ঢাকা ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত হতে দেখলেই সানডে মানডে ক্লোজ করে দিতাম: জিজ্ঞাসাবাদে ভবঘুরে সম্রাট

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ১২:০০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫৪৯ বার পড়া হয়েছে

এবার সাভারে ধারাবাহিক ছয়টি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া ভবঘুরে মশিউর রহমান সম্রাট (ছদ্মনাম) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকে ‘থার্টি ফোর’ বা ‘সানডে মানডে ক্লোজ’ নামে উল্লেখ করতেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। ‘কোনো পাগল বা ভবঘুরেকে অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত হতে দেখলেই তাঁদের “থার্টি ফোর” বা “সানডে মানডে ক্লোজ” করে দিতাম।’ পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এভাবেই বলেছিলেন ভবঘুরে সম্রাট।

এদিকে সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, সম্রাট মানসিক রোগী নন। অতিরিক্ত নেশার কারণে তিনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং একপর্যায়ে মানুষ খুন করাই তার নেশায় পরিণত হয়। তিনি জানান, মশিউর রহমান সম্রাট তার প্রকৃত নাম নয়; আত্মগোপনের জন্য তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন এবং তার বাড়ি সাভারেও নয়। প্রকৃত পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে।

হেলাল উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, সাভারে আসার পর ওই সিরিয়াল কিলার বেশির ভাগ রাত কাটাতেন সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মডেল মসজিদে। ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আসমা বেগম নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যার পর তিনি পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে আশ্রয় নেন। এরপর গত পাঁচ মাসে ওই ভবন থেকে একের পর এক পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিয়মিত নজরদারি চললেও প্রমাণের অভাবে তাকে তখন গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাতে নজরদারির সময় কমিউনিটি সেন্টারে এক কিশোরীকে সম্রাটের বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা যায়। পরদিন শনিবার রাতে ওই কিশোরীসহ দুজনকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়। রোববার দুপুরের পর মরদেহ উদ্ধার এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে খুনে তার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়। পরে রোববার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি ছয়টি হত্যার দায় স্বীকার করেন।

এদিকে পুলিশের তথ্যমতে, দিনের বেলায় থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করলেও গভীর রাতে ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক ও পদচারী-সেতু এলাকায় অবস্থান করতেন তিনি। ভবঘুরে নারী-পুরুষদের ফুসলিয়ে কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে গিয়ে তাদের হত্যা করতেন। সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরমান আলী বলেন, খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা আসামি স্বীকার করেছেন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, এই ছয় হত্যার বাইরে আরও কোনো অপরাধে সম্রাট জড়িত থাকতে পারেন—তদন্তে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা জারি

অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত হতে দেখলেই সানডে মানডে ক্লোজ করে দিতাম: জিজ্ঞাসাবাদে ভবঘুরে সম্রাট

আপডেট সময় ১২:০০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

এবার সাভারে ধারাবাহিক ছয়টি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হওয়া ভবঘুরে মশিউর রহমান সম্রাট (ছদ্মনাম) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকে ‘থার্টি ফোর’ বা ‘সানডে মানডে ক্লোজ’ নামে উল্লেখ করতেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। ‘কোনো পাগল বা ভবঘুরেকে অনৈতিক যৌনাচারে লিপ্ত হতে দেখলেই তাঁদের “থার্টি ফোর” বা “সানডে মানডে ক্লোজ” করে দিতাম।’ পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এভাবেই বলেছিলেন ভবঘুরে সম্রাট।

এদিকে সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, সম্রাট মানসিক রোগী নন। অতিরিক্ত নেশার কারণে তিনি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং একপর্যায়ে মানুষ খুন করাই তার নেশায় পরিণত হয়। তিনি জানান, মশিউর রহমান সম্রাট তার প্রকৃত নাম নয়; আত্মগোপনের জন্য তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন এবং তার বাড়ি সাভারেও নয়। প্রকৃত পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে।

হেলাল উদ্দিনের ভাষ্য অনুযায়ী, সাভারে আসার পর ওই সিরিয়াল কিলার বেশির ভাগ রাত কাটাতেন সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার মডেল মসজিদে। ২০২৫ সালের ৪ জুলাই আসমা বেগম নামের এক বৃদ্ধাকে হত্যার পর তিনি পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে আশ্রয় নেন। এরপর গত পাঁচ মাসে ওই ভবন থেকে একের পর এক পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিয়মিত নজরদারি চললেও প্রমাণের অভাবে তাকে তখন গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাতে নজরদারির সময় কমিউনিটি সেন্টারে এক কিশোরীকে সম্রাটের বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা যায়। পরদিন শনিবার রাতে ওই কিশোরীসহ দুজনকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়। রোববার দুপুরের পর মরদেহ উদ্ধার এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে খুনে তার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়। পরে রোববার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি ছয়টি হত্যার দায় স্বীকার করেন।

এদিকে পুলিশের তথ্যমতে, দিনের বেলায় থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করলেও গভীর রাতে ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক ও পদচারী-সেতু এলাকায় অবস্থান করতেন তিনি। ভবঘুরে নারী-পুরুষদের ফুসলিয়ে কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে গিয়ে তাদের হত্যা করতেন। সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরমান আলী বলেন, খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা আসামি স্বীকার করেছেন। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, এই ছয় হত্যার বাইরে আরও কোনো অপরাধে সম্রাট জড়িত থাকতে পারেন—তদন্তে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।