ঢাকা ১০:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত করার জন্য যা কিছু সম্ভব, সবটুকুই করবো: আইনমন্ত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০১:৪৬:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ৫২৩ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য যা কিছু করা সম্ভব, সরকার সবটুকুই করবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মাগুরার শিশু আছিয়ার বিচারের মতো রামিসা হত্যার দ্রুত বিচারের মাধ্যমে সরকার আরেকটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা জানান। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নয়, রামিসা হত্যার বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হবে বলেও জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।

আছিয়ার মামলায় এখনো অপরাধীর ফাঁসি কার্যকর হয়নি। তারপর এরকম একটি ঘটনা রামিসার ক্ষেত্রে ঘটলো এবং সেক্ষেত্রে রামিসার বাবা বিচার ব্যবস্থার ওপর অনাস্থার কথা বলেছেনএ বিষয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী বলেন, রামিসার বাবা যেটা বলেছেন, সেটা ওনার জায়গা থেকে উনি অনুভব করেছেন, সেটা আমি বলবো না উনি অমূলক কিছু বলেছেন। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় যে মামলার জট, সেই জট নিরসনের জন্য আমরা পদক্ষেপ নেবো। তিনি আরও বলেন, আছিয়ার ক্ষেত্রে যেটা ঘটেছে, আমরা আমাদের হাতে যতটুকু ছিল সাতদিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম। ১ মাসের মধ্যে ট্রায়াল শেষ হয়েছিল। এর থেকে দ্রুততম সময়ে যদি বিচার করা হয়, তাহলে সেই বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, রায় কার্যকরের প্রশ্নে আইনি একটা কাঠামো আছে। ডেথ রেফারেন্সগুলোর ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের কনফার্মেশন লাগে। মামলার রায় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক সপ্তাহের মধ্যে ওই নথি সংশ্লিষ্ট আদালতের রায়কে অনুমোদন দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টে পাঠায় হাইকোর্ট ডিভিশন। হাইকোর্ট ডিভিশন তখন এটাকে অনুমোদন করবেন কি করবেন না, সেটা করতে যেয়ে ওনাদের পেপার বুক করতে হয়। পেপার বুক আবার সন ওয়াইজ করছে। এক সালের আগে আরেক সালের ডেথ রেফারেন্স যাবে না। যদিও আমি মনে করি, এটা এক ধরনের ভুল পদ্ধতি। কারণ, মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করে, তারপর পেপার বুক নির্ধারণ করা উচিত।

বিগত সময়ে দুটি মামলার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি ছিল মেজর সিনহা হত্যা মামলা, আরেকটি ছিল আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা। আমরা পেপার বুকটা প্রধান বিচারপতির স্পেশাল পারমিশন নিয়ে করেছিলাম। আশা করি আছিয়ারটাও ওই রকম হবে। আর রামিসারটা তার বাবার যে কষ্টের কথা, সেটা আমাদেরও সবারই কষ্টের কথা। আমাদের পক্ষ থেকে এই বিচার প্রক্রিয়াটাকে সামনের দিকে দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য যা কিছু করা সম্ভব, আমরা সবটুকুই করবো।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমি আজকে অফিসে এসে প্রথম যে কাজটা করেছি, পুলিশ কমিশনারকে টেলিফোন করে বলেছি, এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন যতটা দ্রুত সম্ভব, এক সপ্তাহের মধ্যে করার ব্যবস্থা করেন এবং উনিও আমার সঙ্গে একমত হয়েছেন। একটু আগে আমার সঙ্গে স্বরাষ্ট্র সচিবের কথা হয়েছে। আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা এটাকে (রামিসা হত্যার বিচার) সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। সুতরাং, রামিসার বাবার জবাব, উনি যেটা হতাশা ব্যক্ত করেছেন, সেটার একমাত্র উত্তর হবে যদি আমরা এই বিচার প্রক্রিয়াটাকে প্রত্যাশিতভাবে অতি দ্রুত করতে পারি। সেটাই হবে আমাদের জবাব। এর বাইরে এই বিষয়ে আমাদের কোনো রিঅ্যাকশন দেখার কিছু নাই। আমরা যদি না করতে পারি, তখন ওনার কথাটা সত্য প্রমাণিত হবে। দ্যাট ইজ আওয়ার আনসার।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুবদলের সহ-সভাপতির স্ত্রীর সঙ্গে আবাসিক হোটেলে সভাপতি

রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত করার জন্য যা কিছু সম্ভব, সবটুকুই করবো: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:৪৬:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য যা কিছু করা সম্ভব, সরকার সবটুকুই করবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মাগুরার শিশু আছিয়ার বিচারের মতো রামিসা হত্যার দ্রুত বিচারের মাধ্যমে সরকার আরেকটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা জানান। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নয়, রামিসা হত্যার বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হবে বলেও জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।

আছিয়ার মামলায় এখনো অপরাধীর ফাঁসি কার্যকর হয়নি। তারপর এরকম একটি ঘটনা রামিসার ক্ষেত্রে ঘটলো এবং সেক্ষেত্রে রামিসার বাবা বিচার ব্যবস্থার ওপর অনাস্থার কথা বলেছেনএ বিষয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী বলেন, রামিসার বাবা যেটা বলেছেন, সেটা ওনার জায়গা থেকে উনি অনুভব করেছেন, সেটা আমি বলবো না উনি অমূলক কিছু বলেছেন। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় যে মামলার জট, সেই জট নিরসনের জন্য আমরা পদক্ষেপ নেবো। তিনি আরও বলেন, আছিয়ার ক্ষেত্রে যেটা ঘটেছে, আমরা আমাদের হাতে যতটুকু ছিল সাতদিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম। ১ মাসের মধ্যে ট্রায়াল শেষ হয়েছিল। এর থেকে দ্রুততম সময়ে যদি বিচার করা হয়, তাহলে সেই বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, রায় কার্যকরের প্রশ্নে আইনি একটা কাঠামো আছে। ডেথ রেফারেন্সগুলোর ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের কনফার্মেশন লাগে। মামলার রায় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এক সপ্তাহের মধ্যে ওই নথি সংশ্লিষ্ট আদালতের রায়কে অনুমোদন দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টে পাঠায় হাইকোর্ট ডিভিশন। হাইকোর্ট ডিভিশন তখন এটাকে অনুমোদন করবেন কি করবেন না, সেটা করতে যেয়ে ওনাদের পেপার বুক করতে হয়। পেপার বুক আবার সন ওয়াইজ করছে। এক সালের আগে আরেক সালের ডেথ রেফারেন্স যাবে না। যদিও আমি মনে করি, এটা এক ধরনের ভুল পদ্ধতি। কারণ, মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করে, তারপর পেপার বুক নির্ধারণ করা উচিত।

বিগত সময়ে দুটি মামলার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি ছিল মেজর সিনহা হত্যা মামলা, আরেকটি ছিল আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা। আমরা পেপার বুকটা প্রধান বিচারপতির স্পেশাল পারমিশন নিয়ে করেছিলাম। আশা করি আছিয়ারটাও ওই রকম হবে। আর রামিসারটা তার বাবার যে কষ্টের কথা, সেটা আমাদেরও সবারই কষ্টের কথা। আমাদের পক্ষ থেকে এই বিচার প্রক্রিয়াটাকে সামনের দিকে দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য যা কিছু করা সম্ভব, আমরা সবটুকুই করবো।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমি আজকে অফিসে এসে প্রথম যে কাজটা করেছি, পুলিশ কমিশনারকে টেলিফোন করে বলেছি, এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন যতটা দ্রুত সম্ভব, এক সপ্তাহের মধ্যে করার ব্যবস্থা করেন এবং উনিও আমার সঙ্গে একমত হয়েছেন। একটু আগে আমার সঙ্গে স্বরাষ্ট্র সচিবের কথা হয়েছে। আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা এটাকে (রামিসা হত্যার বিচার) সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। সুতরাং, রামিসার বাবার জবাব, উনি যেটা হতাশা ব্যক্ত করেছেন, সেটার একমাত্র উত্তর হবে যদি আমরা এই বিচার প্রক্রিয়াটাকে প্রত্যাশিতভাবে অতি দ্রুত করতে পারি। সেটাই হবে আমাদের জবাব। এর বাইরে এই বিষয়ে আমাদের কোনো রিঅ্যাকশন দেখার কিছু নাই। আমরা যদি না করতে পারি, তখন ওনার কথাটা সত্য প্রমাণিত হবে। দ্যাট ইজ আওয়ার আনসার।