ঢাকা ০৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সালথায় আওয়ামী লীগে ভাঙন, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৫ নেতা পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১০:৩০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৭০ বার পড়া হয়েছে

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বড় ধরনের ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। মাঝারদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানসহ পাঁচজন প্রভাবশালী স্থানীয় নেতা দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছেন।

সোমবার (০৫ জানুয়ারি) বিকাল চারটার দিকে সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরাটিয়া গ্রামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ ছাড়ার ঘোষণা দেন।

পদত্যাগকারীরা হলেন—মাঝারদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. আফসার উদ্দিন মাতুব্বর, সহ-সভাপতি মো. এসকেন মাতুব্বর, ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মোল্লা, ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইছাহাক মাতুব্বর এবং উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি মো. বছির মাতুব্বর।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও তৃণমূল পর্যায়ে অবমূল্যায়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অভাব, দলীয় সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং সংগঠনের ভেতরে একচেটিয়া নেতৃত্বের কারণে তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এসব কারণেই তারা দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেন।

তারা আরও বলেন, বিএনপির গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা ও রাষ্ট্র সংস্কারের ঘোষিত লক্ষ্য তাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আগামী দিনে সালথা উপজেলায় বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

তবে এই পদত্যাগের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন আঁচ করেই এসব নেতা দলত্যাগ করছেন। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে—দল ছাড়লেও কেন তারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না।

অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে ভাঙন শুরু হয়েছে এবং এই যোগদান ভবিষ্যতের রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা মনে করেন, এই প্রভাব আসন্ন নির্বাচন ও পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সেনা অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ছাত্রদল নেত্রী গ্রেফতার

সালথায় আওয়ামী লীগে ভাঙন, ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৫ নেতা পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা

আপডেট সময় ১০:৩০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বড় ধরনের ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। মাঝারদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানসহ পাঁচজন প্রভাবশালী স্থানীয় নেতা দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছেন।

সোমবার (০৫ জানুয়ারি) বিকাল চারটার দিকে সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরাটিয়া গ্রামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ ছাড়ার ঘোষণা দেন।

পদত্যাগকারীরা হলেন—মাঝারদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. আফসার উদ্দিন মাতুব্বর, সহ-সভাপতি মো. এসকেন মাতুব্বর, ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মোল্লা, ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইছাহাক মাতুব্বর এবং উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি মো. বছির মাতুব্বর।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও তৃণমূল পর্যায়ে অবমূল্যায়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অভাব, দলীয় সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং সংগঠনের ভেতরে একচেটিয়া নেতৃত্বের কারণে তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এসব কারণেই তারা দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেন।

তারা আরও বলেন, বিএনপির গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা ও রাষ্ট্র সংস্কারের ঘোষিত লক্ষ্য তাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আগামী দিনে সালথা উপজেলায় বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

তবে এই পদত্যাগের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন আঁচ করেই এসব নেতা দলত্যাগ করছেন। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে—দল ছাড়লেও কেন তারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না।

অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে ভাঙন শুরু হয়েছে এবং এই যোগদান ভবিষ্যতের রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা মনে করেন, এই প্রভাব আসন্ন নির্বাচন ও পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্পষ্ট হয়ে উঠবে।