ঢাকা ০৫:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নতুন বিমানঘাঁটির ঘোষণা

  • ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট সময় ০২:১২:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ৫০৭ বার পড়া হয়েছে

এবার বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে এখানে বিমানবাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি স্থাপন এবং পাইলট তৈরির জন্য একটি ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে বগুড়া এয়ারফিল্ড ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও বিমানবাহিনী প্রধান এসব তথ্য জানান। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী বগুড়ায় উত্তরবঙ্গের প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক কার্গো সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে এই অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের মালামাল সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করা যায়। এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, আন্তর্জাতিক মানের এই বিমানবন্দরের জন্য ১০,৫০০ ফুটের একটি রানওয়ে তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার ফিজিবিলিটি স্টাডি দ্রুত শুরু হবে। বিমানবন্দর ও ঘাঁটি এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের বাজারমূল্যের তিনগুণ অর্থ প্রদান করা হবে।

বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘বগুড়ার স্ট্র্যাটেজিক ইম্পর্টেন্স বা কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। এখানে একটি অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটি স্থাপনের প্রাথমিক অনুমোদন সরকার দিয়েছে।তিনি আরো বলেন, ‘সরকার নতুন জঙ্গি বিমান কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং সেই আধুনিক জঙ্গি বিমানগুলো বগুড়া ঘাঁটিতেই মোতায়েন করা হবে। এটি জাতীয় আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতা আরো সুদৃঢ় করবে।’

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, দেশে দক্ষ বৈমানিকের অভাব দূর করতে বগুড়ায় একটি উন্নত ফ্লাইং একাডেমি পরিচালনা করা হবে। এখানে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের পাইলট তৈরি করা হবে, যা সাধারণ পরিবারের শিক্ষিত তরুণতরুণীদের জন্য কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ সৃষ্টি করবে। প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আমরা কোনো দীর্ঘসূত্রতায় যাব না, দ্রুততম সময়ে বাণিজ্যিক বিমান উড্ডয়ন নিশ্চিত করতে বেবিচককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। স্থানীয় উন্নয়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।

পরিদর্শনকালে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এবং সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বগুড়া ছাড়াও উত্তর ও উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর অর্থনৈতিক চিত্রে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

১৬ বছরের আগে ফেসবুক-টিকটক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ

বগুড়ায় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নতুন বিমানঘাঁটির ঘোষণা

আপডেট সময় ০২:১২:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

এবার বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে এখানে বিমানবাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি স্থাপন এবং পাইলট তৈরির জন্য একটি ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে বগুড়া এয়ারফিল্ড ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও বিমানবাহিনী প্রধান এসব তথ্য জানান। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী বগুড়ায় উত্তরবঙ্গের প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গড়ে তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক কার্গো সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে এই অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের মালামাল সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করা যায়। এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, আন্তর্জাতিক মানের এই বিমানবন্দরের জন্য ১০,৫০০ ফুটের একটি রানওয়ে তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার ফিজিবিলিটি স্টাডি দ্রুত শুরু হবে। বিমানবন্দর ও ঘাঁটি এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের বাজারমূল্যের তিনগুণ অর্থ প্রদান করা হবে।

বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘বগুড়ার স্ট্র্যাটেজিক ইম্পর্টেন্স বা কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। এখানে একটি অত্যাধুনিক বিমানঘাঁটি স্থাপনের প্রাথমিক অনুমোদন সরকার দিয়েছে।তিনি আরো বলেন, ‘সরকার নতুন জঙ্গি বিমান কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং সেই আধুনিক জঙ্গি বিমানগুলো বগুড়া ঘাঁটিতেই মোতায়েন করা হবে। এটি জাতীয় আকাশসীমা সুরক্ষায় সামরিক সক্ষমতা আরো সুদৃঢ় করবে।’

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, দেশে দক্ষ বৈমানিকের অভাব দূর করতে বগুড়ায় একটি উন্নত ফ্লাইং একাডেমি পরিচালনা করা হবে। এখানে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের পাইলট তৈরি করা হবে, যা সাধারণ পরিবারের শিক্ষিত তরুণতরুণীদের জন্য কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ সৃষ্টি করবে। প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আমরা কোনো দীর্ঘসূত্রতায় যাব না, দ্রুততম সময়ে বাণিজ্যিক বিমান উড্ডয়ন নিশ্চিত করতে বেবিচককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। স্থানীয় উন্নয়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।

পরিদর্শনকালে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এবং সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বগুড়া ছাড়াও উত্তর ও উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর অর্থনৈতিক চিত্রে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।