ঢাকা ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পারমাণবিক অস্ত্রকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলল ইরান: আলোচনায় অগ্রগতি দাবি ট্রাম্পের

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০১:০০:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫
  • ৬৩৩ বার পড়া হয়েছে

ইরান পারমাণবিক অস্ত্রকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পারমাণবিক আলোচনার প্রধান প্রতিনিধি আব্বাস আরাকচি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার প্রেক্ষিতে শনিবার (৩১ মে) এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তাদের আশঙ্কা, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষত ইসরাইলকে কেন্দ্র করে এই শঙ্কা আরও তীব্র।

আব্বাস আরাকচি বলেন, “যদি বিষয়টি পারমাণবিক অস্ত্রের হয়, তবে হ্যাঁ, আমরাও এই ধরণের অস্ত্রকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করি। আমরা এই বিষয়ে তাদের (পশ্চিমা দেশগুলো) সঙ্গে একমত।” তিনি জানান, ইরানের অবস্থান বরাবরই শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের পক্ষে এবং এটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT) অনুযায়ী তাদের অধিকার।

২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বহুপাক্ষিক পরমাণু চুক্তি থেকে সরিয়ে নেন। এরপর থেকে উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের পাঁচ দফা আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে খুব ভালো কিছু আলোচনা করছি।”
তিনি আরও বলেন, তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলা না চালাতে পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ “এখন সময় উপযুক্ত নয়”।

উল্লেখ্য, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি জানালেও, ইরান বলে এটি শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের অধিকারভুক্ত।

গত বছরের ইসরাইল-ইরান সীমান্তে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। তখন ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হানার অভিযোগ উঠে। ইসরাইল একাধিকবার সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিলেও, ট্রাম্প জানান, “এই ধরনের যেকোনো হামলায় নেতৃত্ব দেবে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র নয়।”

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইসরাইল দুই ঘণ্টাও টিকতে পারত না: ট্রাম্প

পারমাণবিক অস্ত্রকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলল ইরান: আলোচনায় অগ্রগতি দাবি ট্রাম্পের

আপডেট সময় ০১:০০:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ জুন ২০২৫

ইরান পারমাণবিক অস্ত্রকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ হিসেবে বিবেচনা করে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পারমাণবিক আলোচনার প্রধান প্রতিনিধি আব্বাস আরাকচি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার প্রেক্ষিতে শনিবার (৩১ মে) এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তাদের আশঙ্কা, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষত ইসরাইলকে কেন্দ্র করে এই শঙ্কা আরও তীব্র।

আব্বাস আরাকচি বলেন, “যদি বিষয়টি পারমাণবিক অস্ত্রের হয়, তবে হ্যাঁ, আমরাও এই ধরণের অস্ত্রকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করি। আমরা এই বিষয়ে তাদের (পশ্চিমা দেশগুলো) সঙ্গে একমত।” তিনি জানান, ইরানের অবস্থান বরাবরই শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের পক্ষে এবং এটি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT) অনুযায়ী তাদের অধিকার।

২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বহুপাক্ষিক পরমাণু চুক্তি থেকে সরিয়ে নেন। এরপর থেকে উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের পাঁচ দফা আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে খুব ভালো কিছু আলোচনা করছি।”
তিনি আরও বলেন, তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলা না চালাতে পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ “এখন সময় উপযুক্ত নয়”।

উল্লেখ্য, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার দাবি জানালেও, ইরান বলে এটি শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহারের অধিকারভুক্ত।

গত বছরের ইসরাইল-ইরান সীমান্তে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। তখন ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হানার অভিযোগ উঠে। ইসরাইল একাধিকবার সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিলেও, ট্রাম্প জানান, “এই ধরনের যেকোনো হামলায় নেতৃত্ব দেবে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র নয়।”