ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমরা অনেক কথা বলি, কিন্তু বাস্তবায়ন করি না: বিডা চেয়ারম্যান

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০১:৫০:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৮ বার পড়া হয়েছে

এবার দেশে বিনিয়োগ বাড়াতেগিয়ার শিফটকরা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।  তিনি বলেছেন, আমরা অনেক প্ল্যান করি, অনেক কথা বলি, অনেক সুন্দর সুন্দর রিপোর্ট বের হয় এবং সেই রিপোর্টের সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করি। একমত পোষণ করার পর গিয়ে দেখা যায় যে, আমরা আসলে ওই রিপোর্টে যেই কথাগুলো বলা হয়েছে ওগুলো বাস্তবায়ন করি না। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ভবনে আঙ্কটাড ইনভেস্টমেন্ট পলিসি রিভিউ ইমপ্লেমেনশন রিপোর্ট ফর বাংলাদেশ শীর্ষক রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিডা চেয়ারম্যান।

আশিক চৌধুরী বলেন, আমাদের আসলে একটা গিয়ার শিফট করা দরকার। পৃথিবীর অন্যান্য দেশ, বিশেষত প্রতিযোগী রাষ্ট্র, তারা হয়তো আমাদের চেয়ে আরও দ্রুত কাজ করছে। সেই কারণেই আমরা কখনোই ওই বোর্ডটা ধরতে পারছি না। ওনারা আমাদের চেয়ে এগিয়ে আছে। তো আমাদের কাজের গতি বাড়াতে হবে, আমাদের এক্সিকিউশনের যেই বিষয়টা রয়ে গেছে যে, আমরা অনেক প্ল্যান করি, অনেক কথা বলি, অনেক সুন্দর সুন্দর রিপোর্ট বের হয় এবং সেই রিপোর্টের সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করি। একমত পোষণ করার পর গিয়ে দেখা যায় যে, আমরা আসলে ওই রিপোর্টে যেই কথাগুলো বলা হয়েছে ওগুলো বাস্তবায়ন করি না।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবের দিকে ইঙ্গিত করে এরপর তিনি বলেন, বিশ্ব বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেএটি আমরা সবাই দেখছি। আমরা বারবার স্থিতিশীলতার কথা বলেছি, আর বিনিয়োগ, উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির জন্য স্থিতিশীলতা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদানতা সরকারি হোক বা বেসরকারি, স্থানীয় হোক বা বিদেশি বিনিয়োগ, সব ক্ষেত্রেই স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা সম্ভবত দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে অস্থির একটি বিশ্ব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। আমরা বিশ্বের অন্যান্য সমস্যাগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন নই উল্লেখ করে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, এ কারণে আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি বর্তমান বিনিয়োগগুলোকে সুরক্ষিত রাখা, যথাযথভাবে যত্ন নেওয়া এবং একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে, বিশেষ করে ২০১৩ সালের পর বাংলাদেশ অনেক অগ্রগতি করলেও বিনিয়োগের সূচকে সেই উন্নতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) ও মোট বিনিয়োগের হার দীর্ঘদিন ধরে প্রায় একই অবস্থানে রয়েছে, যা উদ্বেগজনক। আশিক চৌধুরী উদাহরণ টেনে বলেন, নেদারল্যান্ডসের ১৯৭৪৭৮ সালের ফুটবল দল দারুণ খেললেও বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। বাংলাদেশের বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতিও অনেকটা তেমন; কাজ হচ্ছে, কিন্তু প্রত্যাশিত ফল আসছে না। আমরা অনেক পরিকল্পনা করি, সুন্দর রিপোর্ট তৈরি করি এবং সেগুলোর সঙ্গে একমতও হই। কিন্তু বাস্তবায়নের জায়গায় ঘাটতি রয়ে যায়। এই চক্র ভাঙতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য এখন সংস্কারের দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশের সময় এসেছে। যেখানে লক্ষ্য হবে উদ্দেশ্যনির্ভর পরিকল্পনা, শক্তিশালী বাস্তবায়ন এবং সমন্বিত উদ্যোগ। গত পাঁচ বছরে যে অগ্রগতি হয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন বছরে একই মাত্রার পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করার আহ্বান জানান বিডা চেয়ারম্যান। তার মতে, এভাবে দ্রুত এগোতে পারলেই বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের সব বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা জারি

