ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মেডিকেলের স্বীকৃতি বাতিল হওয়ায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে পড়াতে চান জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৮:৫৫:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৭৩ বার পড়া হয়েছে

 

হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর টানা বিক্ষোভের মুখে জম্মু ও কাশ্মীরের একটি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্স পরিচালনার অনুমতি বাতিল করেছে ভারতের জাতীয় মেডিকেল কমিশন (এনএমসি)। প্রথম ব্যাচে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে পুড়ো ভারতজুড়ে।

 

জম্মু ও কাশ্মীরের কাটরায় অবস্থিত শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এক্সেলেন্স (এসএমভিডিআইএমই)-এ এ ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কলেজটির প্রথম এমবিবিএস ব্যাচে মোট ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪২ জনই ছিলেন মুসলিম।

এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ‘শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী সংগ্রাম সমিতি’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে বহু আরএসএস ও বিজেপি-ঘনিষ্ঠ সংগঠন আন্দোলনে নামে। তারা মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিলের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল।

 

এই প্রেক্ষাপটে এনএমসি কলেজটির অবকাঠামো, শিক্ষকসংখ্যা ও ক্লিনিক্যাল সুবিধায় গুরুতর ঘাটতির অভিযোগ তুলে এমবিবিএস কোর্স পরিচালনার অনুমতি বাতিল করে। কমিশনের দাবি, চলতি মাসে আকস্মিক পরিদর্শনে এসব ঘাটতি ধরা পড়ে।

 

আরও পড়ুন: পাকিস্তান–সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে চায় তুরস্ক

তবে এসএমভিডিআইএমই কর্তৃপক্ষ এনএমসির প্রতিবেদনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এটিকে ‘তথ্যবিরোধী’ ও ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, পরিদর্শক দল আগে থেকেই কলেজটির স্বীকৃতি বাতিলের উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিল, যাতে মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে আন্দোলনকারীদের তুষ্ট করা যায়।

 

এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ জানান, এসব শিক্ষার্থী প্রয়োজনে বাংলাদেশে পড়তে যাবে। তিনি বলেন, এখানে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয় প্রবেশিকা পরীক্ষার ভিত্তিতে। ধর্ম দেখে এখানে ভর্তি করানো হয় না। এখন যদি আপনারা চান যে এখানে মুসলমানরা পড়াশোনা না করুক, ঠিক আছে, তাহলে তারা আর পড়বে না। কিন্তু সেক্ষেত্রে এটিকে সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করুন। আপনি যখন মেডিকেল কলেজটি তৈরি করছিলেন, তখনই তো এটিকে সংখ্যালঘু (মাইনরিটি) প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করা উচিত ছিল। কেন তখন তা করা হলো না?

যখন বাচ্চারা ‘মাতা বৈষ্ণো দেবী’-র নামে মেডিকেল কলেজে পড়তে যেতে প্রস্তুত, তখন তাদের কোনো সমস্যা নেই যে প্রতিষ্ঠানের নাম কী বা কার নামে সেটি করা হয়েছে। তাদের একটাই লক্ষ্য, আর তা হলো শিক্ষা। তারা ডাক্তার হতে চায়। মনে রাখবেন, তারা মেধার ভিত্তিতেই এখানে ভর্তি হয়েছিল। এখন তাদের অন্য কোথাও ভর্তি হওয়ার ব্যবস্থা করে দিন।

 

এখন আপনি যদি ধর্ম দেখে তাদের ভর্তি দিতে না চান, আর কালকে যদি তারা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চলে যায়, যেখানে গিয়ে তারা র‍্যাডিকাল হয়ে পড়ে, তাহলে এর দায়িত্ব কে নেবে? অনুগ্রহ করে মুসলমান বাচ্চাদের এভাবে ঠেলে দেবেন না।

 

যদি আপনারা চান যে মুসলিম বাচ্চারা এই মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা না করুক, তাহলে দয়া করে এর মর্যাদা বদলে দিন। এটিকে সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দিন। তাহলে আমাদের বাচ্চারা অন্য কোথাও পড়বে। তারা বাংলাদেশে যাবে, তুরস্কে যাবে, কিংবা অন্য কোনো দেশে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

খামেনিকে টার্গেটের পূর্বে সিকিউরিটি ক্যামেরা-ফোন হ্যাক করেছিলো ইসরায়েল

মেডিকেলের স্বীকৃতি বাতিল হওয়ায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে পড়াতে চান জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৮:৫৫:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

 

হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর টানা বিক্ষোভের মুখে জম্মু ও কাশ্মীরের একটি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্স পরিচালনার অনুমতি বাতিল করেছে ভারতের জাতীয় মেডিকেল কমিশন (এনএমসি)। প্রথম ব্যাচে মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে পুড়ো ভারতজুড়ে।

 

জম্মু ও কাশ্মীরের কাটরায় অবস্থিত শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এক্সেলেন্স (এসএমভিডিআইএমই)-এ এ ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কলেজটির প্রথম এমবিবিএস ব্যাচে মোট ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪২ জনই ছিলেন মুসলিম।

এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ‘শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী সংগ্রাম সমিতি’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে বহু আরএসএস ও বিজেপি-ঘনিষ্ঠ সংগঠন আন্দোলনে নামে। তারা মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিলের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল।

 

এই প্রেক্ষাপটে এনএমসি কলেজটির অবকাঠামো, শিক্ষকসংখ্যা ও ক্লিনিক্যাল সুবিধায় গুরুতর ঘাটতির অভিযোগ তুলে এমবিবিএস কোর্স পরিচালনার অনুমতি বাতিল করে। কমিশনের দাবি, চলতি মাসে আকস্মিক পরিদর্শনে এসব ঘাটতি ধরা পড়ে।

 

আরও পড়ুন: পাকিস্তান–সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে চায় তুরস্ক

তবে এসএমভিডিআইএমই কর্তৃপক্ষ এনএমসির প্রতিবেদনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এটিকে ‘তথ্যবিরোধী’ ও ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, পরিদর্শক দল আগে থেকেই কলেজটির স্বীকৃতি বাতিলের উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিল, যাতে মুসলিম শিক্ষার্থী ভর্তি নিয়ে আন্দোলনকারীদের তুষ্ট করা যায়।

 

এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ জানান, এসব শিক্ষার্থী প্রয়োজনে বাংলাদেশে পড়তে যাবে। তিনি বলেন, এখানে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয় প্রবেশিকা পরীক্ষার ভিত্তিতে। ধর্ম দেখে এখানে ভর্তি করানো হয় না। এখন যদি আপনারা চান যে এখানে মুসলমানরা পড়াশোনা না করুক, ঠিক আছে, তাহলে তারা আর পড়বে না। কিন্তু সেক্ষেত্রে এটিকে সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করুন। আপনি যখন মেডিকেল কলেজটি তৈরি করছিলেন, তখনই তো এটিকে সংখ্যালঘু (মাইনরিটি) প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করা উচিত ছিল। কেন তখন তা করা হলো না?

যখন বাচ্চারা ‘মাতা বৈষ্ণো দেবী’-র নামে মেডিকেল কলেজে পড়তে যেতে প্রস্তুত, তখন তাদের কোনো সমস্যা নেই যে প্রতিষ্ঠানের নাম কী বা কার নামে সেটি করা হয়েছে। তাদের একটাই লক্ষ্য, আর তা হলো শিক্ষা। তারা ডাক্তার হতে চায়। মনে রাখবেন, তারা মেধার ভিত্তিতেই এখানে ভর্তি হয়েছিল। এখন তাদের অন্য কোথাও ভর্তি হওয়ার ব্যবস্থা করে দিন।

 

এখন আপনি যদি ধর্ম দেখে তাদের ভর্তি দিতে না চান, আর কালকে যদি তারা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে চলে যায়, যেখানে গিয়ে তারা র‍্যাডিকাল হয়ে পড়ে, তাহলে এর দায়িত্ব কে নেবে? অনুগ্রহ করে মুসলমান বাচ্চাদের এভাবে ঠেলে দেবেন না।

 

যদি আপনারা চান যে মুসলিম বাচ্চারা এই মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা না করুক, তাহলে দয়া করে এর মর্যাদা বদলে দিন। এটিকে সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দিন। তাহলে আমাদের বাচ্চারা অন্য কোথাও পড়বে। তারা বাংলাদেশে যাবে, তুরস্কে যাবে, কিংবা অন্য কোনো দেশে যাবে।