‘আমি ফেরেশতা নই, সাধারণ মানুষ’ বলে জানিয়েছেন ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়)। রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ নেন থালাপতি। গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শপথ পড়ান। শপথের পর নিজের প্রথম ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। বিজয় বলেন, ‘আমি কোনো ফেরেশতা নই, আমি একজন সাধারণ মানুষ। আমরা আপনাদের দেখাশোনা করব।’
তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর চেন্নাইয়ে নিজের প্রথম ভাষণে সি জোসেফ বিজয় নিজেকে একজন ‘সাধারণ মানুষ’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেন, তার কোনো রাজকীয় বংশমর্যাদা নেই এবং এই সাধারণ শিকড়ের কারণেই জনগণ তাকে গ্রহণ করেছে। বিজয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, তিনি মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে প্রতারণা করবেন না। তিনি ‘প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের একটি যুগ’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করবেন। নিজের কাজের মান মূল্যায়নের জন্য তিনি জনগণের কাছে কিছুটা সময়ও চেয়েছেন।
সরকার পরিচালনার বিষয়ে অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বিজয় বলেন, ‘আমি ছাড়া ক্ষমতার অন্য কোনো কেন্দ্র থাকবে না। আমিই হব ক্ষমতার একমাত্র কেন্দ্র।’ তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিশ্চিত করেছেন, তার সরকার কোনো জোটসঙ্গীর চাপে কাজ করবে না এবং সব নীতির জন্য তিনি নিজেই দায়বদ্ধ থাকবেন। বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
মোদি আশ্বাস দিয়েছেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাবে। নির্বাচনি হলফনামায় বিজয় তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৬২৪ কোটি রুপি ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে ২১৩ কোটি রুপি সঞ্চয়ী হিসেবে এবং ১০০ কোটি রুপি বিভিন্ন ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে রয়েছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সামনের দিনগুলোতে রাজ্যের আর্থিক অবস্থার ওপর একটি ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের কথা বিবেচনা করবেন বলেও জানান তিনি।
জোট গঠন নিয়ে কয়েক দিনের নাটকীয়তার পর গতকাল শনিবার দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে লোকভবনে গিয়ে গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে বৈঠক করেন থালাপতি বিজয়। এরপর তিনি বিজয়কে সরকার গঠনের আহ্বান জানান। গত সোমবার তামিলনাডু বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এতে সবচেয়ে বেশি আসন পায় তামিল চলচ্চিত্রের নায়ক থেকে রাজনীতিতে এসে চমক দেখানো থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে)। তারা পায় ১০৮টি আসন। এর মধ্যে ৫১ বছরের থালাপতি জিতেছেন দুটি আসনে।
তামিলনাড়ুর ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি আসন। গত শুক্রবার পর্যন্ত টিভিকের সমর্থন ১১৬ আসনে আটকে ছিল। এ কারণে গভর্নর সরকার গঠনের আহ্বান জানাননি। গতকাল বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির (ভিসিকে) ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) নামের দুটি রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকেকে সমর্থন দিলে পরিস্থিতি বদলে যায়। এ দুই দলের দুটি করে চারটি আসন যোগ হয়ে জোটের শক্তি দাঁড়ায় ১২০ আসনে। গভর্নরের কাছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) সিপিআই(এম)-এর সমর্থনপত্র জমা দিয়েছেন থালাপতি।
তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো কয়েকটি দল মিলে জোট সরকার গঠন করেছে। তামিলনাড়ুর নতুন সরকারের শপথ নেওয়া অন্য মন্ত্রীরা হলেন—এন আনন্দ, আধব অর্জুন, রাজমোহন, আর নির্মল কুমার, পি ভেঙ্কটরামানান, কে জি অরুণ রাজ, কে এ সেনগোট্টাইয়ান, টি কে প্রভু ও সেলভি এস কীর্তনা। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতিক ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ছিলেন থালাপতি বিজয়ের মা–বাবা, অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণানসহ আমন্ত্রিত অতিথি ও সমর্থকেরা। সূত্র: এনডিটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমস



