আমরা অনেক কথা বলি, কিন্তু বাস্তবায়ন করি না: বিডা চেয়ারম্যান

আপডেট সময় ০১:৫০:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

এবার দেশে বিনিয়োগ বাড়াতেগিয়ার শিফটকরা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।  তিনি বলেছেন, আমরা অনেক প্ল্যান করি, অনেক কথা বলি, অনেক সুন্দর সুন্দর রিপোর্ট বের হয় এবং সেই রিপোর্টের সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করি। একমত পোষণ করার পর গিয়ে দেখা যায় যে, আমরা আসলে ওই রিপোর্টে যেই কথাগুলো বলা হয়েছে ওগুলো বাস্তবায়ন করি না। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ভবনে আঙ্কটাড ইনভেস্টমেন্ট পলিসি রিভিউ ইমপ্লেমেনশন রিপোর্ট ফর বাংলাদেশ শীর্ষক রিপোর্ট প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিডা চেয়ারম্যান।

আশিক চৌধুরী বলেন, আমাদের আসলে একটা গিয়ার শিফট করা দরকার। পৃথিবীর অন্যান্য দেশ, বিশেষত প্রতিযোগী রাষ্ট্র, তারা হয়তো আমাদের চেয়ে আরও দ্রুত কাজ করছে। সেই কারণেই আমরা কখনোই ওই বোর্ডটা ধরতে পারছি না। ওনারা আমাদের চেয়ে এগিয়ে আছে। তো আমাদের কাজের গতি বাড়াতে হবে, আমাদের এক্সিকিউশনের যেই বিষয়টা রয়ে গেছে যে, আমরা অনেক প্ল্যান করি, অনেক কথা বলি, অনেক সুন্দর সুন্দর রিপোর্ট বের হয় এবং সেই রিপোর্টের সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করি। একমত পোষণ করার পর গিয়ে দেখা যায় যে, আমরা আসলে ওই রিপোর্টে যেই কথাগুলো বলা হয়েছে ওগুলো বাস্তবায়ন করি না।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবের দিকে ইঙ্গিত করে এরপর তিনি বলেন, বিশ্ব বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেএটি আমরা সবাই দেখছি। আমরা বারবার স্থিতিশীলতার কথা বলেছি, আর বিনিয়োগ, উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির জন্য স্থিতিশীলতা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদানতা সরকারি হোক বা বেসরকারি, স্থানীয় হোক বা বিদেশি বিনিয়োগ, সব ক্ষেত্রেই স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা সম্ভবত দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে অস্থির একটি বিশ্ব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। আমরা বিশ্বের অন্যান্য সমস্যাগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন নই উল্লেখ করে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, এ কারণে আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি বর্তমান বিনিয়োগগুলোকে সুরক্ষিত রাখা, যথাযথভাবে যত্ন নেওয়া এবং একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে, বিশেষ করে ২০১৩ সালের পর বাংলাদেশ অনেক অগ্রগতি করলেও বিনিয়োগের সূচকে সেই উন্নতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) ও মোট বিনিয়োগের হার দীর্ঘদিন ধরে প্রায় একই অবস্থানে রয়েছে, যা উদ্বেগজনক। আশিক চৌধুরী উদাহরণ টেনে বলেন, নেদারল্যান্ডসের ১৯৭৪৭৮ সালের ফুটবল দল দারুণ খেললেও বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। বাংলাদেশের বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতিও অনেকটা তেমন; কাজ হচ্ছে, কিন্তু প্রত্যাশিত ফল আসছে না। আমরা অনেক পরিকল্পনা করি, সুন্দর রিপোর্ট তৈরি করি এবং সেগুলোর সঙ্গে একমতও হই। কিন্তু বাস্তবায়নের জায়গায় ঘাটতি রয়ে যায়। এই চক্র ভাঙতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য এখন সংস্কারের দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশের সময় এসেছে। যেখানে লক্ষ্য হবে উদ্দেশ্যনির্ভর পরিকল্পনা, শক্তিশালী বাস্তবায়ন এবং সমন্বিত উদ্যোগ। গত পাঁচ বছরে যে অগ্রগতি হয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন বছরে একই মাত্রার পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করার আহ্বান জানান বিডা চেয়ারম্যান। তার মতে, এভাবে দ্রুত এগোতে পারলেই বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হবে।