ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের সঙ্গে বসতে চান জয়: ব্রিটিশ গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৩:৪২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫৫১ বার পড়া হয়েছে

এবার নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিতে রাজি না হলেও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলে তাঁর সঙ্গে আলোচনায় রাজি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেছেন, আমি এমন একজন মানুষ, যে সবসময় আলোচনায় বিশ্বাস করেতা যত কঠিনই হোক বা যার সঙ্গেই হোক। এটাই আমার কৌশল; জীবনে সবসময়ই এভাবেই চলেছি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা জয়ের সাক্ষাৎকার নেয় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভি। বাংলাদেশ সময় গতকাল শনিবার ভোরে টেলিভিশনটি এ সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করে।

গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনের ফলাফলকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ স্বাগত জানালেও এ নির্বাচনকেপ্রহসনবলছেন তিনি। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় দল এবং সব প্রগতিশীল দলকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। মূলত এমনভাবে সাজানো একটি নির্বাচন হয়েছে, যাতে সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামী তাদের জনসমর্থনের তুলনায় অনেক বেশি প্রভাব সংসদে পায়।  তিনি বলেন, দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের একটি নিষিদ্ধএমন নির্বাচনকে কীভাবে গ্রহণযোগ্য বলা যায়? যুক্তরাজ্যে যদি টোরি বা লিবারেলদের যে কোনো একটি দল নিষিদ্ধ করা হতো, সেটার সমতুল্য পরিস্থিতি এটি। একে কোনোভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বলা যায় না। 

আওয়ামী লীগের শাসনামলে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গে জয় বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেনি। তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আদালতের রায়ের কারণে। জামায়াত তাদের গঠনতন্ত্র সংশোধন করলে আবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারত। এবারের নির্বাচনকেপ্রহসনবললেও আওয়ামী লীগ আমলের তিনটি নির্বাচনে কারচুপির ব্যাপক অভিযোগ ছিলএ প্রশ্নে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি পুরোপুরি সঠিক নয়। গত তিনবারের মধ্যে প্রথম ও তৃতীয়বার বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করেছিল। 

এখন যদি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিদেশি সাংবাদিকরা তাদের মূল্যায়নে বলেন যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে, তাহলে মেনে নেবেন কিনাসে প্রশ্নে জয় বলেন, না, মেনে নেওয়া যায় না। দেশে যে অল্পসংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক রয়েছেন, তারা সরকারের তত্ত্বাবধানে চলাচল করছেন। সত্যি বলতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও এতটাই খারাপ যে সেটি নিরাপদ নয়। তাহলে তারা আসলে কতটা পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছেন? বাংলাদেশে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা আছে কিনা জানতে চাইলে শেখ হাসিনার পুত্র বলেন, অবশ্যই একসময় ফিরব। দেখুনতারেক রহমান, যিনি দণ্ডিত হয়েছিলেন, তিনি এখন সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী। এসব পরিস্থিতি চিরস্থায়ী হয় না। শেখ হাসিনা কখনও বাংলাদেশে ফিরবেন কিনা, সেই প্রশ্নে জয় বলেন, আমার কোনো সন্দেহ নেই, তিনি একদিন ফিরবেন। তবে এই মুহূর্তে শেখ হাসিনার দেশে ফেরাএকেবারেই নিরাপদ হবে নাবলে মনে করেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

শত্রুর এই অপরাধ আমরা ভুলব না, শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেবোই: ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান

তারেক রহমানের সঙ্গে বসতে চান জয়: ব্রিটিশ গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার

আপডেট সময় ০৩:৪২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এবার নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিতে রাজি না হলেও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলে তাঁর সঙ্গে আলোচনায় রাজি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেছেন, আমি এমন একজন মানুষ, যে সবসময় আলোচনায় বিশ্বাস করেতা যত কঠিনই হোক বা যার সঙ্গেই হোক। এটাই আমার কৌশল; জীবনে সবসময়ই এভাবেই চলেছি। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা জয়ের সাক্ষাৎকার নেয় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভি। বাংলাদেশ সময় গতকাল শনিবার ভোরে টেলিভিশনটি এ সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করে।

গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনের ফলাফলকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ স্বাগত জানালেও এ নির্বাচনকেপ্রহসনবলছেন তিনি। সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় দল এবং সব প্রগতিশীল দলকে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। মূলত এমনভাবে সাজানো একটি নির্বাচন হয়েছে, যাতে সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামী তাদের জনসমর্থনের তুলনায় অনেক বেশি প্রভাব সংসদে পায়।  তিনি বলেন, দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের একটি নিষিদ্ধএমন নির্বাচনকে কীভাবে গ্রহণযোগ্য বলা যায়? যুক্তরাজ্যে যদি টোরি বা লিবারেলদের যে কোনো একটি দল নিষিদ্ধ করা হতো, সেটার সমতুল্য পরিস্থিতি এটি। একে কোনোভাবেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বলা যায় না। 

আওয়ামী লীগের শাসনামলে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা প্রসঙ্গে জয় বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেনি। তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আদালতের রায়ের কারণে। জামায়াত তাদের গঠনতন্ত্র সংশোধন করলে আবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারত। এবারের নির্বাচনকেপ্রহসনবললেও আওয়ামী লীগ আমলের তিনটি নির্বাচনে কারচুপির ব্যাপক অভিযোগ ছিলএ প্রশ্নে তিনি দাবি করেন, বিষয়টি পুরোপুরি সঠিক নয়। গত তিনবারের মধ্যে প্রথম ও তৃতীয়বার বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করেছিল। 

এখন যদি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিদেশি সাংবাদিকরা তাদের মূল্যায়নে বলেন যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে, তাহলে মেনে নেবেন কিনাসে প্রশ্নে জয় বলেন, না, মেনে নেওয়া যায় না। দেশে যে অল্পসংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক রয়েছেন, তারা সরকারের তত্ত্বাবধানে চলাচল করছেন। সত্যি বলতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও এতটাই খারাপ যে সেটি নিরাপদ নয়। তাহলে তারা আসলে কতটা পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছেন? বাংলাদেশে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা আছে কিনা জানতে চাইলে শেখ হাসিনার পুত্র বলেন, অবশ্যই একসময় ফিরব। দেখুনতারেক রহমান, যিনি দণ্ডিত হয়েছিলেন, তিনি এখন সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী। এসব পরিস্থিতি চিরস্থায়ী হয় না। শেখ হাসিনা কখনও বাংলাদেশে ফিরবেন কিনা, সেই প্রশ্নে জয় বলেন, আমার কোনো সন্দেহ নেই, তিনি একদিন ফিরবেন। তবে এই মুহূর্তে শেখ হাসিনার দেশে ফেরাএকেবারেই নিরাপদ হবে নাবলে মনে করেন তিনি।