ঢাকা ০৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকার দুই মাসের মধ্যে জনগণকে রাজপথে আসতে বাধ্য করছে: এটিএম আজহার

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৪:৩০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৫ বার পড়া হয়েছে

এবার রংপুর২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘‘সরকার দুই মাসের মধ্যে জনগণকে রাজপথে আসতে বাধ্য করছে। যে ইস্যু সংসদে সমাধান হওয়া উচিত, সেটিকে রাজপথে আনা উচিত নয়। ফলাফলে কারচুপি করে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেনএটা আপনারাও জানেন, জনগণও জানে। গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করবেন না।’’ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে (২০২৬) আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সবুজ প্যানেলের পরিচিতি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘‘মানুষ বিচারের কাছে গিয়ে বিচার পায়, সম্মান পায়; কিন্তু আমি সেখানে অসম্মানিত হয়েছি, অবিচারের শিকার হয়েছি। আমরা সংসদে লড়াই করবো এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথেও আন্দোলন গড়ে তুলবো। এ ক্ষেত্রে বার কাউন্সিলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’’

অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘‘আমরা জুলাই শহীদের মাকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করিয়ে জুলাইকে সংসদে নিয়ে যাচ্ছি। আর একটি দল ফ্যাসিস্টদের প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন ব্যক্তিকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করাচ্ছে।’’  গণভোট ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘‘তারা (বিএনপি) ৭০ শতাংশ জনগণের রায় গণভোটকে বাতিল করে টানেল ও বাঙ্কার নির্মাণের মাধ্যমে প্রমাণ করছেজনগণের আস্থার জায়গায় তারা যেতে পারবে না। দুই মাসে লক্ষ্য করেছি, সরকার পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে দলীয়করণ করছে এবং নব্য ফ্যাসিবাদকে স্থানান্তর করছে।’’ 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘‘জুলাইয়ের পরে এই বাংলাদেশ অতীতে কখনও কল্পনা করা যায়নি। যে স্বপ্ন নিয়ে জুলাই হয়েছিল, সেটি নিছক ক্ষমতার পালাবদল বা নির্বাচনের জন্য ছিল না; বাংলাদেশকে আমূল বদলে দেওয়ার জন্যই জুলাই হয়েছিল। আমরা এমন একটি বিচারব্যবস্থা চাই, যেখানে বিচারকরা এক্সিকিউটিভের কাছে মাথা নত করবে না।’’  তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা পরিবর্তিত বিচারব্যবস্থা দেখতে চাই, যেখানে একজন ম্যাজিস্ট্রেট খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও আদেশ দিতে দ্বিধাবোধ করবে না। এমন বিচারালয় না হলে আমাদের স্বাধীন বিচারব্যবস্থার স্বপ্ন ব্যর্থ হবে। আমরা ইঙ্গিতনির্ভর সুপ্রিম কোর্ট দেখতে চাই না। এমন বিচারাঙ্গন চাই, যেখানে সবচেয়ে তুচ্ছ মানুষটিও বিচার পাবে এবং সবচেয়ে ছোট বিচারকও প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আদেশ দিতে পারেন। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। সেই স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করবো।’’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘‘বিচারব্যবস্থা স্বাধীন না হলে এবং আইনজীবীদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য না হলে সমাজের মানুষের ভোগান্তির সীমা থাকে না। বিচার বিভাগীয় সচিবালয় ছিল, এই সরকার তাদের জুলাই সনদে কোনওনোট অব ডিসেন্টনা থাকলেও তা বাতিল করেছে। আমরা রিট করেছি; আজ তিনটি আপিল ফাইল হয়েছে। আমরা সচিবালয়ের স্থিতাবস্থা চেয়েছি। আমরা বিজয়ী না হলে আগামী পাঁচ বছরে ন্যায়বিচার বলে কিছু থাকবে না।’’  তিনি আরও বলেন, ‘‘এক্সিকিউটিভের লোক এসে যদি বিচারকে বদলে দেয়, আইন মন্ত্রণালয়ের করায়ত্ত থেকে বিচার বিভাগকে মুক্ত না করা যায়, তবে বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা যাবে না। এ দেশে যদি জবাবদিহি তৈরি করতে হয়, তাহলে আমাদের মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে; তবেই বাংলাদেশ একটি নতুন সূচনা দেখতে পারবে।’’

জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘‘জনগণ জিম্মিদশা ও ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে মুক্তি চায়। তারা চায় তাদের ভোটটা রক্ষা হোক। জাতীয় নির্বাচনে অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা বা যেকোনো কারণে আমরা ভোট রক্ষা করতে পারিনি। উপনির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। কারচুপি হলে ভোট হবে না, কিন্তু ভোটকেন্দ্র ছাড়া যাবে না। আমরা প্রয়োজনে আপনাদের পাশে এসে দাঁড়াবো, কিন্তু ভোট বর্জন করা যাবে না।’’  ইয়ার্স ফোরামের সভাপতি মতিউর রহমান আকন বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির পর এই প্রথম ঢাকা বারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভূতপূর্ব খেলা হয়েছে। সরকার গঠনের পর তারা অগণতান্ত্রিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। ঢাকা বারের নির্বাচন কমিশন যেভাবে গঠন হওয়ার কথা, সেভাবে হয়নি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাবো।’’

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার দুই মাসের মধ্যে জনগণকে রাজপথে আসতে বাধ্য করছে: এটিএম আজহার

সরকার দুই মাসের মধ্যে জনগণকে রাজপথে আসতে বাধ্য করছে: এটিএম আজহার

আপডেট সময় ০৪:৩০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

এবার রংপুর২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘‘সরকার দুই মাসের মধ্যে জনগণকে রাজপথে আসতে বাধ্য করছে। যে ইস্যু সংসদে সমাধান হওয়া উচিত, সেটিকে রাজপথে আনা উচিত নয়। ফলাফলে কারচুপি করে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেনএটা আপনারাও জানেন, জনগণও জানে। গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করবেন না।’’ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে (২০২৬) আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সবুজ প্যানেলের পরিচিতি অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘‘মানুষ বিচারের কাছে গিয়ে বিচার পায়, সম্মান পায়; কিন্তু আমি সেখানে অসম্মানিত হয়েছি, অবিচারের শিকার হয়েছি। আমরা সংসদে লড়াই করবো এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথেও আন্দোলন গড়ে তুলবো। এ ক্ষেত্রে বার কাউন্সিলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’’

অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘‘আমরা জুলাই শহীদের মাকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করিয়ে জুলাইকে সংসদে নিয়ে যাচ্ছি। আর একটি দল ফ্যাসিস্টদের প্রতিনিধিত্ব করেছে এমন ব্যক্তিকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করাচ্ছে।’’  গণভোট ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘‘তারা (বিএনপি) ৭০ শতাংশ জনগণের রায় গণভোটকে বাতিল করে টানেল ও বাঙ্কার নির্মাণের মাধ্যমে প্রমাণ করছেজনগণের আস্থার জায়গায় তারা যেতে পারবে না। দুই মাসে লক্ষ্য করেছি, সরকার পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে দলীয়করণ করছে এবং নব্য ফ্যাসিবাদকে স্থানান্তর করছে।’’ 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘‘জুলাইয়ের পরে এই বাংলাদেশ অতীতে কখনও কল্পনা করা যায়নি। যে স্বপ্ন নিয়ে জুলাই হয়েছিল, সেটি নিছক ক্ষমতার পালাবদল বা নির্বাচনের জন্য ছিল না; বাংলাদেশকে আমূল বদলে দেওয়ার জন্যই জুলাই হয়েছিল। আমরা এমন একটি বিচারব্যবস্থা চাই, যেখানে বিচারকরা এক্সিকিউটিভের কাছে মাথা নত করবে না।’’  তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা পরিবর্তিত বিচারব্যবস্থা দেখতে চাই, যেখানে একজন ম্যাজিস্ট্রেট খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও আদেশ দিতে দ্বিধাবোধ করবে না। এমন বিচারালয় না হলে আমাদের স্বাধীন বিচারব্যবস্থার স্বপ্ন ব্যর্থ হবে। আমরা ইঙ্গিতনির্ভর সুপ্রিম কোর্ট দেখতে চাই না। এমন বিচারাঙ্গন চাই, যেখানে সবচেয়ে তুচ্ছ মানুষটিও বিচার পাবে এবং সবচেয়ে ছোট বিচারকও প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আদেশ দিতে পারেন। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। সেই স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করবো।’’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘‘বিচারব্যবস্থা স্বাধীন না হলে এবং আইনজীবীদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য না হলে সমাজের মানুষের ভোগান্তির সীমা থাকে না। বিচার বিভাগীয় সচিবালয় ছিল, এই সরকার তাদের জুলাই সনদে কোনওনোট অব ডিসেন্টনা থাকলেও তা বাতিল করেছে। আমরা রিট করেছি; আজ তিনটি আপিল ফাইল হয়েছে। আমরা সচিবালয়ের স্থিতাবস্থা চেয়েছি। আমরা বিজয়ী না হলে আগামী পাঁচ বছরে ন্যায়বিচার বলে কিছু থাকবে না।’’  তিনি আরও বলেন, ‘‘এক্সিকিউটিভের লোক এসে যদি বিচারকে বদলে দেয়, আইন মন্ত্রণালয়ের করায়ত্ত থেকে বিচার বিভাগকে মুক্ত না করা যায়, তবে বিচার বিভাগকে স্বাধীন করা যাবে না। এ দেশে যদি জবাবদিহি তৈরি করতে হয়, তাহলে আমাদের মাথা তুলে দাঁড়াতে হবে; তবেই বাংলাদেশ একটি নতুন সূচনা দেখতে পারবে।’’

জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, ‘‘জনগণ জিম্মিদশা ও ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে মুক্তি চায়। তারা চায় তাদের ভোটটা রক্ষা হোক। জাতীয় নির্বাচনে অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা বা যেকোনো কারণে আমরা ভোট রক্ষা করতে পারিনি। উপনির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। কারচুপি হলে ভোট হবে না, কিন্তু ভোটকেন্দ্র ছাড়া যাবে না। আমরা প্রয়োজনে আপনাদের পাশে এসে দাঁড়াবো, কিন্তু ভোট বর্জন করা যাবে না।’’  ইয়ার্স ফোরামের সভাপতি মতিউর রহমান আকন বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির পর এই প্রথম ঢাকা বারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভূতপূর্ব খেলা হয়েছে। সরকার গঠনের পর তারা অগণতান্ত্রিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। ঢাকা বারের নির্বাচন কমিশন যেভাবে গঠন হওয়ার কথা, সেভাবে হয়নি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাবো।’’