ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুলছাত্রী অদিতাকে নৃশংসভাবে হত্যা: সেই গৃহশিক্ষকের ফাঁসির আদেশ

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০৩:১৬:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৮ বার পড়া হয়েছে

এবার নোয়াখালী জেলা শহরের লক্ষীনারায়নপুরে  বহুল আলোচিত নোয়াখালী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা (১৪) হত্যা মামলায় সাবেক শিক্ষককে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় দিয়েছেন আদালত।   মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত সাবেক শিক্ষকের নাম আব্দুর রহিম রনিকে (৩৩) তিনি নোয়াখালী পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মী নারায়ণপুরে গ্রামের লাতু কাউন্সিলরের বাড়ির খলিল মিয়ার ছেলে। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১টার দিকে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালএর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এ রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সেলিম শাহী বলেন, ছাত্রী হত্যা মামলায় আদালত আসামি সাবেক শিক্ষককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন। একই সাথে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার জাহান মঞ্জিল থেকে অদিতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলা, হাত ও পায়ের রগ কাটা ছিল, যা পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার দিন রাতে অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে রনির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। অদিতা নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেন সরকারের মেয়ে। তার মা রাজিয়া সুলতানা বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অদিতা রনির কাছে প্রাইভেট পড়তো।  কিছুদিন পড়ার পর অদিতা তার মাকে জানায় রনির কাছে পড়বে না। পড়া বন্ধ করে অন্যত্র কোচিং শুরু করলে ক্ষুব্ধ হন রনি। ঘটনার দিন অদিতার মা বাসায় না থাকার সুযোগে বাসায় প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন রনি। এতে ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি গোপন করতে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করেন এবং ঘটনাটিকে ভিন্ন রূপ দিতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় রনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঁচড়ের দাগ এবং তার পোশাকে রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী এড. মোল্লা হাবিবুর রসুল মামুন বলেন, রায়ে তারা সন্তুষ্ট। এ রায় যারা অপরাধ করে বেড়ায় তাদের জন্য এক ধরণের বার্তা বহন করে।  আসামী পক্ষের আইনজীবী এড. জসিম উদ্দিন বলেন, রায়ে তারা সন্তুষ্ট নয়। উচ্চ আদালতে তারা আপিল করবেন। উল্লেখ্য, এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালীসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিচার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিটিশরা না থাকলে আমেরিকানরা এখন ফরাসি ভাষায় কথা বলত: ট্রাম্পকে খোঁচা রাজা তৃতীয় চার্লসের

স্কুলছাত্রী অদিতাকে নৃশংসভাবে হত্যা: সেই গৃহশিক্ষকের ফাঁসির আদেশ

আপডেট সময় ০৩:১৬:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

এবার নোয়াখালী জেলা শহরের লক্ষীনারায়নপুরে  বহুল আলোচিত নোয়াখালী সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী তাসনিয়া হোসেন অদিতা (১৪) হত্যা মামলায় সাবেক শিক্ষককে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় দিয়েছেন আদালত।   মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত সাবেক শিক্ষকের নাম আব্দুর রহিম রনিকে (৩৩) তিনি নোয়াখালী পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মী নারায়ণপুরে গ্রামের লাতু কাউন্সিলরের বাড়ির খলিল মিয়ার ছেলে। আজ বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১টার দিকে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালএর বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম শিকদার এ রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সেলিম শাহী বলেন, ছাত্রী হত্যা মামলায় আদালত আসামি সাবেক শিক্ষককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন। একই সাথে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার জাহান মঞ্জিল থেকে অদিতার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলা, হাত ও পায়ের রগ কাটা ছিল, যা পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার দিন রাতে অদিতার সাবেক গৃহশিক্ষক আব্দুর রহিম রনিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে রনির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা, বালিশসহ অন্যান্য আলামত জব্দ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। অদিতা নোয়াখালী পৌরসভার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মৃত রিয়াজ হোসেন সরকারের মেয়ে। তার মা রাজিয়া সুলতানা বেগমগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অদিতা রনির কাছে প্রাইভেট পড়তো।  কিছুদিন পড়ার পর অদিতা তার মাকে জানায় রনির কাছে পড়বে না। পড়া বন্ধ করে অন্যত্র কোচিং শুরু করলে ক্ষুব্ধ হন রনি। ঘটনার দিন অদিতার মা বাসায় না থাকার সুযোগে বাসায় প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন রনি। এতে ব্যর্থ হয়ে বিষয়টি গোপন করতে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করেন এবং ঘটনাটিকে ভিন্ন রূপ দিতে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় রনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঁচড়ের দাগ এবং তার পোশাকে রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছোরা ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়। মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে বাদীপক্ষের ৪১ জন এবং আসামিপক্ষের ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী এড. মোল্লা হাবিবুর রসুল মামুন বলেন, রায়ে তারা সন্তুষ্ট। এ রায় যারা অপরাধ করে বেড়ায় তাদের জন্য এক ধরণের বার্তা বহন করে।  আসামী পক্ষের আইনজীবী এড. জসিম উদ্দিন বলেন, রায়ে তারা সন্তুষ্ট নয়। উচ্চ আদালতে তারা আপিল করবেন। উল্লেখ্য, এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর নোয়াখালীসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিচার দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়।