ঢাকা ০৮:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপি নেতাকর্মীদের পদত্যাগের হিড়িক, নানা বিতর্কে আযম

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০২:১০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬০১ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর–বাসাইল) আসনে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। এই আসনে মনোনয়ন পাওয়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খানকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক দেখা দেওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনায় ইতোমধ্যে ৩৩ নেতাকর্মীর পদত্যাগ যেমন দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছে, তেমনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতারা। তবে জেলা বিএনপি ও দলীয় প্রার্থী একে ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি আযম খান জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল খালেক মণ্ডলকে ফোনে হুমকি দেন—যার অডিও ২০ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাকে উদ্দেশ করে বলা হয়, “সখীপুর–বাসাইলে আসলে পিঠের চামড়া থাকবে না।” এমনকি তার জমির কাগজপত্র দেখার হুমকিও দেন তিনি। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।

ঘটনার প্রতিবাদে সখীপুর তালতলায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করে মুক্তিযোদ্ধারা। একই দিন টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড় ও ভুয়াপুরেও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। এসব কর্মসূচিতে সংহতি জানান কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী।

এদিকে সমালোচনার মধ্যেই সখীপুর কলেজের সামনে এক পথসভায় আযম খান দাবি করেন যে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং বাসাইল অঞ্চলের সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন। তার এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাস্যরস শুরু হয় এবং দলীয় নেতাকর্মীরাও তাকে নিয়ে সমালোচনায় যুক্ত হন। সখীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সাজাহান সাজু ভিডিও বার্তায় তাকে “ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা” বলে মন্তব্য করেন।

মুক্তিযুদ্ধ–বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই সখীপুর উপজেলা বিএনপিতে শুরু হয় পদত্যাগের স্রোত। অভিযোগ—আযম খান আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসন করছেন, পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছেন। এসবের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাজু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসেদ মাস্টারসহ ১১ জন পদত্যাগ করেন। পরদিন ওলামা দলের ২২ নেতাকর্মী পদত্যাগ করেন। এসব ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল সখীপুরে গিয়ে জেলা কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা করেন। তারা বলেন, “বিএনপি সাগরের মতো বড় দল। দুই–এক বালতি পানি কমে গেলে কিছু হবে না।” তাদের দাবি—আসন্ন নির্বাচনে আযম খানের নিশ্চিত বিজয় ঠেকাতে পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটানো হচ্ছে।

প্রার্থী আযম খান বলেন, “আমার বিরুদ্ধে, বিএনপির বিরুদ্ধে ও ধানের শীষের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ আছে—কোনো ষড়যন্ত্রই বিজয় ঠেকাতে পারবে না।”

তবে স্থানীয় নেতারা সতর্ক করছেন—দায়িত্বশীল নেতাদের বিরূপ মন্তব্য ও দলীয় বিভাজন নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে সহিংস দাঙ্গার জেরে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা

বিএনপি নেতাকর্মীদের পদত্যাগের হিড়িক, নানা বিতর্কে আযম

আপডেট সময় ০২:১০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর–বাসাইল) আসনে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। এই আসনে মনোনয়ন পাওয়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খানকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও বিতর্ক দেখা দেওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনায় ইতোমধ্যে ৩৩ নেতাকর্মীর পদত্যাগ যেমন দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছে, তেমনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতারা। তবে জেলা বিএনপি ও দলীয় প্রার্থী একে ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি আযম খান জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল খালেক মণ্ডলকে ফোনে হুমকি দেন—যার অডিও ২০ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাকে উদ্দেশ করে বলা হয়, “সখীপুর–বাসাইলে আসলে পিঠের চামড়া থাকবে না।” এমনকি তার জমির কাগজপত্র দেখার হুমকিও দেন তিনি। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।

ঘটনার প্রতিবাদে সখীপুর তালতলায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করে মুক্তিযোদ্ধারা। একই দিন টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড় ও ভুয়াপুরেও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। এসব কর্মসূচিতে সংহতি জানান কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী।

এদিকে সমালোচনার মধ্যেই সখীপুর কলেজের সামনে এক পথসভায় আযম খান দাবি করেন যে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং বাসাইল অঞ্চলের সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন। তার এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাস্যরস শুরু হয় এবং দলীয় নেতাকর্মীরাও তাকে নিয়ে সমালোচনায় যুক্ত হন। সখীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সাজাহান সাজু ভিডিও বার্তায় তাকে “ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা” বলে মন্তব্য করেন।

মুক্তিযুদ্ধ–বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই সখীপুর উপজেলা বিএনপিতে শুরু হয় পদত্যাগের স্রোত। অভিযোগ—আযম খান আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসন করছেন, পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছেন। এসবের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাজু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসেদ মাস্টারসহ ১১ জন পদত্যাগ করেন। পরদিন ওলামা দলের ২২ নেতাকর্মী পদত্যাগ করেন। এসব ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল সখীপুরে গিয়ে জেলা কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা করেন। তারা বলেন, “বিএনপি সাগরের মতো বড় দল। দুই–এক বালতি পানি কমে গেলে কিছু হবে না।” তাদের দাবি—আসন্ন নির্বাচনে আযম খানের নিশ্চিত বিজয় ঠেকাতে পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটানো হচ্ছে।

প্রার্থী আযম খান বলেন, “আমার বিরুদ্ধে, বিএনপির বিরুদ্ধে ও ধানের শীষের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ আছে—কোনো ষড়যন্ত্রই বিজয় ঠেকাতে পারবে না।”

তবে স্থানীয় নেতারা সতর্ক করছেন—দায়িত্বশীল নেতাদের বিরূপ মন্তব্য ও দলীয় বিভাজন নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।