এবার গাজা ও লেবাননে যুদ্ধের মধ্যেই ইসরাইলে পাওয়া গেল বিরল হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত একজন রোগী। এতে করে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়ছে আতঙ্ক। এ ঘটনার পর দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ইসরাইলি গণমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তি কয়েক মাস আগে পূর্ব ইউরোপে অবস্থানকালে ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হান্টাভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপসর্গ দেখা দেয়ার পর ওই ব্যক্তি চিকিৎসা নেন। প্রাথমিক অ্যান্টিবডি পরীক্ষায় ভাইরাসটির সংস্পর্শে আসার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। পরে পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাসটির জিনগত উপাদান শনাক্ত করে সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়।
দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, রোগীর অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তার নিবিড় পরিচর্যা বা কঠোর আইসোলেশনের প্রয়োজন হয়নি। তবে তাকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। ইসরাইলে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ খুবই বিরল হলেও এটি দেশটির নাগরিকদের মধ্যে প্রথম ঘটনা নয়। প্রায় এক দশক আগে দক্ষিণ আমেরিকা সফরের সময় কয়েকজন ইসরাইলি নাগরিক এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হয়েছিল।
হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর সংস্পর্শে আসা অথবা তাদের মূত্র, বিষ্ঠা কিংবা লালারস থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়। এর উপসর্গ অনেক সময় সাধারণ ভাইরাসজনিত অসুস্থতার মতো মনে হলেও ভাইরাসের ধরনভেদে এটি শ্বাসতন্ত্র বা কিডনিসংক্রান্ত গুরুতর জটিলতায় রূপ নিতে পারে।
বর্তমানে এ রোগের জন্য নির্দিষ্ট কোনও অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। তাই প্রতিরোধ এবং দ্রুত শনাক্তকরণই রোগ নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রসহ (সিডিসি) বিশ্বের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এই ভাইরাসের সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা যাত্রীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ মানুষের জন্য সামগ্রিক ঝুঁকি এখনো কম রয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল























