ের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা নিহত হয়েছেন, যা ইরানের শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে।
চলমান এই সংঘাতের ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবারও ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে বিধ্বংসী হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা বিশেষ করে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও নৌবাহিনীকে পঙ্গু করে দেওয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, ‘ইরানের মতোই এখন এই পরিকল্পনাগুলো মৃত।’ তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতির পর তেহরানের পক্ষে পুনরায় আগের অবস্থানে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে হামলার প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে, তবে মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, দেশটির নেতৃত্বের কাঠামোগত ভিত্তি ইতিমধ্যে দুর্বল হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধে ইরানের সামরিক অবকাঠামো এবং পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়ে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর ফলে ওই অঞ্চলের সামগ্রিক ভূ–রাজনীতিতে এক ব্যাপক পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।






















