প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। সিপিডির নাগরিক প্ল্যাটফর্ম এ সংলাপের আয়োজন করে।
শিক্ষকদের দক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা বলছেন প্রশিক্ষণহীন শিক্ষকরা ক্লাসরুমে যাবেন না—আমরা ইতোমধ্যে সেই পদক্ষেপ নিয়েছি। এই সিদ্ধান্তের কারণে সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে মিছিল করেছেন। কিন্তু আমরা আমাদের অবস্থানে অনড়। তারা প্রশিক্ষণ শেষ করে আগামী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন।
শিক্ষা খাতের বর্তমান অবস্থাকে ‘ভঙ্গুর’ উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, গত কয়েক বছরে এ খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকার এখন তা পুনর্গঠনের কাজ করছে। বেসরকারি স্কুলগুলো তদারকির জন্য একটি নিয়ন্ত্রক বোর্ড (রেগুলেটরি বোর্ড) গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ১৪ মে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দেশের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের জরুরি সংস্কার প্রয়োজন। কিছু ভবন এতটাই জরাজীর্ণ যে সেগুলো নতুন করে নির্মাণ করা ছাড়া বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, স্কুলের অবকাঠামো বলতে শুধু ভবন বোঝায় না। আমরা ভবনের নকশার সঙ্গে শিক্ষাদান পদ্ধতির সমন্বয় করতে চাই। জাতীয় শিক্ষাক্রম প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার একটি ‘সমমানের শিক্ষাক্রম’ প্রণয়নের চেষ্টা করছে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য একটি টেকসই কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে, যা আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে। এ শিক্ষাক্রম প্রণয়নে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বয় থাকবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া দেশের ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।






















