ঢাকা ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এখন তোমার সব হয়েছে, পর হয়েছি আমি: রুমিন ফারহানা

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৮:৩৯:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫২০ বার পড়া হয়েছে

বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, জনগণ আমার পাশে আছে বলেই শত প্রতিকূলতার মাঝেও আমি নির্বাচনে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছি। আমার নির্বাচনে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্য একটাই, সেটা হলো ৫২-এর ভাষা আন্দোলন কোনো নেতা বা জমিদার করেনি। সেই আন্দোলন করেছিল কিছু ছাত্র ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। যাদের মধ্যে আমার বাবা অন্যতম।

 

তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগেই ছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন এবং সেই আন্দোলনে গণমানুষের দাবি জয় লাভ করেছিল। একই রকমভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল বলে তখন গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা বিজয় লাভ করেছে। মূলত মানুষ যা চেয়েছে যুগে যুগে কালে কালে তাই হয়েছে। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সবই সাধারণ মানুষের রক্ত দিয়ে তৈরি। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ৫ আগস্ট রাজপথে সাধারণ মানুষ আমার বাইরে আমার দলের আর কোনো নেতাকে দেখেনি।

 

রুমিন বলেন, তাই বলি ‘যখন তোমার কেউ ছিল না তখন ছিলাম আমি, এখন তোমার সব হয়েছে পর হয়েছি আমি’। মূলত আমি কোনো দলের, কোনো গোষ্ঠীর বা কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের আপন হওয়ার দরকার নেই। কারণ আমি আমার মাটির মানুষের আপন। তাদের মুখের দিকে তাকিয়েই আমি আমার জীবনকে বাজি ধরেছি।

 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর তার নিজ বাসভবনের সামনে কেন্দ্রীয় নির্বাচনী অফিস উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

এ সময় তিনি বলেন, যারা কিছুদিন আগেও কচুক্ষেতের তলায় ছিল, হ্যাজাক বাতি দিয়েও খুঁজে পাওয়া যেত না তারাও এখন আমার নেতাকর্মীকে মামলার ভয় দেখায়। ১৫ মাসে এত চর্বি হয়েছে যে, আমার নেতাকর্মীদের হুমকি দেয়। আমি হুমকি না দিয়ে বিনীতভাবে অনুরোধ করব, আমার একটা নেতাকর্মীর গায়ের একটা পশম ধরার কেউ সাহস করে তার জবাব দিতে হবে।

 

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার মতো শক্তিশালী প্রশাসনকেও আমি এক মূহূর্তের জন্যও ভয় পাইনি। আর এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ওয়াদা হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন। তাই ব্যালটবাক্স ভরে কোনো বিশেষ মার্কাকে জয়ী করার সুযোগ নেই। তাই কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের গায়ে একটা টোকা দেওয়ার আগে আমার মতো প্রার্থীকে জবাব দিয়ে যেতে হবে।

 

নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন শেষে প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আবজাল হোসেন, সরাইল সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মো. ওসমান, সরাইল উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আকবর হোসেনসহ নেতাকর্মী ও স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। দোয়া পরিচালনা করেন শাহবাজপুর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মুফতি শহিদুল ইসলাম।

 

প্রসঙ্গত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে। রুমিন ফারহানা এ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেনের ১৪৯ স্থানে একযোগে হামলা রাশিয়ার

এখন তোমার সব হয়েছে, পর হয়েছি আমি: রুমিন ফারহানা

আপডেট সময় ০৮:৩৯:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, জনগণ আমার পাশে আছে বলেই শত প্রতিকূলতার মাঝেও আমি নির্বাচনে দাঁড়ানোর সাহস পেয়েছি। আমার নির্বাচনে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্য একটাই, সেটা হলো ৫২-এর ভাষা আন্দোলন কোনো নেতা বা জমিদার করেনি। সেই আন্দোলন করেছিল কিছু ছাত্র ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। যাদের মধ্যে আমার বাবা অন্যতম।

 

তিনি বলেন, তাদের আত্মত্যাগেই ছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন এবং সেই আন্দোলনে গণমানুষের দাবি জয় লাভ করেছিল। একই রকমভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে সাধারণ মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল বলে তখন গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা বিজয় লাভ করেছে। মূলত মানুষ যা চেয়েছে যুগে যুগে কালে কালে তাই হয়েছে। ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সবই সাধারণ মানুষের রক্ত দিয়ে তৈরি। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের ৫ আগস্ট রাজপথে সাধারণ মানুষ আমার বাইরে আমার দলের আর কোনো নেতাকে দেখেনি।

 

রুমিন বলেন, তাই বলি ‘যখন তোমার কেউ ছিল না তখন ছিলাম আমি, এখন তোমার সব হয়েছে পর হয়েছি আমি’। মূলত আমি কোনো দলের, কোনো গোষ্ঠীর বা কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের আপন হওয়ার দরকার নেই। কারণ আমি আমার মাটির মানুষের আপন। তাদের মুখের দিকে তাকিয়েই আমি আমার জীবনকে বাজি ধরেছি।

 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর তার নিজ বাসভবনের সামনে কেন্দ্রীয় নির্বাচনী অফিস উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

এ সময় তিনি বলেন, যারা কিছুদিন আগেও কচুক্ষেতের তলায় ছিল, হ্যাজাক বাতি দিয়েও খুঁজে পাওয়া যেত না তারাও এখন আমার নেতাকর্মীকে মামলার ভয় দেখায়। ১৫ মাসে এত চর্বি হয়েছে যে, আমার নেতাকর্মীদের হুমকি দেয়। আমি হুমকি না দিয়ে বিনীতভাবে অনুরোধ করব, আমার একটা নেতাকর্মীর গায়ের একটা পশম ধরার কেউ সাহস করে তার জবাব দিতে হবে।

 

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার মতো শক্তিশালী প্রশাসনকেও আমি এক মূহূর্তের জন্যও ভয় পাইনি। আর এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ওয়াদা হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন। তাই ব্যালটবাক্স ভরে কোনো বিশেষ মার্কাকে জয়ী করার সুযোগ নেই। তাই কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের গায়ে একটা টোকা দেওয়ার আগে আমার মতো প্রার্থীকে জবাব দিয়ে যেতে হবে।

 

নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন শেষে প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আবজাল হোসেন, সরাইল সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মো. ওসমান, সরাইল উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আকবর হোসেনসহ নেতাকর্মী ও স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। দোয়া পরিচালনা করেন শাহবাজপুর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মুফতি শহিদুল ইসলাম।

 

প্রসঙ্গত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে। রুমিন ফারহানা এ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।