ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ রুখতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে: আলী রীয়াজ

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৯:৪৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪৬ বার পড়া হয়েছে

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘গণভোট শুধু আগামী পাঁচ বছরের জন্য নয়, এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ রুখতে রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতন্ত্র পূর্ণ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন। রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন কীভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করবে- এসব সিদ্ধান্ত জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমেই নিতে হবে। এ কারণেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে এবং নাগরিক হিসেবে সবার দায়িত্ব গণভোটে ‘‘হ্যাঁ’’ ভোট দেওয়া।’

 

আজ সোমবার দুপুরে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে রাজশাহী হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘গণভোট নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে দ্বিমত নেই।’

অতীতের নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষ ভোট দিতে চায়, কিন্তু সেই পরিবেশ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সেই জায়গাটি পূর্ণভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতেই জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

 

দুর্নীতির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী বলেন, ‘বাংলাদেশে ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে। এসব বন্ধ করতে হলে দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী ও স্বাধীন করতে হবে। তবে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান দিয়ে দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না; সংসদের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকেও কার্যকর করতে হবে—যা জুলাই জাতীয় সনদে উল্লেখ রয়েছে।’

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় না। বিচার ব্যবস্থার পথে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে, সেগুলো দূর করতে হবে। গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদের মাধ্যমে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে মানুষ ন্যায়বিচারের জন্য আদালতে যেতে পারে।’

 

আলী রীয়াজ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই স্বাধীন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা কমিয়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সঙ্গে ভারসাম্য আনতে হবে।’ উচ্চকক্ষে পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি কার্যকর করার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সম্মেলনে তিনি সর্বোপরি গণভোটে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে ইমামদের সহযোগিতা কামনা করেন এবং বলেন, ‘গণভোটের প্রতীক হলো ‘‘হ্যাঁ’’-এর টিক চিহ্ন।’

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ‘গণভোট নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কেউ কেউ বলছে, মানুষ কিছুই জানে না— কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে জনগণ সবকিছু জানে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রই কার্যকর হবে না।’

 

তিনি বলেন, গণভোট জয়ী হওয়াই স্বাভাবিক, কারণ এটি দেশের ও নাগরিকদের স্বার্থে। গণভোট ব্যর্থ হলে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

 

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার ড. জিল্লুর রহমান ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আব্দুস ছালাম খান। এতে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত মসজিদের ইমামরা অংশ নেন।

 

পরে বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার এই দুই বিশেষ সহকারী রাজশাহী বিভাগের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে গণভোট বিষয়ের মতবিনিময় করেন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাহরাইনে এক বাংলাদেশি নিহত

বাংলাদেশে ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ রুখতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে: আলী রীয়াজ

আপডেট সময় ০৯:৪৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘গণভোট শুধু আগামী পাঁচ বছরের জন্য নয়, এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ রুখতে রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতন্ত্র পূর্ণ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন। রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হবে, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন কীভাবে স্বাধীনভাবে কাজ করবে- এসব সিদ্ধান্ত জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমেই নিতে হবে। এ কারণেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে এবং নাগরিক হিসেবে সবার দায়িত্ব গণভোটে ‘‘হ্যাঁ’’ ভোট দেওয়া।’

 

আজ সোমবার দুপুরে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে রাজশাহী হযরত শাহ মখদুম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত রাজশাহী বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘গণভোট নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে দ্বিমত নেই।’

অতীতের নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষ ভোট দিতে চায়, কিন্তু সেই পরিবেশ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সেই জায়গাটি পূর্ণভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতেই জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

 

দুর্নীতির বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী বলেন, ‘বাংলাদেশে ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে। এসব বন্ধ করতে হলে দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী ও স্বাধীন করতে হবে। তবে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান দিয়ে দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না; সংসদের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকেও কার্যকর করতে হবে—যা জুলাই জাতীয় সনদে উল্লেখ রয়েছে।’

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় না। বিচার ব্যবস্থার পথে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে, সেগুলো দূর করতে হবে। গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদের মাধ্যমে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে মানুষ ন্যায়বিচারের জন্য আদালতে যেতে পারে।’

 

আলী রীয়াজ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই স্বাধীন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা কমিয়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার সঙ্গে ভারসাম্য আনতে হবে।’ উচ্চকক্ষে পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতি কার্যকর করার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সম্মেলনে তিনি সর্বোপরি গণভোটে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে ইমামদের সহযোগিতা কামনা করেন এবং বলেন, ‘গণভোটের প্রতীক হলো ‘‘হ্যাঁ’’-এর টিক চিহ্ন।’

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ‘গণভোট নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কেউ কেউ বলছে, মানুষ কিছুই জানে না— কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে জনগণ সবকিছু জানে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রই কার্যকর হবে না।’

 

তিনি বলেন, গণভোট জয়ী হওয়াই স্বাভাবিক, কারণ এটি দেশের ও নাগরিকদের স্বার্থে। গণভোট ব্যর্থ হলে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

 

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার ড. জিল্লুর রহমান ও জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আব্দুস ছালাম খান। এতে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত মসজিদের ইমামরা অংশ নেন।

 

পরে বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার এই দুই বিশেষ সহকারী রাজশাহী বিভাগের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে গণভোট বিষয়ের মতবিনিময় করেন।