ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২২ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় নকল ও রিপোর্টে জালিয়াতির অভিযোগে ১৪ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১২:১৯:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫২৯ বার পড়া হয়েছে

 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) চূড়ান্ত পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন (নকল) ও ইন্টার্নশিপ রিপোর্টে জালিয়াতির অভিযোগে ১৪ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে ১২ শিক্ষার্থীকে এক সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে, একজন শিক্ষার্থীর ইন্টার্নশিপ রিপোর্ট বাতিল করা হয়েছে এবং আরেকজনকে সম্পূর্ণ নতুন করে কোর্স সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ২৮ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৭তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।

এক সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন- পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের নাঈম খান ও সাব্বির আহমেদ শিমুল, ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শাহরিয়ার আহমেদ, ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের ওমর ফারুক এবং স্নাতকোত্তর ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিরিন আক্তার মারিয়া।

 

এছাড়া ইংরেজি বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের সেলিম আহমেদ শিমুল ও ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের সুমাইয়া ফাতিমা, আইসিটি বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের আবদুল মুস্তফা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের ইসরাত জাহান মুনিরা, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের হিজবুল্লাহ আরেফিন তাজবিহ ও ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মদ হাসমত আলী এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের সাঈদ আহমেদ।

 

এদিকে মার্কেটিং বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দীপক চন্দ্র দেবের বিরুদ্ধে ইন্টার্নশিপ রিপোর্টে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার ইন্টার্নশিপ রিপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। নতুন সুপারভাইজারের অধীনে নতুন ইন্টার্নশিপ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

 

অন্যদিকে মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ইকতার জাহান ইতিলাকে সম্পূর্ণ নতুন করে কোর্স সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং একাডেমিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা আপসহীন। নকল কিংবা জালিয়াতির মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

 

এ বিষয়ে শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্য সচিব ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম বলেন, অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এই সময়ে তারা কোনো একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।

 

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের পরিচালক নুরুল করিম চৌধুরী জানান, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নকলের ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা তাদের বর্তমান ব্যাচের সঙ্গে আর পরীক্ষা দিতে পারবেন না; পরবর্তী ব্যাচের সঙ্গে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বাসভবনে হামলা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় নকল ও রিপোর্টে জালিয়াতির অভিযোগে ১৪ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

আপডেট সময় ১২:১৯:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) চূড়ান্ত পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন (নকল) ও ইন্টার্নশিপ রিপোর্টে জালিয়াতির অভিযোগে ১৪ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে ১২ শিক্ষার্থীকে এক সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে, একজন শিক্ষার্থীর ইন্টার্নশিপ রিপোর্ট বাতিল করা হয়েছে এবং আরেকজনকে সম্পূর্ণ নতুন করে কোর্স সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ২৮ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৭তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।

এক সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন- পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের নাঈম খান ও সাব্বির আহমেদ শিমুল, ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শাহরিয়ার আহমেদ, ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের ওমর ফারুক এবং স্নাতকোত্তর ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিরিন আক্তার মারিয়া।

 

এছাড়া ইংরেজি বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের সেলিম আহমেদ শিমুল ও ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের সুমাইয়া ফাতিমা, আইসিটি বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের আবদুল মুস্তফা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের ইসরাত জাহান মুনিরা, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের হিজবুল্লাহ আরেফিন তাজবিহ ও ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মদ হাসমত আলী এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের সাঈদ আহমেদ।

 

এদিকে মার্কেটিং বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দীপক চন্দ্র দেবের বিরুদ্ধে ইন্টার্নশিপ রিপোর্টে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার ইন্টার্নশিপ রিপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। নতুন সুপারভাইজারের অধীনে নতুন ইন্টার্নশিপ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

 

অন্যদিকে মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ইকতার জাহান ইতিলাকে সম্পূর্ণ নতুন করে কোর্স সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং একাডেমিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা আপসহীন। নকল কিংবা জালিয়াতির মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

 

এ বিষয়ে শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্য সচিব ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম বলেন, অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এই সময়ে তারা কোনো একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।

 

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের পরিচালক নুরুল করিম চৌধুরী জানান, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নকলের ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা তাদের বর্তমান ব্যাচের সঙ্গে আর পরীক্ষা দিতে পারবেন না; পরবর্তী ব্যাচের সঙ্গে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।