ঢাকা ০৬:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পানি থেকে লাশ উদ্ধারের পর দেখা গেল ছেলেকে বুকে জড়িয়ে আছেন মা

এবার ভারতের মধ্যপ্রদেশের কাছে নর্মাদা নদীতে এক ভয়াবহ নৌকাডুবিতে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে উদ্ধার হয় মা ও তার চার বছর বয়সি সন্তানের লাশ। উদ্ধারকালে দেখা যায়, বাঁচার শেষ চেষ্টায় মা তার সন্তানকে শক্ত করে বুকের সাথে জাপ্টে ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। জানা গেছে, দিল্লি থেকে ঘুরতে আসা চার সদস্যের এক পর্যটক পরিবারের সদস্য ছিলেন তারা। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় বাবা ও মেয়ে কোনোমতে প্রাণে বাঁচলেও, নদী কেড়ে নিল মা ও ছেলের প্রাণ। এখন পর্যন্ত এ দুর্ঘটনায় মোট ৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মোট ২৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে এখনও পাঁচ শিশুসহ মোট নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে সৈয়দ রিয়াজের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন।
বেঁচে ফেরা পর্যটক সৈয়দ রিয়াজ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেন, হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে পানি উঠতে শুরু করে। চোখের পলকে আমার স্ত্রী, শাশুড়ি ও নাতি নিখোঁজ হয়ে গেল।

নিজের বেঁচে ফেরাকে অলৌকিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি পানির নিচে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে ছিলাম, কেবল নাকটুকু পানির উপরে ছিল। আমার পাশ দিয়ে একের পর এক মরদেহ ভেসে যাচ্ছিল। পরে উদ্ধারকারীরা আমাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে।

নৌকার ক্যাপ্টেন মহেশ প্যাটেলের কাছে লাইফ জ্যাকেট থাকায় তিনি বেঁচে ফিরেছেন। বর্তমানে স্থানীয় পুলিশ ও স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সএর একাধিক দল নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। প্রবল স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

জনপ্রিয় সংবাদ

আরব আমিরাতকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ পরিকল্পনা সৌদিকে জানিয়েছিল ইরান

পানি থেকে লাশ উদ্ধারের পর দেখা গেল ছেলেকে বুকে জড়িয়ে আছেন মা

আপডেট সময় ০৩:১৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

এবার ভারতের মধ্যপ্রদেশের কাছে নর্মাদা নদীতে এক ভয়াবহ নৌকাডুবিতে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে উদ্ধার হয় মা ও তার চার বছর বয়সি সন্তানের লাশ। উদ্ধারকালে দেখা যায়, বাঁচার শেষ চেষ্টায় মা তার সন্তানকে শক্ত করে বুকের সাথে জাপ্টে ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। জানা গেছে, দিল্লি থেকে ঘুরতে আসা চার সদস্যের এক পর্যটক পরিবারের সদস্য ছিলেন তারা। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় বাবা ও মেয়ে কোনোমতে প্রাণে বাঁচলেও, নদী কেড়ে নিল মা ও ছেলের প্রাণ। এখন পর্যন্ত এ দুর্ঘটনায় মোট ৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মোট ২৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে এখনও পাঁচ শিশুসহ মোট নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে সৈয়দ রিয়াজের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন।
বেঁচে ফেরা পর্যটক সৈয়দ রিয়াজ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেন, হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে পানি উঠতে শুরু করে। চোখের পলকে আমার স্ত্রী, শাশুড়ি ও নাতি নিখোঁজ হয়ে গেল।

নিজের বেঁচে ফেরাকে অলৌকিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি পানির নিচে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে ছিলাম, কেবল নাকটুকু পানির উপরে ছিল। আমার পাশ দিয়ে একের পর এক মরদেহ ভেসে যাচ্ছিল। পরে উদ্ধারকারীরা আমাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে।

নৌকার ক্যাপ্টেন মহেশ প্যাটেলের কাছে লাইফ জ্যাকেট থাকায় তিনি বেঁচে ফিরেছেন। বর্তমানে স্থানীয় পুলিশ ও স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সএর একাধিক দল নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। প্রবল স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস